অনলাইন ডেস্ক : বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম দুই বছরেরও বেশি সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। কাতারের জ্বালানি মন্ত্রী সতর্ক করে বলেছেন, ইরান যুদ্ধ শিগগিরই বন্ধ না হলে উপসাগরীয় অঞ্চলের সব তেল ও গ্যাস রপ্তানিকারক দেশ কয়েক দিনের মধ্যেই উৎপাদন বন্ধ করতে বাধ্য হতে পারে।
কাতারের জ্বালানি মন্ত্রী সাদ আল-কাবি ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসকে জানান, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত বিশ্ব অর্থনীতিকে বড় ধরনের ধাক্কা দিতে পারে। তার সে মন্তব্যের পরই শুক্রবার (৬ মার্চ) ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ৯ শতাংশের বেশি বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৯৩ ডলারের উপরে পৌঁছায়, যা ২০২৩ সালের পর সর্বোচ্চ।
তেলের দাম বাড়লে এর প্রভাব কেবল গাড়িতে জ্বালানি ভরার খরচেই সীমাবদ্ধ থাকে না। এটি হিটিং, খাদ্যপণ্য এবং আমদানিকৃত পণ্যের দামও বাড়িয়ে দিতে পারে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, তেল ও গ্যাসের দাম যদি দীর্ঘ সময় উচ্চ পর্যায়ে থাকে, তবে যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রের মতো বড় অর্থনীতিতে আবারও মুদ্রাস্ফীতি বাড়তে পারে।
কাবি বলেন, ইরানকে ঘিরে সংঘাত যদি আগামী কয়েক সপ্তাহ ধরে চলতে থাকে, তাহলে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১৫০ ডলার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।
ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসকে তিনি বলেন, ‘এই যুদ্ধ যদি কয়েক সপ্তাহ ধরে চলে, তাহলে বিশ্বের জিডিপি প্রবৃদ্ধি প্রভাবিত হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘সবাইকে বেশি দামে জ্বালানি কিনতে হবে। কিছু পণ্যের ঘাটতি দেখা দেবে এবং কারখানাগুলো সরবরাহ দিতে না পারায় এক ধরনের চেইন রিঅ্যাকশন তৈরি হবে।’
রাইস্ট্যাড এনার্জির বিশ্লেষক জর্জে লিওন বিবিসিকে বলেন, ইরান যুদ্ধের পরিস্থিতি বিশ্ব অর্থনীতির জন্য ‘বড় ঝুঁকি’ তৈরি করছে। তার ভাষায়, ‘আমরা এখন বোঝার চেষ্টা করছি এটি কি স্বল্পমেয়াদি জ্বালানি সংকট, নাকি বড় ধরনের অর্থনৈতিক ও জ্বালানি সংকটের শুরু।’
তিনি আরও বলেন, ‘যদি এটি (ইরান যুদ্ধ) দুই সপ্তাহের বেশি স্থায়ী হয়, তাহলে জ্বালানি ব্যবস্থা এবং বৈশ্বিক সামষ্টিক অর্থনীতিতে বড় প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি।’






