অনলাইন ডেস্ক : ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা শুরুর আগে দুটি পূর্বনির্ধারিত শর্তপূরণের দাবি জানিয়েছেন ইরানের স্পিকার মোহাম্মদ বাকের কালিবাফ। শর্ত দুটি হলো- লেবাননে যুদ্ধবিরতি এবং ইরানের আটকে রাখা সম্পদ অবমুক্ত করা। এই দুই শর্তপূরণ না হলে আলোচনা শুরু করা উচিত হবে না বলে মনে করেন তিনি।
শুক্রবার (১০ এপ্রিল) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেয়া এক পোস্টে মোহাম্মদ বাকের কালিবাফ লিখেছেন, আলোচনা শুরুর আগে পূর্বনির্ধারিত দুটি সিদ্ধান্ত অবশ্যই বাস্তবায়ন করতে হবে। আর সেগুলো হচ্ছে, লেবাননে যুদ্ধবিরতি এবং ইরানের আটকে রাখা সম্পদ অবমুক্ত করা।
ইরানের স্পিকার যোগ করেন, এই পদক্ষেপগুলো দুই পক্ষের মধ্যে করা প্রতিশ্রুতির অংশ। লেবাননে যুদ্ধবিরতির শর্ত নিয়ে ক্রমবর্ধমান বিরোধ এবং অব্যাহত সংঘাতের মধ্যে তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, এই শর্তগুলো পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আলোচনা শুরু করা উচিত নয়।
যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল এবং ইরানের মধ্যে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও লেবানন ফ্রন্টে যুদ্ধ চলছে। হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে যুদ্ধের নামে লেবাননে সাধারণ মানুষের ওপর নির্বিচার হামলা চালাচ্ছে ইসরায়েল। বৈশ্বিক নিন্দার মুখেও পিছু হটছে না তারা।
ইরান এবং আলোচনার আয়োজক পাকিস্তানের দাবি, যুদ্ধবিরতির চুক্তিতে লেবাননও অন্তর্ভুক্ত। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েল দাবি করছে, যুদ্ধবিরতি শুধু ইরানের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, লেবাননের ক্ষেত্রে নয়। এই ইস্যুতে দুই পক্ষের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে বলে জানান মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। তবে ইরান দৃঢ়ভাবে বলেছে, শুধু ইরানের ওপর নয়, প্রতিরোধ অক্ষের সব পক্ষের বিরুদ্ধে যুদ্ধ বন্ধ করতে হবে।
প্রসঙ্গত, যুদ্ধবিরতি ইস্যুতে স্থানীয় সময় আগামীকাল শনিবার (১১ এপ্রিল) সকালে বৈঠক শুরু হবে বলে জানিয়েছে হোয়াইট হাউজ। বৈঠকে মার্কিন প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেবেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। আর ইরানের নেতৃত্ব দেবেন পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের কালিবাফ। আলোচনার শুরুতে দুই পক্ষের সঙ্গে আলাদাভাবে বৈঠক করতে পারেন প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ। আর উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার আলোচনার মধ্যস্থতায় থাকবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
