অনলাইন ডেস্ক : ইরানের শীর্ষ জাতীয় নিরাপত্তা কর্মকর্তা ও বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ আলি লারিজানি হত্যার ঘটনায় দেশজুড়ে শোক ও উত্তেজনার পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে ২৮ ফেব্রুয়ারি সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুর পর এই ঘটনাকে ইরানের জন্য আরেকটি বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে। রাজধানী তেহরানে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে এবং রাজনৈতিক অঙ্গনে অনিশ্চয়তা বেড়েছে।

ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল (এসএনএসসি)-এর প্রধান এবং দেশটির অন্যতম প্রভাবশালী নেতা আলী লারিজানি ইসরায়েলি বিমান হামলায় নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) ইরান সরকারিভাবে তার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করে। দীর্ঘদিন ধরে তিনি ইরানের ক্ষমতার কেন্দ্রে থেকে পররাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষা নীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছিলেন।

ঘটনাটি ঘটে সোমবার (১৬ মার্চ) দিবাগত রাতে, তেহরানের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের পারদিস এলাকায়। সেখানে লারিজানির মেয়ের বাসাকে লক্ষ্য করে ইসরায়েল একটি সুনির্দিষ্ট বিমান হামলা চালায়। ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ দাবি করেন, ইরানের নেতৃত্ব কাঠামোকে দুর্বল করা এবং তাদের প্রতিরক্ষা সক্ষমতায় আঘাত হানাই ছিল এই হামলার উদ্দেশ্য।

ইরানের নিরাপত্তা কাউন্সিলের শোকবার্তায় জানানো হয়, “শত্রুর কাপুরুষোচিত হামলায় ডা. আলী লারিজানি শাহাদাত বরণ করেছেন।” হামলায় শুধু লারিজানিই নন, তার ছেলে মোর্তেজা লারিজানি, নিরাপত্তা সহকারী আলীরেজা বায়াত এবং কয়েকজন দেহরক্ষীও নিহত হন।

একই রাতে চালানো পৃথক হামলায় ইরানের আধাসামরিক বাহিনী বাসিজের প্রধান গোলামরেজা সোলাইমানিও নিহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। এতে করে ইরানের নিরাপত্তা কাঠামোয় বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

লারিজানির মৃত্যুকে “অপূরণীয় ক্ষতি” হিসেবে উল্লেখ করেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেকশিয়ান। অন্যদিকে সেনাপ্রধান মেজর জেনারেল আমির হাতামি কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, এই হত্যার জবাবে “চূড়ান্ত ও অনুতাপ সৃষ্টিকারী” প্রতিশোধ নেওয়া হবে।

আলী লারিজানি কেবল নিরাপত্তা প্রধানই ছিলেন না; তিনি ২০০৮ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়া তিনি ইরানের পরমাণু কর্মসূচি সংক্রান্ত আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ মধ্যস্থতাকারী ছিলেন। তাকে দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি ও আন্তর্জাতিক কূটনীতির মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ সেতুবন্ধন হিসেবে দেখা হতো।

বিশ্লেষকদের মতে, এই হত্যাকাণ্ড মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। ইরানের প্রতিশোধের ঘোষণা এবং নেতৃত্বে শূন্যতা—দুই মিলিয়ে অঞ্চলজুড়ে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

আলী লারিজানির মৃত্যু ইরানের জন্য শুধু একজন শীর্ষ কর্মকর্তাকে হারানো নয়, বরং এটি একটি রাজনৈতিক যুগের অবসানের ইঙ্গিত দিচ্ছে। এমন এক সংকটময় সময়ে এই ঘটনা ঘটল, যখন দেশটি ইতোমধ্যেই বড় ধরনের নেতৃত্বগত ও নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। তার জানাজা বুধবার তেহরানে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

তথ্যসূত্র : আল-জাজিরা