স্বজনদের সঙ্গে হাসিখুশি সময় কাটছে খালেদার

0
122
Sponsor Advertisement

অনলাইন ডেস্ক : শর্তসাপেক্ষে মুক্তি পাওয়া বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া বেশ হাসি-খুশিতে সময় কাটাচ্ছেন। করোনাভাইরাসের পরিস্থিতির কারণে তিনি কারান্তরীণ দশা থেকে ঘরে ফিরে ‘হোম কোয়ারেন্টাইনে’ থাকলেও স্কাইপিতে ছেলে (বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন) তারেক রহমান এবং দুই পুত্রবধূ ও নাতি-নাতনিদের সঙ্গে কথা বলছেন। কাছে পাচ্ছেন ভাই-বোনদের। শারীরিকভাবে তেমন ভালো না থাকলেও তিনি মানসিকভাবে এখন বেশ খুশি আছেন।

পারিবারিক ও দলীয় বিভিন্ন পর্যায়ে কথা বলে এ তথ্য জানা গেছে। করোনাভাইরাসের কারণে সৃষ্ট পরিস্থিতিতে কারাবন্দি খালেদা জিয়ার বয়স বিবেচনায় মানবিক কারণে গত ২৫ মার্চ মুক্তি দেয় সরকার। বাসায় থেকে চিকিত্সা নেবেন এবং বিদেশ যেতে পারবেন না, এমন শর্তে তার সাজা ছয় মাসের জন্য স্থগিত করে মুক্তি দেয়া হয়।

পারিবারিক সূত্র জানায়, করোনাভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকির কারণে হোম কোয়ারেন্টাইনে রয়েছেন সদ্য কারামুক্ত বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। গুলশানের নিজ বাসভবন ‘ফিরোজা’য় তিনি আগামী ১৪ দিন কোয়ারেন্টাইনে থাকবেন। চিকিত্সকদের পরামর্শে এই সময় তিনি কোনো নেতাকর্মীর সঙ্গে দেখা করবেন না।

ওই সূত্রটি জানায়, খালেদা জিয়া ফলমূল ছাড়া বাইরের কোনো খাবার খাচ্ছেন না। গতকাল শুক্রবার (২৭ মার্চ) ছুটির দিনে বোনেরা নিজ বাসা থেকে তার পছন্দের খাবার রান্না করে নিয়ে আসেন। খালেদা জিয়া কখন কী খাবেন তার খেয়াল রাখছেন বড় বোন সেলিমা ইসলাম। আগের মতো সার্বক্ষণিক দেখাশোনা করছেন ফাতেমা। আপাতত কয়েকটা দিন ডাক্তার ছাড়া বাইরের লোক বাড়ির ভেতরে প্রবেশ নিষেধ থাকায় দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে দেখা করছেন না তিনি। সিনিয়র নেতারা খোঁজ রাখছেন মুঠোফোনে।

সেলিমা ইসলাম বলেন, বাড়িতে আসার পর থেকেই তিনি অনেক খুশিতে আছেন। দলীয় কোনো কথা তোলেননি এখনো। তাকে ফুরফুরেও লাগছে। দুই বছর পর পরিবারের সবাইকে পেয়ে অনেক খুশি তিনি। যেদিন বাসায় এলেন রাতে খেয়েছেনও সবার সঙ্গে বসে। ঘুমিয়ে পড়ছেন ১০টা বাজতেই। ভোরে উঠে নামাজ আদায় করেন। তার অভ্যাসগত অনেক পরিবর্তন হয়েছে।

সেলিমা আরও বলেন, লন্ডনে অবস্থানরত ছেলের (তারেক রহমান) বউ ডা. জোবাইদা রহমানের তত্ত্বাবধানে খালেদা জিয়ার চিকিৎসা করানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। স্থানীয় ডাক্তাররা তার দেখভাল করবেন। চিকিত্সার বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেয়ার প্রয়োজন হলে তার (ডা. জোবাইদা) পরামর্শ নেয়া হবে। এছাড়া তার চিকিৎসায় গঠিত বোর্ডের ডাক্তাররা নিয়মিত চেকআপ করছেন। বুধবার তাকে দেখে গেছেন ব্যক্তিগত চিকিত্সক অধ্যাপক ডা. এফএফ সিদ্দিকুর রহমান, অধ্যাপক ডা. রাজিবুল আলম, অধ্যাপক ডা. আব্দুল কুদ্দুস, অধ্যাপক ডা. হাবিবুর রহমান, অধ্যাপক ডা. জাহিদ হোসেন ও ডা. মামুন।

খালেদা জিয়ার চিকিত্সকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, জোবায়দা রহমানের সঙ্গে কথা বলে গত ২৫ মার্চ রাতে নতুন প্রেসক্রিপশন করা হয়েছে, সে অনুযায়ী তার চিকিত্সা শুরু হয়েছে। তবে এই মুহূর্তে একেবারে নতুন কোনো চিকিত্সা তারা শুরু করতে চান না। কারণ, হোম কোয়ারেন্টাইন শেষ হলে তার বেশ কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হবে। পরীক্ষার রিপোর্টের ভিত্তিতে দরকার হলে নতুন চিকিত্সা শুরু করা হবে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেন, কোয়ারেন্টাইনে থাকাবস্থায় নতুন চিকিত্সা শুরু করা যাবে না। তাছাড়া তার আগের ওষুধের কোর্স শেষ হলে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পরে বোঝা যাবে তাকে কোন ধরনের চিকিত্সা দেয়া প্রয়োজন।

খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত সহকারী আব্দুস সাত্তার বলেন, চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী তিনি ১৪ দিনের হোম কোয়ারেন্টাইনে আছেন। তিনি সবার কাছে নিজের সুস্থতার জন্য দোয়া চেয়েছেন। সুস্থ হওয়ার পরেই সবার সঙ্গে দেখা-সাক্ষাত করবেন বলে জানিয়েছেন। নেতাকর্মীদের তার বাড়ির সামনে ভিড় না করতেও তিনি অনুরোধ করেছেন।

আরেকটি সূত্র জানায়, খালেদা জিয়ার খোঁজখবর নেয়ার জন্য শনিবার তার বাসভবন ‘ফিরোজা’য় গেছেন ভাই শামীম ইস্কান্দার এবং তার স্ত্রী কানিজ ফাতেমা। খালেদা জিয়াকে কারান্তরীণ অবস্থা থেকে বাসায় আনতে গিয়েছিলেন শামীম ও সেলিনা।

Sponsor Advertisement

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here