অনলাইন ডেস্ক : মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন বলেছেন, রাশিয়ার বিরুদ্ধে ইউক্রেনের জয় খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বৃহস্পতিবার স্পেনের রাজধানী মাদ্রিদে ন্যাটো সম্মেলনের শেষ দিনে এক সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। খবর ওয়াশিংটন পোস্টের।
বাইডেন বলেন, আমাদেরকে দীর্ঘ মেয়াদে ইউক্রেনের সঙ্গে থাকতে হবে। যুক্তরাষ্ট্র দ্রুত ইউক্রেনকে ৮০ কোটি ডলারের সামরিক সহায়তা পাঠাবে। নতুন সহায়তার মধ্যে অত্যাধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্হা, রাডার ও হাই মোবিলিটি আর্টিলারি রকেট সিস্টেমের জন্য গোলাবারুদ থাকবে।
তিনি জানান, মার্কিন কংগ্রেস ইউক্রেনের জন্য ৪ হাজার কোটি ডলারের যে প্যাকেজ অনুমোদন করেছে, নতুন সহায়তা সেই প্যাকেজেরই অংশ। তিনি বলেন, আমি জানি না—এই যুদ্ধ কীভাবে শেষ হবে। তবে ইউক্রেনের জয় অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ। বাইডেন জানান, রুশ হুমকির মুখে যুক্তরাষ্ট্র ইউরোপে তাদের সামরিক উপস্হিতি আরো বাড়াবে।
তিনি বলেন, রুশ আগ্রাসনের কারণে বিশ্ব এখন কঠিন পরিস্হিতির মুখোমুখি। তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় মানুষকে এখন অনেক বেশি খরচ করতে হচ্ছে। রাশিয়া যাতে তাদের তেল বিক্রি থেকে বেশি আয় করতে না পারে সেজন্য যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা আলোচনা করছে। বাইডেন আরো বলেন, বিশ্বব্যাপী নিরাপত্তা পরিস্হিতি পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে ন্যাটো নিজেকে রূপান্তরিত করেছে। স্পেনে ন্যাটোর এই সম্মেলনকে তিনি ঐতিহাসিক বলে দাবি করেন।
যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটো প্রথম বারের মতো তাদের কৌশলগত অগ্রাধিকারের তালিকায় চীনকে অন্তর্ভুক্ত করেছে। তারা বলেছে, বেইজিংয়ের উচ্চাকাঙ্ক্ষা এবং জবরদস্তিমূলক নীতি পশ্চিমা ব্লকের স্বার্থ, নিরাপত্তা এবং মূল্যবোধকে চ্যালেঞ্জ করে। গত বুধবার মাদ্রিদে ন্যাটো নেতারা একটি কৌশলপত্র বা ব্লুপ্রিন্ট অনুমোদন করেছে। যেখানে আগামী দশকে ন্যাটো কোন কোন বিষয়ে অগ্রাধিকার দেবে তা উল্লেখ করা হয়েছে। ঐ কৌশলপত্রে রাশিয়ার বিরুদ্ধে কঠোর ভাষা ব্যবহার করা হয়েছে। রাশিয়াকে জোটের শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য সরাসরি হুমকি বলে উল্লেখ করা হয়েছে। একই সঙ্গে বলা হয়েছে, চীনের সামরিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা, তাইওয়ান নিয়ে বিরোধপূর্ণ ভাষা এবং মস্কোর সঙ্গে তাদের ক্রমবর্ধমান সম্পর্ক ন্যাটোর জন্য ‘পদ্ধতিগত চ্যালেঞ্জ’ তৈরি করছে।
ন্যাটোর মহাসচিব জেন্স স্টলটেনবার্গ বলেন, পরমাণু অস্ত্র বৃদ্ধিসহ সামরিক শক্তি বাড়াচ্ছে চীন। তারা প্রতিবেশীদের ভয়-ভীতি দেখাচ্ছে, তাইওয়ানকে হুমকি দিচ্ছে, নিজেদের নাগরিকদেরও অত্যাধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে নজরদারি করছে। এছাড়া রাশিয়ার মিথ্যা তথ্য ছড়াচ্ছে। তিনি বলেন, চীন আমাদের প্রতিপক্ষ নয়, কিন্তু চীন যে ভয়াবহ চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করছে সে ব্যাপারে আমাদের অবস্হান স্পষ্ট হতে হবে। এদিকে চীন ন্যাটোর ঘোষণাকে জোরালোভাবে নাকচ করে বলেছে, এটি একটি নিষ্ফল হুঁশিয়ারি।






