অনলাইন ডেস্ক : পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে শুক্রবার একটি শিয়া মসজিদে আত্মঘাতী বোমা হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে অন্তত ৩১ জনে দাঁড়িয়েছে বলে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। পুলিশের একটি সূত্র জানায়, এতে আহত হয়েছেন ১৩০ জনেরও বেশি।

শহর প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানান, ইসলামাবাদের উপকণ্ঠের তারলাই এলাকায় অবস্থিত ইমাম বারগাহ কাসর-ই-খাদিজাতুল কুবরা মসজিদে বিস্ফোরণে ‘৩১ জন নিহত হয়েছেন’।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক জ্যেষ্ঠ পুলিশ কর্মকর্তা এএফপিকে জানান, শুক্রবারের নামাজের পরপরই বিস্ফোরণটি ঘটে—যে সময়ে দেশজুড়ে মসজিদগুলো মুসল্লিতে পরিপূর্ণ থাকে।

তিনি বলেন, হতাহতের সংখ্যা ‘আরো বাড়তে পারে’।

একটি নিরাপত্তা সূত্রও এএফপিকে জানায়, ‘হামলাকারীকে মসজিদের ফটকে থামানো হয়েছিল। এরপরই সে বিস্ফোরণ ঘটায়।’

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফ হামলার নিন্দা জানিয়ে বলেন, এর পেছনে যারা রয়েছে তাদের খুঁজে বের করে বিচারের আওতায় আনা হবে।

উপপ্রধানমন্ত্রী ইসহা দার হামলাটিকে ‘মানবতার বিরুদ্ধে একটি জঘন্য অপরাধ এবং ইসলামী নীতিমালার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন’ বলে আখ্যা দেন।

এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, ‘সন্ত্রাসবাদের সব রূপের বিরুদ্ধে পাকিস্তান ঐক্যবদ্ধ।’

হামলার দায় তাৎক্ষণিকভাবে কোনো গোষ্ঠী স্বীকার করেনি। এমন এক সময়ে এই হামলা ঘটল, যখন আফগানিস্তান সীমান্তবর্তী দেশের দক্ষিণ ও উত্তরাঞ্চলীয় প্রদেশগুলোতে ক্রমবর্ধমান বিদ্রোহ দমনে পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনী লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে।

পাকিস্তান সুন্নি-অধ্যুষিত দেশ হলেও শিয়া জনগোষ্ঠী মোট জনসংখ্যার প্রায় ১০ থেকে ১৫ শতাংশ। অতীতে এই অঞ্চলে শিয়ারা একাধিকবার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছেন।