অনলাইন ডেস্ক : হঠাৎ করেই নীতি পরিবর্তন করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এবার, দুই শতাধিক খাদ্যপণ্যের ওপর থেকে শুল্ক প্রত্যাহার করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। এর মধ্যে কফি, গরুর মাংস, কলা ও কমলার রসের মতো মার্কিনিদের দৈনন্দিন ভোক্তা পণ্যও রয়েছে।

রয়টার্সের প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, খাদ্যদ্রব্যের মূল্য বৃদ্ধি নিয়ে ভোক্তাদের উদ্বেগ বাড়তে থাকায় হোয়াইট হাউজ এ সিদ্ধান্ত জানায়। এর আগে বৃহস্পতিবার মধ্যরাত থেকে শুল্ক প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত কার্যকর হতে যাচ্ছে। এটি ট্রাম্পের অবস্থান থেকে বড় ধরনের নীতিগত পরিবর্তন। কেননা এতদিন তিনি দাবি করে আসছিলেন যে, তার ব্যাপক শুল্ক আরোপের সঙ্গে মূল্যস্ফীতির কোনও সম্পর্ক নেই।

ট্রাম্প বলেন, তার শুল্ক ‘কিছু ক্ষেত্রে’ দাম বৃদ্ধি করতে পারে। তবে, যুক্তরাষ্ট্রে সামগ্রিকভাবে ‘প্রায় কোনো মূল্যস্ফীতি নেই’ বলে দাবি করেন তিনি। তিনি জানান, নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মার্কিনিদের জন্য দুহাজার ডলারের একটি পেমেন্ট দেওয়া হবে, যা আগামী বছর শুল্ক রাজস্ব থেকে অর্থায়ন করা হবে।

এদিকে, আর্জেন্টিনা, ইকুয়েডর, গুয়াতেমালা ও এল সালভাদর থেকে কিছু খাদ্য ও অন্যান্য আমদানির শুল্ক উঠিয়ে নিতে প্রাথমিক বাণিজ্য চুক্তির ঘোষণা দেয় ট্রাম্প প্রশাসন। বছর শেষের আগেই আরও চুক্তির লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্র কাজ করছে বলে কর্মকর্তারা জানান।

শুক্রবার (১৪ নভেম্বর) প্রকাশিত তালিকায় দৈনন্দিন চাহিদার বহু পণ্য রয়েছে যার অনেকগুলোরই দাম চলতি বছরে দুই অঙ্কে বেড়েছে। কমলা, আসাই বেরি, পাপরিকা, কোকো, খাদ্য উৎপাদনে ব্যবহৃত রাসায়নিক পদার্থ, সার এবং এমনকি ধর্মীয় উপাসনায় ব্যবহৃত কমিউনিয়ন ওয়েফারও এতে অন্তর্ভুক্ত।

হোয়াইট হাউজ এক বিবৃতিতে জানায়, দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সম্পর্ককে আরও ‘পারস্পরিক সুবিধাজনক’ অবস্থানে আনার ক্ষেত্রে প্রেসিডেন্টের অগ্রগতির ধারাবাহিকতায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে উৎপাদিত বা প্রক্রিয়াজাত নয় এমন কিছু খাদ্যপণ্যকে শুল্কমুক্ত করা যৌক্তিক বিবেচনায় এসেছে বলে বলা হয়।

ট্রাম্প বলেন, আমার মনে হয় প্রয়োজন হবে না। আমরা আসলে সামান্য রোলব্যাক করেছি। কফির দাম একটু বেশি ছিল; খুব শিগগিরই তা কমে যাবে।