অনলাইন ডেস্ক : ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ৫৯ দশমিক ৪৪ শতাংশ ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন আর সাংবিধানিক গণভোটে ৬০ দশমিক ০৪ শতাংশ ভোট পড়েছে বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। বৃহস্পতিবার ভোটগ্রহণ শেষে শুক্রবার কমিশন আনুষ্ঠানিকভাবে এ তথ্য প্রকাশ করে।

এর আগে বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৭টা থেকে সারা দেশের ২৯৯টি সংসদীয় আসনে একযোগে ভোটগ্রহণ শুরু হয়। বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে ভোটগ্রহণ চলে।

নির্বাচন কমিশন জানায়, গনভোটে মোট ভোট পড়েছে ৭ কোটি ৬ লাখ ৪০ হাজার ৫৬টি। যা মোট ভোটের প্রায় ৬০ দশমিক ০৪ শতাংশ পড়েছে। এর মধ্যে হ্যাঁ ভোট পড়েছে ৪ কোটি ৮০ লাখ ৭৪ হাজার ৪২৭ ভোট। আর না ভোট পড়েছে ২ কোটি ২৫ লাখ ৬৫ হাজার ৬২৭ ভোট।

ভোটাররা উৎসবমুখর পরিবেশে দল বেঁধে কেন্দ্রে এসে ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। নির্বাচন শেষে তাৎক্ষণিকভাবে ভোট গণনা শুরু হয় এবং রাতে রিটার্নিং কর্মকর্তারা জেলা ও কেন্দ্র থেকে ফলাফল ইসিতে পাঠাতে থাকেন।

বৃহস্পতিবার রাতেই নির্বাচন কমিশন আংশিক ফলাফল ঘোষণা শুরু করে। গভীর রাত থেকে চূড়ান্ত বেসরকারি ফলাফল প্রকাশ করা হয়। দেশি-বিদেশি গণমাধ্যম, রাজনৈতিক নেতা এবং পর্যবেক্ষকদের উপস্থিতিতে ফলাফল ঘোষণা করা হয়। শুক্রবার বেলা ১১টার দিকে রাজধানীর আগারগাঁও নির্বাচন ভবনে ফলাফল সংগ্রহ ও পরিবেশন কেন্দ্রে ২৯৭টি আসনের ফলাফল ঘোষণা শেষ করেন ইসি সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ।

ইসি ঘোষিত বেসরকারি ফলাফল অনুযায়ী, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) দুই শতাধিক আসনে জয়লাভ করেছে। তবে শেরপুর-৩ আসনে জামায়াতে ইসলামীর একজন প্রার্থীর মৃত্যুর কারণে নির্বাচন বাতিল করা হয়েছে। এছাড়া চট্টগ্রাম-২ ও চট্টগ্রাম-৪ আসনে বিজয়ী প্রার্থীদের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা থাকায় ওই দুই আসনের ফলাফল স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেয় কমিশন।

বৃহস্পতিবার রাতে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন বলেন, দেশের নির্বাচনের ইতিহাসে যে কোনো মানদণ্ডে এবারের নির্বাচন ভালো হয়েছে। তার মতে, ভোটগ্রহণ শান্তিপূর্ণ ও অংশগ্রহণমূলক পরিবেশে সম্পন্ন হয়েছে।

গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়ী হলে আগামী জাতীয় সংসদ হবে দ্বিকক্ষবিশিষ্ট। জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলগুলোর প্রাপ্ত ভোটের অনুপাতে (পিআর পদ্ধতি) ১০০ সদস্যবিশিষ্ট একটি উচ্চকক্ষ গঠন করা হবে। সংবিধান সংশোধনের ক্ষেত্রে উচ্চকক্ষের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের অনুমোদন বাধ্যতামূলক হবে।

গণভোটে চারটি মূল বিষয়ের ওপর একটি প্রশ্ন রাখা হয়। বিষয়গুলো হলো—

ক. নির্বাচনকালীন সময়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকার, নির্বাচন কমিশন ও অন্যান্য সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান জুলাই সনদে বর্ণিত প্রক্রিয়ায় গঠন করা হবে।
খ. আগামী সংসদ হবে দুই কক্ষবিশিষ্ট; উচ্চকক্ষে ১০০ সদস্য থাকবে এবং সংবিধান সংশোধনে তাদের অনুমোদন প্রয়োজন হবে।

গ. সংসদে নারীর প্রতিনিধিত্ব বৃদ্ধি, বিরোধী দলের ভূমিকা জোরদার, প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ সীমা, রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা বৃদ্ধি ও মৌলিক অধিকার সম্প্রসারণসহ ৩০টি সংস্কার বাস্তবায়ন।

ঘ. জুলাই সনদে বর্ণিত অন্যান্য সংস্কার রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী বাস্তবায়ন করা।

একটি প্রশ্নে ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ ভোটের মাধ্যমে জনগণ এসব বিষয়ে তাদের মতামত প্রদান করেন। এতে হ্যাঁ ভোট বিজয়ী হয়।