অনলাইন ডেস্ক : করোনাকালে গৃহবন্দী জীবনে অনলাইন কেনাকাটায় ঝুঁকেছেন অনেকে। আর এই সুযোগটা কাজে লাগানোর চেষ্টা করছে প্রতারক চক্র। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কম দামে খ্যাতনামা ব্রান্ডের মোবাইল ফোন বিক্রির বিজ্ঞাপন দিয়ে মানুষকে আকৃষ্ট করে তারা। এরপর ক্রেতার অর্ডার নিয়ে পাঠিয়ে দেয় ডামি/নকল বা খেলনা ফোন। অনলাইন প্লাটফর্মে তাদের ঠিকানাও ভুল দেওয়া ছিল। ফলে প্রতারিত মানুষের পক্ষে তাদের খুঁজে বের করা সহজ ছিল না। তবে এমন বেশ কিছু অভিযোগ পাওয়ার পর ক্রেতা সেজে ফাঁদ পেতে চক্রের সাতজনকে আটক করেছে র‌্যাব-২। শুক্রবার রাজধানীর হাতিরপুলের ইস্টার্ন প্লাজায় এ অভিযান চালানো হয়।

র‌্যাব-২ এর ভারপ্রাপ্ত কোম্পানি কমান্ডার সাইফুল মালিক ঘটনাস্থলে জানান, অনলাইনে লোভনীয় বিজ্ঞাপন দিয়ে মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করে আসছিল চক্রটি। সেলবিডি ডটকম ও বিডিএক্সপ্রেস ডটকম নামে দুটি সাইটের বিজ্ঞাপন দিত তারা। এগুলোর একটি ঠিকানা দেওয়া আছে ঢাকার তাজউদ্দীন সরণি এবং অপরটি সাভারের রাজউক টাওয়ার এলাকায়। অথচ সেখানে তাদের কোনো অফিস নেই।

র‌্যাব কর্মকর্তারা জানান, চক্রের সদস্যদের আইনের আওতায় আনতে র‌্যাবের পক্ষ থেকে পাঁচ হাজার টাকা দামের একটি মোবাইল ফোনের অর্ডার দেওয়া হয়। তারা যে ফোনটি পাঠিয়েছিল, সেটির দাম এক হাজার টাকার মতো। তারা কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে মোবাইল ফোন গ্রাহকের কাছে পৌঁছে দিত। এর সূত্র ধরে তদন্তে ইস্টার্ন প্লাজার সপ্তম তলায় তাদের দোকানের খোঁজ পাওয়া যায়। সেখানে অভিযান চালানো হলে প্রতারক চক্রের হোতা আশিক বিল্লাহ কৌশলে পালিয়ে যায়। অদূরে একটি ভবনের ছয়তলায় তার বাসা। সেখানে অভিযান চালিয়ে সিগারেটের কার্টনে সাজানো বিপুল পরিমাণ নকল ও খেলনা মোবাইল ফোন পাওয়া যায়। সেইসঙ্গে যেসব ঠিকানায় এর আগে ফোন পাঠানো হয়েছে এবং আরও যাদের অর্ডার আছে তাদের নাম-ঠিকানাও পাওয়া গেছে। মূল হোতা আশিককে পাওয়া না গেলেও তার বড়ভাই মনিরুজ্জামান ও চক্রের সহযোগী ছয় নারীকে আটকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

আটক এক নারী র‌্যাবকে জানায়, প্রতারণার বিষয়টি জেনেও অর্থের প্রয়োজনে তিনি ও অন্যরা সেখানে কাজ করতেন। তাদের কাজ ছিল মোবাইল ফোন প্যাকিং শেষে ঠিকানা লিখে দেওয়া। অন্যরা সেগুলো কুরিয়ার সার্ভিসের কার্যালয়ে নিয়ে যেত। টাকা-পয়সার হিসাব রাখত আরেকজন।