অনলাইন ডেস্ক : গ্যাস, পেট্রোলিয়াম ও বিদ্যুতের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির কারণে ইউরোপের বেশিরভাগ দেশেই মূল্যস্ফীতি হু হু করে বাড়ছে। গত জুলাইয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ২৭টি দেশে মূল্যস্ফীতির গড় হার ছিল ৯ দশমিক ৮ শতাংশ। যা ১৯৯৭ সালের পর সর্বোচ্চ। গত সপ্তাহে প্রকাশ করা এক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, ইউরো ব্যবহার করে এমন ১৯টি সদস্য রাষ্ট্রে মূল্যস্ফীতি গড়ে ৮ দশমিক ৯ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। ইউরোপে সবচেয়ে বেশি মূল্যস্ফীতি হয়েছে এস্তোনিয়ায় ২৩ দশমিক ২ শতাংশ। এরপরই রয়েছে- লাটভিয়ায় ২১ দশমিক ৩ এবং লিথুয়ানিয়ায় ২০ দশমিক ৯ শতাংশ।

ইউরোপের শীর্ষ অর্থনীতির দেশ জার্মানিতে জুলাইতে মূল্যস্ফীতি ৮ দশমিক ৫ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। গত চার দশকে দেশটিতে এতো মূল্যস্ফীতি দেখা যায়নি। জার্মান সংবাদমাধ্যম ডয়চে ভেলের এক খবরে বলা হয়েছে, মূল্যবৃদ্ধি মোকাবিলা করতে জার্মান সরকারের তিন শরিক দলের মন্ত্রীরা বৈঠকে বসছেন। দলীয় রাজনীতির সংকীর্ণ স্বার্থকে পাশ কাটিয়ে দেশের স্বার্থে রক্ষায় পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য তাদের উপর চাপ বাড়ছে।

জার্মানির বিশেষজ্ঞের মতে, লাগাতার মূল্যস্ফীতির কারণে জার্মানিতে সামাজিক অশান্তির আশঙ্কা বাড়ছে। এ অবস্থায় বিশেষ করে অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল শ্রেণীর জন্য যথেষ্ট সরকারি সহায়তার ব্যবস্থা না করলে অনেক মানুষ কার্যত পথে বসতে পারে। করোনা সংকটের সময় থেকে সরকার নানা আর্থিক সহায়তা ও ভর্তুকি দিয়ে এসেছে। ইউক্রেন সংকটের ধাক্কা সামলাতেও বর্তমান সরকার কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে। কিন্তু গ্যাসসহ জ্বালানি তথা বিদ্যুতের মূল্য অস্বাভাবিক হারে বেড়ে চলায় বিশেষ করে আসন্ন শীতের মাসগুলোতে জার্মানির মানুষ প্রবল চাপের মুখে পড়তে চলেছে।

ইউরোপের আরেক প্রভাবশালী দেশ ফ্রান্সে মূল্যস্ফীতি জুলাইয়ে ৬ দশমিক ১ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। অন্য দেশের তুলনায় মূল্যস্ফীতি একটু কম। কিন্তু এরপরও দেশটিতে ৩৭ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ মূল্যস্ফীতি এখন। জ্বালানি সংকট কাটাতে গ্যাস আমদানির জন্য ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এখন আলজেরিয়ার সঙ্গে আলোচনা করছেন।

ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে বেরিয়ে যাওয়া ব্রিটেনে মূল্যস্ফীতি গত জুলাইয়ে ১০ দশমিক ১ শতাংশে দাাঁড়িয়েছে। যা গত ৪০ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। সম্প্রতি দেশটিতে বিদ্যুৎ ও গ্যাসের দাম ৮০ শতাংশ বাড়ানোর ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। আগামী অক্টোবর থেকে এটি কার্যকর হবে। যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাংক সিটির একজন অর্থনীতিবিদ পূর্বাভাস দিয়েছেন যে, জ্বালানির দাম বৃদ্ধির কারণে ২০২৩ সালের শুরুর দিকে ব্রিটেনে মূল্যস্ফীতি ১৮ শতাংশে গিয়ে দাঁড়াতে পারে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, তেল ও গ্যাসের দাম বৃদ্ধিই মূল্যস্ফীতির অন্যতম কারণ। ইউরোপের অনেক দেশ তেল ও গ্যাসের জন্য রাশিয়ার ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর পশ্চিমাদের নিষেধাজ্ঞার মুখে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় গ্যাস কোম্পানি গ্যাজপ্রম ইউরোপে সরবরাহ উল্লেখযোগ্য হারে কমিয়েছে। তেল রফতানিও প্রায় বন্ধ করে দিয়েছে। ফলে সেসব দেশের জ্বালানি খাতে ব্যয় বেড়েই চলেছে। আর তারই প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে- সার্বিক অর্থনীতিতে।