অনলাইন ডেস্ক : পবিত্র কোরআন শরিফ ছুঁয়ে শপথ নিয়ে নিউ ইয়র্ক সিটির ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায় সূচনা করলেন প্রথম মুসলিম মেয়র ৩৪ বছর বয়সী জোহরান মামদানি। নিউইয়র্ক সিটির ইতিহাসে এর আগে কোনো মেয়রই কোরআনে ছুঁয়ে শপথ পাঠ করেননি।
সাধারণত নিউ ইয়র্কের মেয়ররা বাইবেলে হাত রেখে শপথ নিলেও, মামদানি দুইটি কোরআনে হাত রেখে শপথ গ্রহণ করেন। এর মধ্যে একটি তার দাদার ব্যক্তিগত কোরআন এবং অন্যটি নিউ ইয়র্ক পাবলিক লাইব্রেরির সংগ্রহ থেকে নেওয়া একটি প্রাচীন পকেট-আকারের কোরআন।
শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানের স্থান নির্বাচনেও ছিল চমক। সিটি হলের নিচে দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা একটি সাবওয়ে স্টেশনে এই অনুষ্ঠান আয়োজিত হয়। শপথ পাঠের সময় মামদানির পাশে ছিলেন তার স্ত্রী রামা দুয়াজি।
স্টেশনটি আমেরিকার গিল্ডেড এজ বা সমৃদ্ধির যুগে তৈরি করা হয়েছিল। ১৯০৪ সালে নিউইয়র্কে প্রথম চালু হওয়া ২৮টি স্টেশনের একটি এই স্টেশন। পরে ১৯৪৫ সালে আধুনিকায়নের সময় স্টেশনটি বন্ধ করে দেওয়া হয়। ১৯৭৯ সালে এটিকে নিউইয়র্কের ল্যান্ডমার্ক এবং ২০০৪ সালে জাতীয় ঐতিহাসিক স্থানের স্বীকৃতি দেওয়া হয়। প্রতীকীভাবে একটি নতুন যুগের সূচনা বোঝাতেই শপথ নেওয়ার জন্য এ ব্যতিক্রমী জায়গা বেছে নিয়েছেন বলে জানান মামদানি। সাবওয়ে স্টেশনে নতুন মেয়র জোহরান মামদানিকে শপথবাক্য পাঠ করান নিউইয়র্কের অ্যাটর্নি জেনারেল লেটিসিয়া জেমস।
শপথে ব্যবহৃত প্রাচীন কোরআনটি মূলত নিউ ইয়র্ক পাবলিক লাইব্রেরির ‘শোমবার্গ সেন্টার ফর রিসার্চ ইন ব্ল্যাক কালচার’-এর সংগ্রহ থেকে আনা হয়েছিল। বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি ১৮শ শতকের শেষভাগ বা ১৯শ শতকের শুরুর দিকের অটোমান আমলের একটি পাণ্ডুলিপি। ধারণা করা হয়, এটি বর্তমান সিরিয়া, ফিলিস্তিন বা জর্ডান অঞ্চলের কোনো এক জায়গায় তৈরি হয়েছিল। শপথের পর এটি পুনরায় জনসাধারণের প্রদর্শনের জন্য লাইব্রেরিতে রাখা হবে।
