অনলাইন ডেস্ক : যুক্তরাজ্যে প্রযুক্তি জায়ান্ট মাইক্রোসফট-এর বিরুদ্ধে প্রায় ১.৭ বিলিয়ন পাউন্ড (প্রায় ২.৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার) ক্ষতিপূরণ দাবিতে করা গণমামলাটি বিচার প্রক্রিয়ায় নেওয়ার অনুমতি পেয়েছে। এতে করে ক্লাউড সেবার বাজারে প্রতিষ্ঠানটির ব্যবসায়িক নীতিমালা নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
লন্ডনভিত্তিক ডিজিটাল বাজার বিশেষজ্ঞ মারিয়া লুইসা স্টাসি প্রায় ৫৯ হাজার ব্রিটিশ ব্যবসা ও প্রতিষ্ঠানের পক্ষে এ মামলা করেছেন। অভিযোগে বলা হয়েছে, মাইক্রোসফট তাদের উইন্ডোজ সার্ভার সফটওয়্যার প্রতিদ্বন্দ্বী ক্লাউড প্ল্যাটফর্মে ব্যবহারের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ফি আরোপ করেছে, যা গ্রাহকদের বিকল্প প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারে নিরুৎসাহিত করেছে।
মামলায় আরও বলা হয়েছে, এ ধরনের নীতির ফলে ক্লাউড সেবার বাজারে প্রতিযোগিতা বাধাগ্রস্ত হয়েছে এবং দীর্ঘমেয়াদে গ্রাহকদের ব্যয় বেড়েছে। স্টাসির মতে, “বছরের পর বছর ধরে এই নীতির কারণে সরকারি ও বেসরকারি উভয় খাতই আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।”
এদিকে যুক্তরাজ্যের প্রতিযোগিতা আপিল ট্রাইব্যুনাল জানিয়েছে, মামলাটির “যৌক্তিকভাবে সফল হওয়ার সম্ভাবনা” রয়েছে এবং অভিযোগগুলো প্রাথমিকভাবে গ্রহণযোগ্য। ফলে এখন পূর্ণাঙ্গ শুনানির পথে এগোচ্ছে মামলাটি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এ মামলার অন্যতম গুরুত্ব হলো—এটি ক্লাউড কম্পিউটিং খাতে সফটওয়্যার লাইসেন্সিং ও মূল্য নির্ধারণ নীতির ওপর নজির স্থাপন করতে পারে। যদি অভিযোগ প্রমাণিত হয়, তাহলে শুধু ক্ষতিপূরণ নয়, ভবিষ্যতে ব্যবসায়িক নীতিতেও পরিবর্তন আনতে বাধ্য হতে পারে প্রতিষ্ঠানটি।
অন্যদিকে মাইক্রোসফট অভিযোগ অস্বীকার করে জানিয়েছে, তারা আদালতের এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করবে এবং নিজেদের অবস্থান জোরালোভাবে উপস্থাপন করবে। তাদের দাবি, গ্রাহকদের জন্য তারা প্রতিযোগিতামূলক ও নমনীয় সেবা দিয়ে আসছে।
এদিকে ইউরোপীয় কমিশন এবং যুক্তরাজ্যের সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোও আলাদাভাবে ক্লাউড বাজারে মাইক্রোসফটের লাইসেন্সিং নীতিমালা নিয়ে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে। এতে করে ইউরোপজুড়ে প্রযুক্তি খাতে বড় কোম্পানিগুলোর ওপর নজরদারি আরও জোরদার হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই মামলা সফল হলে ক্ষতিপূরণের পরিমাণ ২ বিলিয়ন পাউন্ডের কাছাকাছি পৌঁছাতে পারে এবং এটি বৈশ্বিক ক্লাউড বাজারে প্রতিযোগিতার নতুন দিকনির্দেশনা তৈরি করতে পারে।






