Home আন্তর্জাতিক অক্সফোর্ডের টিকা নিয়ে ‘বাজি’ ধরেছেন যে ভারতীয় কোটিপতি

অক্সফোর্ডের টিকা নিয়ে ‘বাজি’ ধরেছেন যে ভারতীয় কোটিপতি

অনলাইন ডেস্ক : করোনা ভাইরাস সম্পর্কিত যে কোনো খবরে আমাদের মনের পর্দায় মাস্ক ও গ্লাভস পরিহিত কাচের শিশি হাতে ধরা বিজ্ঞানীদের ছবি ভেসে উঠে। কিন্তু ভারতে এটা একটু ব্যতিক্রম। এক্ষেত্রে স্যুটেড-বুটেড সুদর্শন এক পুরুষের ছবি সামনে আসে। এর কারণ হলো, ভ্যাকসিন নিয়ে ভারতের উদ্যোগের সঙ্গে এ ব্যক্তিটি মোটামুটি অবিচ্ছেদ্য। তিনি হলেন, সিরাম ইনস্টিটিউট অব ইন্ডিয়ার প্রধান নির্বাহী আদার পুনাওয়ালা। বিশ্বের অন্যতম বৃহত্ টিকা প্রস্তুতকারী ভারতীয় এই কোম্পানি এবং তার ৩৯ বছর বয়সি সুদর্শন এই সিইও গত কয়েক মাস ধরেই বহুল আলোচিত।

অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে যৌথ ভাবেকরোনা টিকা ‘কোভিশিল্ড’ তৈরি করছে সুইডেনের সংস্থা অ্যাস্ট্রাজেনেকা। ভারতে সেই টিকা উত্পাদনের দায়িত্বে রয়েছে সিরাম ইনস্টিটিউট অব ইন্ডিয়া। সিরাম ইনস্টিটিউটের সিইও আদার পুনাওয়ালা জানিয়েছেন, এই টিকার পিছনে পারিবারিক সম্পত্তির ২৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার খরচ করেছেন তিনি। অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার করোনা টিকার সাফল্যের ওপরেই এখন নির্ভর করছে সিরাম ইনস্টিটিউট অব ইন্ডিয়ার ভাগ্য। এক সাক্ষাত্কারে আদার জানিয়েছেন, তার বাবা, ভারতের ভ্যাকসিন কিং হিসেবে পরিচিত সাইরাস পুনাওয়ালার সম্মতি ছিল না এতে। করোনা ভ্যাকসিনের পেছনে এই বিপুল অর্থ ব্যয় তার কাছে ছিল জুয়ার শামিল।

‘জুয়ার শামিল’ এই বিনিয়োগ নিয়ে আদার পুনাওয়ালা বলেন, ‘আদর্শগত দিক থেকে আমার আর কোনো বিকল্প বাছাই করা সম্ভব ছিল না। সেদিন সিদ্ধান্ত না নিলে আমরা আরো ছয় মাস নষ্ট করতাম। মনে করেছিলাম, এ আমারই দায়িত্বের আওতায় পড়ে। কোভিড ভ্যাকসিন উত্পাদনের দায়িত্ব নিয়েছিলাম এবং তা আমাদের পক্ষেই গিয়েছে।’ পুনাওয়ালা বলেন, ইতিমধ্যেই ৪ কোটি করোনা টিকা তৈরি করে ফেলেছে সিরাম ইনস্টিটিউট অব ইন্ডিয়া। ডিসেম্বরের মধ্যে ১০ কোটি করোনা প্রতিষেধক তৈরির লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছে সংস্থাটি। এ সপ্তাহের শুরুর দিকে তিনি বলেন, ‘ভারত সরকার আমাদের জুলাই মাসের মধ্যে ৩০ থেকে ৪০ কোটি ডোজ উত্পাদনের লক্ষ্যমাত্রা দিয়েছে। জানুয়ারি মাসের মধ্যেই ১০ কোটি ডোজ সরবরাহ করতে পারব আমরা।’

গত সোমবার অ্যাস্ট্রাজেনেকার পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, মানবদেহে পরীক্ষায় তাদের টিকা ৯০ শতাংশ সাফল্য পেয়েছে। কিন্তু শুক্রবার নাগাদ এই টিকার সাফল্যের তথ্য নিয়ে ‘ধোঁয়াশা’ দেখা দেয় এবং অ্যাস্ট্রাজেনেকা নতুন করে ট্রায়ালের চিন্তাভাবনা করার কথা জানিয়েছে। এ অবস্থায় অক্সফোর্ড ও অ্যাস্ট্রাজেনেকার যৌথ উদ্যোগে তৈরি করোনা ভ্যাকসিনের সাফল্যে-ব্যর্থতার ওপরই নির্ভর করছে আদার পুনাওয়ালার ‘জুয়ায়’ হার-জিতের বিষয়টি।

Exit mobile version