অনলাইন ডেস্ক : সদ্য ঘোষিত আফগান সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষার আগ্রহ প্রকাশ করেছে চীন। এমন প্রেক্ষাপটে আফগানিস্তানে তিন কোটি ১০ লাখ মার্কিন ডলারের সহায়তা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে দেশটি। এই সহায়তার আওতায় আফগানিস্তানকে খাদ্যসামগ্রী ও করোনার টিকা দেওয়া হবে। আজ বৃহস্পতিবার ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
তালেবানের হাতে কাবুলের পতনের আগে থেকে সংগঠনটির সঙ্গে যোগাযোগ চালিয়ে যাচ্ছে চীন। সে সময় থেকেই তালেবানকে আর্থিক সহায়তার প্রস্তাব দিয়ে আসছে দেশটি। চীনকে গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে আখ্যায়িত করে আফগানিস্তানের পুনর্গঠনে দেশটিকে পাশে চেয়েছে তালেবানও। গতকাল বুধবার আফগানিস্তানের প্রতিবেশী রাষ্ট্রসমূহের এক বৈঠকে এই প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই।
আফগানিস্তানের বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে আলোচনা ও করণীয় নির্ধারণে আয়োজিত সেই অনলাইন বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন দেশটির সীমান্তবর্তী ছয় রাষ্ট্র – চীন, পাকিস্তান, ইরান, উজবেকিস্তান, তাজিকিস্তান ও তুর্কমেনিস্তান সরকারের প্রতিনিধিরা।
বৈঠকে আফগানিস্তান থেকে তড়িঘড়ি করে যুক্তরাষ্ট্রের সেনা প্রত্যাহারের কঠোর সমালোচনা করে ওয়াং ই বলেন, ‘আফগানিস্তানে অভিযান শুরুর দিন থেকে সেনা প্রত্যাহার পর্যন্ত ২০ বছর ধরে সেখানে ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।’
তিনি আরও বলেন, চীন আফাগানিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখার জন্য প্রস্তুত এবং দেশটিতে বর্তমানে যে মানবিক বিপর্যয় দেখা দিয়েছে, তাতে বিশ্বের অন্যান্য রাষ্ট্রেরও উচিত আফগান জনগণের পাশে দাঁড়ানো।
এদিকে, কাবুল দখলের পর থেকেই আফগানিস্তানে অন্তর্ভুক্তিমূলক সরকার গঠন করা হবে বলে জানিয়ে আসছিল তালেবান। এর তিন সপ্তাহ পর এসে গত মঙ্গলবার কট্টরপন্থী হিসেবে পরিচিত ব্যক্তিদের নিয়ে আফগানিস্তানের অন্তর্বর্তী সরকার ঘোষণা করা হয়। এই সরকারে স্থান মেলেনি কোনো নারীর। মন্ত্রিসভায় নাম আসেনি দেশটির ক্ষুদ্র জাতিসত্তার কোনো প্রতিনিধিরও। এ নিয়ে পশ্চিমা বিশ্বজুড়ে সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। এই সরকারকে স্বীকৃতি দেওয়ার পথে যুক্তরাষ্ট্র অনেক দূরে রয়েছে বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন।






