অনলাইন ডেস্ক : যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক অঙ্গনে আবারও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছেন দেশটির বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বয়স ও মানসিক সক্ষমতা নিয়ে তাঁর বিরুদ্ধে নতুন করে প্রশ্ন তুলছেন অনেক মার্কিনি। ২০২৪ সালের নির্বাচনে জয়ী হয়ে দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব নেওয়ার এক বছরের মাথায় এসে বিভিন্ন জনমত জরিপে দেখা যাচ্ছে, কেবল নীতিগত সিদ্ধান্ত নয়—তাঁর ব্যক্তিগত মানসিক তীক্ষ্ণতাও এখন জনআলোচনার বড় বিষয়। বিশেষ করে সাম্প্রতিক দীর্ঘতম ‘স্টেট অব দ্য ইউনিয়ন’ ভাষণ এবং জনসম্মুখে কিছু অসংলগ্ন মন্তব্য ও আচরণের পর উদ্বেগ আরও জোরালো হয়েছে। এমনকি তাঁর নিজ দল রিপাবলিকান পার্টির সমর্থকদের মধ্যেও বয়সজনিত প্রভাব নিয়ে ফিসফাস শুরু হয়েছে।
সাম্প্রতিক একাধিক জরিপে এই উদ্বেগের স্পষ্ট প্রতিফলন পাওয়া গেছে। রয়টার্স ও ইপসোস পরিচালিত যৌথ জরিপে অংশ নেওয়া ৬১ শতাংশ মার্কিনি মনে করেন, বয়সের কারণে ট্রাম্প আগের তুলনায় বেশি খামখেয়ালি আচরণ করছেন। বিস্ময়কর বিষয় হলো, প্রায় ৩০ শতাংশ রিপাবলিকান ভোটারও এই মূল্যায়নের সঙ্গে একমত হয়েছেন। অর্থাৎ সমালোচনা কেবল বিরোধী শিবিরেই সীমাবদ্ধ নেই; সমর্থক বলয়ের ভেতরেও সংশয়ের ছায়া দেখা যাচ্ছে।
উল্লেখ্য, সেপ্টেম্বরের জরিপের সঙ্গে তুলনা করলে পরিবর্তনটি আরও স্পষ্ট হয়। সে সময় ৫৪ শতাংশ মানুষ মনে করতেন, ট্রাম্প জটিল চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় মানসিকভাবে যথেষ্ট তীক্ষ্ণ। বর্তমানে সেই হার নেমে এসেছে ৪৫ শতাংশে। একই ধরনের প্রবণতা উঠে এসেছে সিএনএন ও ওয়াশিংটন পোস্ট-এর জরিপেও। ওয়াশিংটন পোস্টের তথ্য অনুযায়ী, ৫৬ শতাংশ উত্তরদাতা মনে করেন কার্যকরভাবে দেশ পরিচালনার মতো মানসিক তীক্ষ্ণতা তাঁর নেই। পাশাপাশি ৫১ শতাংশ মানুষ তাঁর শারীরিক সক্ষমতা নিয়েও সন্দিহান।
তবে তুলনামূলকভাবে দেখলে পরিস্থিতি একেবারে নজিরবিহীন নয়। বিদায়ী প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন-এর সময় মানসিক ও শারীরিক সক্ষমতা নিয়ে অনাস্থার হার ৬০ শতাংশেরও বেশি ছিল। সেই তুলনায় ট্রাম্প কিছুটা এগিয়ে থাকলেও তাঁর বিরুদ্ধে অনাস্থার ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা হোয়াইট হাউসের জন্য স্পষ্ট সতর্কবার্তা হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে।
ট্রাম্প বরাবরই নিজের বুদ্ধিবৃত্তিক সক্ষমতা নিয়ে আত্মবিশ্বাসী বক্তব্য দিয়ে আসছেন। বিভিন্ন সমাবেশে তিনি দাবি করেন, তিনি মানসিক সক্ষমতা পরীক্ষায় (কগনিটিভ টেস্টে) সফলভাবে উত্তীর্ণ হয়েছেন এবং দীর্ঘ সময় ধরে বক্তব্য দিতে সক্ষম। কিন্তু সমালোচকেরা বলছেন, বাস্তব চিত্র ভিন্ন ইঙ্গিত দিচ্ছে। আইসল্যান্ড ও গ্রিনল্যান্ডের নাম গুলিয়ে ফেলা, বক্তব্যের মাঝপথে তাল হারানো কিংবা প্রসঙ্গচ্যুত মন্তব্য—এসব ঘটনা সাধারণ মানুষের নজর এড়াচ্ছে না।
এ ছাড়া সাম্প্রতিক স্বাস্থ্য পরীক্ষার পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন প্রকাশে বিলম্ব এবং প্রকাশ্য অনুষ্ঠানে কখনও কখনও তাঁকে ঝিমিয়ে পড়তে দেখা যাওয়ার খবরও সংশয় বাড়িয়েছে। পিউ রিসার্চ সেন্টার-এর তথ্য অনুযায়ী, ট্রাম্পের মানসিক সুস্থতা নিয়ে ‘খুবই আত্মবিশ্বাসী’ এমন মানুষের হার এক বছরে ৩৯ শতাংশ থেকে কমে ৩২ শতাংশে নেমে এসেছে। অর্থাৎ দৃঢ় সমর্থনভিত্তির মধ্যেও আস্থার ঘাটতি তৈরি হচ্ছে।
পরিস্থিতি এমন এক বাস্তবতা সামনে এনেছে, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসের অন্যতম বয়স্ক প্রেসিডেন্ট হিসেবে ট্রাম্পকে এখন ঠিক সেই ধরনের প্রশ্ন ও সমালোচনার মুখোমুখি হতে হচ্ছে, যেগুলোর সম্মুখীন কয়েক বছর আগে বাইডেন হয়েছিলেন। বয়স ও মানসিক তীক্ষ্ণতা নিয়ে এই বিতর্ক আগামী দিনগুলোতে তাঁর প্রশাসনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। তথ্যসূত্র : সিএনএন






