Home কানাডা খবর কানাডা ইমিগ্রেশন বিভাগের ভুলে বিপাকে শত শত আফগান শরনার্থী প্রার্থী

কানাডা ইমিগ্রেশন বিভাগের ভুলে বিপাকে শত শত আফগান শরনার্থী প্রার্থী

অনলাইন ডেস্ক : আফগানিস্তান ছেড়ে কানাডা যাওয়ার জন্য উন্মুখ হয়ে আছেন আফগান সহায়তা কর্মী মোহাম্মদ (পুরো নাম বলতে অনিচ্ছুক)। সে লক্ষ্যে তিনি কানাডা ইমিগ্রেশন বিভাগে দরখাস্তও করেছেন। তালেবানদের ভয়ে আফগানিস্তানে আজ এখানে কাল সেখানে পালিয়ে বেড়ানো মোহাম্মদ প্রতি দিনই তার মোবাইল ফোনে কয়েকবার ই-মেইল চেক করেন কানাডা ইমিগ্রেশন বিভাগ থেকে কোন ম্যাসেজ এসেছে কিনা তা দেখার জন্য। গত ১৭ আগস্ট থেকে এভাবে চলছে তার প্রতীক্ষার প্রহর গোনা। স¤প্রতি ই-মেইলে কানাডা ইমিগ্রেশনের এক কর্মকর্তার ইতিবাচক রিপ্লাই পেয়ে তিনি খুশিতে আত্মহারা হয়ে পড়েন। মনে মনে ভাবেন অবশেষে দুঃসহ জীবনের অবসান হতে চলেছে। কিন্তু শিগগিরই তার আনন্দ পরিণত হয় বিষাদে। তিনি আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। কেননা তিনিসহ প্রায় ২০০ আবেদনকারীকে পাঠানো ওই বার্তা ভাইরাল হয়ে যাওয়ায় তাদের সব তথ্য এখন সবার জন্য উন্মুক্ত। এমনকি তাদের ছবিও ব্যক্তিগত ফোন নম্বরও এখন যে কেউ দেখতে পারবে। কানাডা ইমিগ্রেশন বিভাগের ভুলের কারণে এমনটা হয়েছে বলে জানা গেছে। আফগানিস্তানে পালিয়ে থাকা এই লোকগুলো এখন যে কোন মুহূর্তে তালেবানদের হাতে ধরা পড়ে প্রাণ হারানোর আঙঙ্কে দিন কাটাচ্ছে।

আগস্টে আফগানিস্তানে তালেবান নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার আগে মোহাম্মদ সেখানে মার্কিন নিয়ন্ত্রনাধীন ন্যাটো বাহিনীকে সহায়তা করতো। তালেবানদের দৃষ্টিতে এরা ‘রাষ্ট্রদ্রোহী’। এদের একমাত্র শাস্তি ‘শিরচ্ছেদ’। মোহাম্মদ বলেন, মৃত্যু পরোয়ানা মাথায় নিয়ে আমরা এখানে পালিয়ে আছি। এখন আমাদের ছবি ও ব্যক্তিগত তথ্য তালেবানদের হাতে পড়লে কীভাবে আমরা তাদের হাত থেকে বাঁচব। কানাডা ইমিগ্রেশন বিভাগ কেমন করে এত বড় একটা ভুল করল?

এদিকে ভুলের দায় স্বীকার করে দুঃখ প্রকাশ করেছে ইমিগ্রেশন কানাডা। গত বৃহস্পতিবার ইমিগ্রেশন, রিফিউজিস অ্যান্ড সিটিজেনশিপ দফতরের পরিচালক অ্যানি টারমেল এক বার্তায় বলেন, আবেদনকারীদের ব্যক্তিগত তথ্য ভাইরাল হওয়ার ঘটনা দুঃখজনক। আমরা এর জন্য আন্তরিক দুঃখ প্রকাশ করছি এবং ভবিষ্যতে আর এমনটা হবে না বলে নিশ্চয়তা দিচ্ছি। তিনি আরো বলেন, আসলে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে এত বেশি সংখ্যক আবেদনের জবাব দিতে হচ্ছে যা সামাল দেয়া সত্যিই কঠিন। এক সাথে অনেকের আবেদনের জবাব ই-মেইলে সিসি করতে গিয়ে এই দুঃখজনক ঘটনাটি ঘটে গেছে।

এদিকে বিরোধী কনজারভেটিভ দলের নেতা জশরাজ সিং হাল্লান এই অমার্জনীয় ভুলের জন্য দায়িদের বিচারের আওতায় আনার দাবি জানিয়ে বলেছেন, বিষয়টি তদন্তের জন্য যথাযথ পদক্ষেপ নেয়া হোক।

Exit mobile version