অনলাইন ডেস্ক : চীনের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে ভাইরাসজনিত রোগ দেখা দিয়েছে। এতে গবাদিপশুর পা ও মুখের রোগের প্রাদুর্ভাব বেড়েছে। রোগটি ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে সীমান্তে কড়াকড়ি আরোপ করেছে চীন। একই সঙ্গে জরুরিভিত্তিতে টিকা কার্যক্রম শুরু এবং গবাদিপশু নিধন অভিযানও চালাচ্ছে। কর্মকর্তাদের দাবি, রোগটি বিদেশ থেকে দেশে প্রবেশ করেছে।
চীনের কৃষি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গত সপ্তাহে গানসু প্রদেশ এবং শিনজিয়াং উইঘুর স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলে মোট ৬ হাজার ২২৯টি গবাদিপশুর মধ্যে সংক্রমণ শনাক্ত হয়। এরপর আক্রান্ত পশু নিধন এবং সংক্রমিত এলাকা জীবাণুমুক্ত করার কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, প্রথমবারের মতো এসএটি-১ সেরোটাইপ ধরন চীনে শনাক্ত হয়েছে। তারা আরও বলেন, দেশটিতে প্রচলিত ‘ও’ এবং ‘এ’ সেরোটাইপের জন্য ব্যবহৃত টিকা এই নতুন ধরনের বিরুদ্ধে কার্যকর নয়। ২০২৫ সাল থেকে এসএটি-১ আফ্রিকা থেকে মধ্যপ্রাচ্য, পশ্চিম এশিয়া এবং দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে।
গত সোমবার (৩০ মার্চ) কর্তৃপক্ষ জানায়, এই প্রাদুর্ভাব উত্তর-পশ্চিম সীমান্ত দিয়ে দেশে প্রবেশ করেছে, যা কাজাখস্তান, মঙ্গোলিয়া, রাশিয়া এবং অন্যান্য দেশের সঙ্গে সংযুক্ত। সরকারি নির্দেশনায় বলা হয়েছে, শিনজিয়াং ও গানসুসহ সীমান্তবর্তী প্রদেশগুলোকে টহল বাড়াতে এবং চোরাচালান বা অবৈধ পরিবহনের মাধ্যমে রোগ প্রবেশ রোধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।
শাংহাইভিত্তিক জেসি ইন্টেলিজেন্স কোম্পানির বিশ্লেষক রোজা ওয়াং বলেন, ‘এই প্রাদুর্ভাব একটি বৃহৎ অঞ্চলের জন্য হুমকি সৃষ্টি করছে। প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম একেবারে সহজ নয়।’
চীন এই সপ্তাহে জানিয়েছে, এই ভাইরাসটি অত্যন্ত দ্রুত ছড়ায়। রোগটিতে অল্পবয়সী প্রাণীদের ক্ষেত্রে মৃত্যুহার ৫০ শতাংশের বেশি।
বিশ্লেষকদের মতে, এসএটি-১ মূলত সরাসরি সংস্পর্শের মাধ্যমে ছড়ালেও এটি বাতাসের মাধ্যমেও সংক্রমিত হতে পারে। চীনের ন্যাশনাল ভেটেরিনারি ড্রাগ ডাটাবেস অনুযায়ী, ঝংনং ওয়েইতে বায়োটেকনোলজি কোম্পানি লিমিটেডের তৈরি এসএটি-১-এর দুটি টিকা বুধবার (১ এপ্রিল) জরুরিভিত্তিতে অনুমোদন পেয়েছে। শিল্প সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, এসব টিকা এক মাসের মধ্যেই বাজারে আসতে পারে।
সূত্র: রয়টার্স
