Home আন্তর্জাতিক খারগ দ্বীপে মার্কিন হামলা: তেলের বাজার ‘নিয়ন্ত্রণের’ বাইরে যাওয়ার আশঙ্কা

খারগ দ্বীপে মার্কিন হামলা: তেলের বাজার ‘নিয়ন্ত্রণের’ বাইরে যাওয়ার আশঙ্কা

অনলাইন ডেস্ক : ইরানের গুরুত্বপূর্ণ অপরিশোধিত তেল রপ্তানি টার্মিনাল খারগ দ্বীপে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এই হামলার ফলে বৈশ্বিক তেলের বাজার ‘নিয়ন্ত্রণের বাইরে’ চলে যেতে পারে বলে সংবাদমাদ্যম সিএনএনকে জানিয়েছেন একজন অবসরপ্রাপ্ত মার্কিন সেনা কর্মকর্তা।

ইরান উপকূলে হরমুজ প্রণালির কাছে অবস্থিত খারগ দ্বীপ। তেলের অভয়ারণ্যখ্যাত ভূখণ্ডটি ইসলামি প্রজাতন্ত্রের জন্য যতখানি তাৎপর্য বহন করে তার চেয়ে বেশি জরুরি বিশ্ব তেল বাজারের জন্য। ইরানের মোট অপরিশোধিত তেলের প্রায় ৯০-৯৫ শতাংশ এই দ্বীপের মাধ্যমে বিশ্ববাজারে রপ্তানি হয়।

দেশটির অর্থনীতির ‘হৃৎপিণ্ড’ বা ‘লাইফলাইন’ হিসেবে পরিচিত এ ভূখণ্ডেই রয়েছে ইসলামি প্রজাতন্ত্রের প্রধান বন্দর ও সবচেয়ে বড় নৌপথ যেটি মূলত তেল ও গ্যাস পরিবহণের জন্য ব্যবহার হয়।

যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর সাবেক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মার্ক কিমিট বলেন, ‘এর (মার্কিন হামলার) অর্থ হলো আমরা এই যুদ্ধে ঝুঁকির মাত্রা অনেক বাড়িয়ে দিয়েছি। বিষয়টি এখন আর শুধু ‘‘সামরিক বাহিনী বা সরকারকে হটিয়ে দেওয়ার’’ মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; বরং আমরা এখন দেশটির (ইরান) অর্থনৈতিক প্রাণভোমরাকে লক্ষ্যবস্তু করার চেষ্টা করছি।’

কিমিট বলেন, ইরান যাতে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলের অনুমতি দেয়, সেটি নিশ্চিত করতে দ্বীপটিকে ‘জিম্মি’ করে রেখেছে যুক্তরাষ্ট্র। এ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ইতিমধ্যে তেলের দাম আকাশচুম্বী হয়েছে। তবে ওই তেল অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করা হলে কিমিট সতর্ক করে বলেন, ‘এটা স্পষ্ট যে ইরান তখন মধ্যপ্রাচ্যের বাকি অবকাঠামোগুলোর ওপর হামলা চালাবে। আর সেই পর্যায়ে তেলের দাম পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাবে।’

ইরান উপকূল থেকে পাঁচ মাইল দূরে অবস্থিত এই খারগ দ্বীপ দিয়েই দেশটির প্রায় ৯০ শতাংশ অপরিশোধিত তেল রপ্তানি করা হয়। ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের প্রথম দুই সপ্তাহে দ্বীপটি অক্ষত ছিল বলে মনে করা হচ্ছিল। গতকাল শুক্রবার রাতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র খারগ দ্বীপের ‘প্রতিটি সামরিক লক্ষ্যবস্তু পুরোপুরি ধ্বংস’ করেছে। ইরান যদি হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলে বাধা দেওয়া অব্যাহত রাখে, তবে দ্বীপটির তেল অবকাঠামোতেও হামলার হুমকি দেন তিনি।

এর আগে ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাকের কলিবাফ হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন, পারস্য উপসাগরে ইরানের দ্বীপগুলোর ওপর কোনো মার্কিন আগ্রাসন চালানো হলে দেশটিও ‘সব ধরনের সংযম’ পরিহার করবে।

সূত্র: সিএনএন

Exit mobile version