Home আন্তর্জাতিক ৭৯০৪ অভিবাসনপ্রত্যাশীর মর্মান্তিক পরিণতি, ভুক্তভোগীরা যেসব দেশের

৭৯০৪ অভিবাসনপ্রত্যাশীর মর্মান্তিক পরিণতি, ভুক্তভোগীরা যেসব দেশের

অনলাইন ডেস্ক : বিশ্বজুড়ে গত বছরে কমপক্ষে ৮ হাজার অভিবাসনপ্রত্যাশীর মৃত্যু বা নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এমন মর্মান্তিক ঘটনা আবারও বৈশ্বিক মানবিক সংকটের গভীরতাকে সামনে নিয়ে এসেছে। জাতিসংঘের সংস্থা আন্তর্জাতিক অভিবাসী সংস্থার (আইওএম) এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৫ সালে মোট ৭ হাজার ৯০৪ অভিবাসনপ্রত্যাশী মারা গেছেন বা নিখোঁজ হয়েছেন। যদিও ২০২৪ সালের রেকর্ড ৯ হাজার ১৯৭ জনের তুলনায় এই সংখ্যা কিছুটা কম, তবে সংস্থাটি জানিয়েছে-সহায়তা কমে যাওয়ায় অন্তত এক হাজার ৫০০টি ঘটনার সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

জেনেভায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে আইওএম’র মানবিক ও প্রতিক্রিয়া বিভাগের পরিচালক মারিয়া মইটা বলেন, ‘নিহতের এই সংখ্যাগুলো আমাদের সম্মিলিত ব্যর্থতার প্রমাণ-আমরা এই ট্র্যাজেডিগুলো ঠেকাতে পারিনি।’ প্রতিবেদন অনুযায়ী, মোট মৃত্যু ও নিখোঁজের মধ্যে প্রতি ১০ জনে ৪ জনের বেশি প্রাণ হারিয়েছেন ইউরোপগামী সমুদ্রপথে। অনেক ক্ষেত্রে পুরো নৌযানই সমুদ্রে ডুবে গেছে-যেগুলোকে চিরতরে হারিয়ে যাওয়া নৌযান বা ‘ইনভিজিবল শিপরেক’ বলা হয়, কারণ এসব নৌকার আর কোনো খোঁজই পাওয়া যায় না।

পশ্চিম আফ্রিকা থেকে উত্তরমুখী রুটে প্রায় এক হাজার ২০০ মানুষের মৃত্যু হয়েছে। অন্যদিকে এশিয়াতেও রেকর্ডসংখ্যক প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে।বিশেষ করে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের মধ্যে শত শত মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। তারা কেউ মিয়ানমারের সহিংসতা থেকে পালিয়ে, আবার কেউ বাংলাদেশে ঘনবসতিপূর্ণ শরণার্থী শিবিরের দুর্দশা থেকে বেরিয়ে বিপজ্জনক যাত্রায় নেমেছিলেন।

আইওএম’র মহাপরিচালক অ্যামি পপ এক বিবৃতিতে বলেন, ‘সংঘাত, জলবায়ু চাপ ও নীতিগত পরিবর্তনের কারণে অভিবাসনের রুট বদলাচ্ছে, কিন্তু ঝুঁকি এখনো বাস্তব এবং ভয়াবহ।’

তিনি আরও বলেন, ‘এই সংখ্যার পেছনে আছে বাস্তব মানুষ-যারা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যাত্রা করছে, আর তাদের পরিবার অপেক্ষা করছে এমন খবরের জন্য, যা হয়তো কখনোই আসবে না।’

বিশ্লেষকদের মতে, বৈশ্বিক সংঘাত, দারিদ্র্য, জলবায়ু পরিবর্তন এবং রাজনৈতিক অস্থিরতা মানুষকে ক্রমেই ঝুঁকিপূর্ণ অভিবাসনের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। ফলে মৃত্যুর এই মিছিল থামানো যাচ্ছে না-বরং অনেক ক্ষেত্রেই তা অদৃশ্য রয়ে যাচ্ছে, সমুদ্রের অতলে হারিয়ে যাচ্ছে অসংখ্য জীবন।

Exit mobile version