অনলাইন ডেস্ক : যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুমকি দিয়েছেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে হরমুজ প্রণালি খুলে না দিলে ইরানের ভেতরে বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সেতুসহ গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে হামলা চালানো হবে। রোববার (৫ এপ্রিল) সামাজিক মাধ্যমে দেয়া এক পোস্টে ট্রাম্প অশালীন ভাষা ব্যবহার করে বলেন, ‘মঙ্গলবার হবে বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সেতু ধ্বংসের দিন-ইরানে এমন কিছু ঘটবে, যা আগে কখনো দেখা যায়নি। প্রণালি খুলে দাও, না হলে নরকে বসবাস করবে-দেখে নিও!’ খবর আল জাজিরার।
এর আগে ২৬ মার্চ ট্রাম্প ইরানকে ১০ দিনের সময়সীমা বেঁধে দেন, যাতে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল পুনরায় চালু করা হয়। বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথটি ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর থেকে কার্যত অচল হয়ে পড়ে। রোববার ফক্স নিউজকে দেয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প দাবি করেন, ইরান বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় রয়েছে এবং নির্ধারিত সময়ের আগেই একটি সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব হতে পারে। তবে ইরান জানিয়েছে, তারা যুদ্ধ বন্ধ করতে আগ্রহী নয় এবং তাদের অবকাঠামোতে হামলা হলে তারা আরও জোরালো প্রতিক্রিয়া দেখাবে।
যুদ্ধ চলাকালে যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা বারবার ইরানকে ‘ভয়াবহ পরিণতি’র হুমকি দিয়ে আসছেন। গত সপ্তাহে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, প্রয়োজন হলে ইরানকে ‘প্রস্তর যুগে’ ফিরিয়ে দেয়া হবে।
এদিকে ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় ইরানের বিভিন্ন বেসামরিক স্থাপনা-যেমন সেতু, স্কুল, হাসপাতাল ও বিশ্ববিদ্যালয়-ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, এসব হামলার কিছু আন্তর্জাতিক আইনে যুদ্ধাপরাধ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
অন্যদিকে ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরানে ভূপাতিত একটি এফ-১৫ই যুদ্ধবিমানের পাইলটকে সফলভাবে উদ্ধার করা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘গভীর পাহাড়ি অঞ্চল থেকে গুরুতর আহত ওই পাইলটকে উদ্ধার করা হয়েছে-এটি ছিল সাহস ও দক্ষতার অসাধারণ উদাহরণ।’ হোয়াইট হাউসে সোমবার এ বিষয়ে একটি সংবাদ সম্মেলন করবেন বলেও জানিয়েছেন ট্রাম্প।
