দেলওয়ার এলাহী : জুলাই ১০, ২০২২, টরন্টো। সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট-এর কেন্দ্রীয় কমিটির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ও আবৃত্তি সম্বন্বয় পরিষদ- এর সাধারণ সম্পাদক বিশিষ্ট আবৃত্তিকার আহ্কাম উল্লাহ এর সাথে- ‘হে বন্ধু, কি খবর বল…’ শিরোনামের কথোপকথন ও আবৃত্তির অনুষ্ঠান হয়ে গেল শহরের বাঙালি অভিবাসী অধ্যুষিত ড্যানফোর্থের গোল্ডেন এ’জ সেন্টারে। পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী ঘড়ির কাঁটা ঠিক ৭.৫৯ মিনিট বাজতেই ঘোষক ফ্লোরা সূচি মঞ্চে আহবান জানান মূল অতিথি আহকাম উল্লাহ, প্রধান অতিথি বরেণ্য কবি আসাদ চৌধুরী ও অন্যস্বর টরন্টো ও অন্যথিয়েটার টরন্টোর পক্ষ থেকে আয়োজক আহমেদ হোসেনকে। অনুষ্ঠানে সূচনা সঙ্গীত পরিবেশন করেন ফারহানা শান্তা। আলোচনা পর্বে বক্তব্য দেন কবি আসাদ চৌধুরী, আহকাম উল্লাহ, আহমেদ হোসেন, মনির হোসেন বাবু, ঈশাত আরা মেরুনা, মৈত্রেয়ী দেবী, শিখা রউফ, রেজা অনিরুদ্ধ, দেলওয়ার এলাহী, কামরান করিম, ববি রব্বানী, মেরী রাশেদীন, জামিল বিন খলিল, হিমাদ্রী রয়, বিলকিস রহমান দোলা। আবৃত্তি করেন দিলারা নাহার বাবু। জামিল বিন খলিল ও কাজী হেলাল সম্পাদিত বাংলাদেশের সুবর্ণ জয়ন্তীতে বাচনিক কবিতা সংকলন ‘সুবর্ণ পদাবলী’ কবি আসাদ চৌধুরী ও আহকাম উল্লাহর হাতে তুলে দেন বাচনিক সদস্য আরিয়ান হক।

টরন্টোর সাংস্কৃতিক অঙ্গনের সদস্যদের সামনে আহকাম উল্লাহর সঙ্গে আড্ডা ও তাঁর পরিবেশনার এটি ছিল দ্বিতীয় সফর। আজ থেকে কয়েক বছর আগে এই শহরের বন্ধু-ভক্তদের তিনি মুগ্ধ করে গিয়েছিলেন। এবার সস্ত্রীক দ্বিতীয় সফরেও তার ব্যত্যয় ঘটেনি। মূলত সাংস্কৃতিক চর্চার মাধ্যমে আমাদের দেশের লক্ষ লক্ষ মানুষের প্রাণ ও রক্তের বিনিময়ে অর্জিত মুক্তিযুদ্ধের চেতনার মূলমন্ত্র অসা¤প্রদায়িক, গণতান্ত্রিক ও হাজার বছরের বাঙালি সংস্কৃতির ঐতিহ্যকে লালন করার উপর জোর দেন আহকাম উল্লাহ। এই লক্ষ্যেই তিনি তাঁর সহযোদ্ধাদের নিয়ে কাজ করেছেন ও আগামীতেও অবিচল থেকে কাজ করবেন বলে দ্ব্যর্থহীন ভাষায় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন তিনি। টরন্টোর সাংস্কৃতিক অঙ্গনের সবাই যেন একসাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করেন এই আন্তরিক আহবানটি পুনর্ব্যক্ত করেন আহকাম। সবশেষে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও সৈয়দ শামসুল হক থেকে দুটি কবিতা আবৃত্তি করে আহকাম উল্লাহ তাঁর আন্তচেতনা ও আন্তপ্রেরণার মূল দর্শনটি উচ্চারণ করেন। সমাপনী সঙ্গীতে দ্বৈতভাবে কণ্ঠ দেন ফারহানা শান্তা ও মৈত্রেয়ী দেবী। অনুষ্ঠানটির সার্বিক সহযোগিতায় ছিলেন ব্যারিস্টার রিজওয়ান রহমান।
অনুষ্ঠান শেষে আহকাম উল্লাহর সম্মানে বাচনিকের পক্ষ থেকে কেক কাটেন আহকাম উল্লাহ, মেরী রাশেদীন ও বাচনিক সদস্যবৃন্দ। প্রবাস জীবনের স্বল্প সময়ের নানান ব্যস্ততায়, নানান প্রতিক‚লতা সত্তে¡ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের প্রতিটি সদস্য যেভাবে আমাদের দেশ, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা রক্ষায়, অসা¤প্রদায়িক বাংলাদেশের স্বপ্নে, হাজার বছরের বাঙালি সংস্কৃতির ঐতিহ্যকে সমুন্নত রাখতে সব ভেদাভেদ ভুলে, নানান সংগঠনের ভিন্নতার আত্মকেন্দ্রিকতা ভুলে একই মঞ্চে যেভাবে কাজ করে যাচ্ছেন, তা দেখে সংস্কৃতি সচেতন প্রতিটি প্রবাসী আশাবাদ ব্যক্ত করেন। আর এই বৈশিষ্ট্যের কারণেই বাংলাদেশের বাইরে সারা বিশ্বের বাঙালিদের কাছে টরন্টো শহর বাঙালি সংস্কৃতির চর্চার এক উল্লেখযোগ্য স্থান হিসেবে আজ উদাহরণ সৃষ্টি করেছে। এসবই সম্ভব হয়েছে সব ভেদাভেদ ভুলে টরন্টোর সাংস্কৃতিক অঙ্গনের সকল সদস্যের আপ্রাণ চেষ্টা ও গভীর অভিনিবেশ সহকারে সাধনার ফলশ্রুতিতে।