অনলাইন ডেস্ক : মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শান্তি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে গাজা উপত্যকার শাসনব্যবস্থা তদারকির দায়িত্ব নিয়েছে ‘বোর্ড অব পিস’। চলতি মাসের ১৯ ফেব্রুয়ারি ওয়াশিংটন ডিসিতে প্রথম বৈঠকে বসতে যাচ্ছে ‘বোর্ড অব পিস’। অনলাইন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস এ তথ্য জানিয়েছে।
শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) অ্যাক্সিওস এক মার্কিন কর্মকর্তা এবং বোর্ডের সদস্যভুক্ত চারটি দেশের কূটনীতিকদের উদ্ধৃত করে জানিয়েছে, ১৯ ফেব্রুয়ারি বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে এই পরিকল্পনার তারিখ এখনো চূড়ান্ত নয়। তারিখ পরিবর্তন হতে পারে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, এই বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর হোয়াইট হাউসে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে নির্ধারিত বৈঠকের পরেরদিন।
অ্যাক্সিওস উল্লেখ করেছে, নেতানিয়াহু যদি বোর্ড অব পিসের বৈঠকে অংশ নেন, তাহলে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর গাজায় যুদ্ধ শুরুর পর এটিই হবে তার প্রথমবারের মতো আরব ও মুসলিম নেতাদের সঙ্গে কোনো বৈঠক।
এ বিষয়ে হোয়াইট হাউস এবং মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর কোনো মন্তব্য করেনি।
সমালোচকরা ট্রাম্পের এই শান্তি বোর্ডকে একটি ঔপনিবেশিক প্রশাসনিক কাঠামোর সঙ্গে তুলনা করেছেন। সমালোচকরা অভিযোগ করেছেন যে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট জাতিসংঘকে সরিয়ে নিজের পছন্দমতো একটি আন্তর্জাতিক সংস্থা গড়ে তুলতে চান।
গাজায় যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) গ্রেফতারি পরোয়ানা বোর্ডের সদস্য হিসেবে ট্রাম্প প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। এছাড়া ইরাক আগ্রাসনে যুক্তরাষ্ট্রকে সমর্থন দেওয়ার জন্য সমালোচিত যুক্তরাজ্যের সাবেক প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ার এ বোর্ডে রয়েছেন।
ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন, এই বোর্ড ভবিষ্যতে শুধু গাজা নয় বরং বিশ্বের অন্যান্য সংঘাত নিরসনেও ভূমিকা রাখতে পারবে। জাতিসংঘের মতো প্রচলিত আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক কাঠামোর অধীনে এ বোর্ড কাজ করবে।
ট্রাম্প ও তার ঘনিষ্ঠ সহযোগীরা বিশেষ করে তার জামাতা জ্যারেড কুশনার গাজাকে ভবিষ্যতে প্রযুক্তি উদ্ভাবন, রিয়েল এস্টেট উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক বিনিয়োগের কেন্দ্র হিসেবে দেখার কথা বলেছেন।
তবে সমালোচকদের মতে, এতে ফিলিস্তিনিদের রাজনৈতিক অবস্থান, আইনগত অধিকার এবং ইসরায়েলি বাহিনীর যুদ্ধাপরাধের জবাবদিহিতা প্রায় উপেক্ষিত থেকে গেছে।






