Home রাজনীতি প্রতীক বরাদ্দের আগেই বিএনপির চেয়ারম্যান হচ্ছেন তারেক রহমান

প্রতীক বরাদ্দের আগেই বিএনপির চেয়ারম্যান হচ্ছেন তারেক রহমান

অনলাইন ডেস্ক : ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রতীক বরাদ্দের আগেই তারেক রহমানকে চেয়ারম্যান নির্বাচিত করতে যাচ্ছে বিএনপি। গত ৩০ ডিসেম্বর খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে দলীয় প্রধানের পদটি শূন্য হলে ‘ডকট্রিন অব নেসেসিটি’ অনুযায়ী দলটি এই সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে।

নির্বাচন কমিশনের তফসিল অনুযায়ী, প্রতীক বরাদ্দ হবে আগামী ২১ জানুয়ারি। তার আগে দলীয় প্রধানের নাম নির্বাচন কমিশনকে জানাতে হবে বিএনপিকে। দলীয় গণতন্ত্র অনুযায়ী, খুব শিগগির দলীয় প্রধান হিসেবে তারেক রহমানকে নির্বাচিত করা হবে বলে জানিয়েছেন স্থায়ী কমিটির গুরুত্বপূর্ণ একজন সদস্য। সম্প্রতি, অনুষ্ঠিত স্থায়ী কমিটির জরুরি বৈঠকেও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এ বিষয়ে স্থায়ী

কমিটির একজন সদস্য আমাদের সময়কে বলেন, আদালতকে ব্যবহার করে শেখ হাসিনা সরকার ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে গ্রেপ্তার করলে দলীয় গণতন্ত্র অনুযায়ী দলের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়। আইনি জটিলতা ও শারীরিক অসুস্থতার কারণে খালেদা জিয়া রাজনীতিতে সক্রিয় না থাকায় দলের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তারেক রহমান একই পদের দায়িত্ব পালন করে আসছেন। যেহেতু খালেদা জিয়া আমাদের মাঝে নেই, আবার প্রতীক বরাদ্দের আগে দলীয় প্রধানের নাম নির্বাচন কমিশনকেও জানাতে হবে। হাতে সময়ও কম। তাই শিগগির গণতন্ত্র অনুযায়ী দলীয় প্রধান হিসেবে তারেক রহমানকে নির্বাচিত করা হবে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু গণমাধ্যমকে বলেন, খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে শুধু বিএনপির নেতাকর্মী নয়, পুরো দেশ অভিভাবকহীনতায় আছে। তার ছেলে তারেক রহমানও শোকে মুহ্যমান। এ রকম পরিস্থিতিতে দলের পদ-পদবি নিয়ে কারও কোনো চিন্তা নেই। তবে অবশ্যই তারেক রহমান এখন দলের চেয়ারম্যান।

খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে গঠনতন্ত্রের ৭ (গ) ধারায় দলের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যানের কর্তব্য, ক্ষমতা ও দায়িত্বের উপধারা ৩ অনুযায়ী চেয়ারম্যান হয়েছেন। সেখানে বলা হয়েছে, যে কোনো কারণে চেয়ারম্যানের পদ শূন্য হলে সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান বাকি মেয়াদের জন্য চেয়ারম্যানের দায়িত্ব গ্রহণ করবেন এবং গঠনতন্ত্র অনুযায়ী পরবর্তী চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়ে দায়িত্ব গ্রহণ না করা পর্যন্ত তিনি চেয়ারম্যানের দায়িত্বে বহাল থাকবেন।

গঠনতন্ত্রের এ বিধানের কারণে বিএনপির চেয়ারম্যান হিসেবে তারেক রহমানের নিযুক্তির জন্য আলাদা কোনো ঘোষণা দেওয়ার দরকার নেই। যদিও দলের বিভিন্ন সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এখনও তারেক রহমানকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে উল্লেখ করা হচ্ছে।

আগামী ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠেয় ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের জন্য যে নির্বাচনী আচরণবিধিমালা প্রণয়ন করেছে, তার ৭ ধারার চ উপধারায় বলা হয়েছে, নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের মনোনীত প্রার্থী কেবল তার বর্তমান দলীয় প্রধানের ছবি ব্যানার, লিফলেট বা হ্যান্ডবিল ও ফেস্টুন ছাপাতে পারবে। এবারের নির্বাচনে পোস্টার নিষিদ্ধ। কিন্তু ব্যানার, ফেস্টুন চলবে। তাই দলীয় নিবন্ধিত দলের প্রার্থীর পাশাপাশি দলীয় প্রধানের ছবি ব্যবহার করার সুযোগ রয়েছে। তাই প্রতীক বরাদ্দের আগেই বিষয়টি ইসিকে জানাতে হবে। দলীয় সূত্রে জানা যায়, দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির পরবর্তী বৈঠকে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। সেক্ষেত্রে দুটি উপায় নিয়ে এগোচ্ছেন তারা। একটি হচ্ছে, দলের স্থায়ী কমিটি সর্বসম্মতভাবে তারেক রহমানকে চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দিতে পারেন। আরেকটি হচ্ছে, দলের চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করতে স্থায়ী কমিটি তিন সদস্যের নির্বাচন কমিশন গঠন করতে পারে। সেখানে মনোনয়নপত্র দাখিল, প্রত্যাহার এবং ভোটের আয়োজনে তফসিল ঘোষণা করতে পারে। তারেক রহমানের বিরুদ্ধে কেউ প্রার্থী না হলে বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় তিনি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হবেন।

তবে তারেক রহমান চেয়ারম্যান হলে সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান কে হবেন, তা নিয়েও নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে দলে এবং দলের বাইরে। কেউ কেউ তারেক রহমানের কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা রহমানকে আলোচনায় রাখছেন। ইতোমধ্যে সামাজিক মাধ্যমে অনেকে জাইমা রহমানের মাঝে দাদি খালেদা জিয়ার প্রতিচ্ছবি দেখতে পাচ্ছেন।

Exit mobile version