Home আন্তর্জাতিক ইরানের বিপ্লবী গার্ডকে ‘সন্ত্রাসী গোষ্ঠী’ হিসেবে তালিকাভুক্ত করছে ইইউ

ইরানের বিপ্লবী গার্ডকে ‘সন্ত্রাসী গোষ্ঠী’ হিসেবে তালিকাভুক্ত করছে ইইউ

অনলাইন ডেস্ক : ইরানের সামরিক বাহিনীর অভিজাত শাখা- ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-কে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। এই সিদ্ধান্তের ফলে আইআরজিসিকে এখন থেকে আল-কায়েদা ও ইসলামিক স্টেট (আইএস)-এর মতো আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠনের সমপর্যায় হিসেবে গণ্য করা হবে।

বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) ব্রাসেলসে এক বৈঠকে এ বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছেছেন ইইউ পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা। যদিও এই পদক্ষেপ বাস্তবায়নের জন্য ইইউর ২৭টি সদস্য রাষ্ট্রের সর্বসম্মত অনুমোদন প্রয়োজন হবে।

দীর্ঘদিন ধরেই ফ্রান্স ও জার্মানির মতো দেশগুলো কূটনৈতিক সম্পর্ক বজায় রাখার স্বার্থে ইরানের সঙ্গে যোগাযোগ খোলা রাখার কারণে আইআরজিসিকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত করতে দ্বিধা করছিল। কিন্তু ইরানে চলমান বিক্ষোভকারীদের ওপর নির্বিচার দমন, গণহারে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় ইউরোপীয় দেশগুলোর ধৈর্যচ্যুতি ঘটে এবং তারা এই সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়।

ইইউর পররাষ্ট্রনীতিবিষয়ক প্রধান কাজা কালাস ব্রাসেলসে সাংবাদিকদের বলেন, গত মাসে অর্থনৈতিক মন্দার প্রতিবাদে শুরু হওয়া আন্দোলনে বিক্ষোভকারীদের ওপর নৃশংস দমন-পীড়নের সময় ছয় হাজারের বেশি মানুষকে হত্যা করার পর ইউরোপীয় ইউনিয়ন আইআরজিসিকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত করা সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছে।

এস্তোনিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী কালাস আরও বলেন, ‘আপনি যদি সন্ত্রাসীদের মতো আচরণ করেন, তবে আপনাকে সন্ত্রাসী হিসেবেই গণ্য করা উচিত। এটি স্পষ্ট বার্তা দেবে যে আপনি যদি মানুষকে দমন করেন, তাহলে এর মূল্য দিতে হবে এবং এর জন্য আপনাকে শাস্তি দেওয়া হবে।’

এদিকে র্দীঘদিন ধরে আইআরজিসিকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত করার বিরোধিতা করেছিল ফ্রান্স। কারণ তারা আশঙ্কা করেছিল, এটি ইরানে আটক ফরাসি নাগরিকদের পাশাপাশি কূটনৈতিক মিশনগুলোকেও বিপদে ফেলবে। তবে ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর কার্যালয় ইঙ্গিত দিয়েছে প্যারিস এই সিদ্ধান্তকে সমর্থন করেছে।

বৃহস্পতিবার ব্রাসেলসে পররাষ্ট্র বিষয়ক কাউন্সিলের সামনে ফরাসি পররাষ্ট্রমন্ত্রী জিন-নোয়েল ব্যারোট বলেন, ফ্রান্স ইরানের ওপর আরও নিষেধাজ্ঞা এবং তালিকাভুক্তিকে সমর্থন করে কারণ সংঘটিত অপরাধের জন্য কোনও দায়মুক্তি থাকতে পারে না।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, আইআরজিসিকে সন্ত্রাসী তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার পাশাপাশি ইরানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীসহ ২১ জন ইরানি কর্মকর্তা ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে যাচ্ছে ইইউ। নিষেধাজ্ঞার ফলে এই ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলোর ইউরোপে থাকা সব সম্পদ বাজেয়াপ্ত এবং ইইউ-ভুক্ত রাষ্ট্রগুলোতে তাদের প্রবেশাধিকার নিষিদ্ধ করা হবে।

উল্লেখ্য, ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পস বা বিপ্লবী গার্ড বাহিনী- ইরানের সামরিক বাহিনীর সবচেয়ে শক্তিশালী শাখা এবং দেশটির রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক কাঠামোর একটি স্তম্ভ হিসেবে পরিচিত। ১৯৭৯ সালে আয়াতুল্লাহ খোমেনি ইসলামী বিপ্লব রক্ষার জন্য প্রতিষ্ঠিত করেন এই বাহিনী। এটি নিয়মিত সেনাবাহিনী থেকে স্বাধীনভাবে কাজ করে এবং শুধুমাত্র সর্বোচ্চ নেতার আদেশ পালন করে।

সূত্র: রয়টার্স