অনলাইন ডেস্ক : গ্রিনল্যান্ডের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠায় যুক্তরাষ্ট্রের চেষ্টার মধ্যেই ন্যাটোর মিত্র ডেনমার্কের পাশে দাঁড়াল কানাডা ও ফ্রান্স। শুক্রবার গ্রিনল্যান্ডের রাজধানী নুকে আনুষ্ঠানিকভাবে নিজেদের কনস্যুলেট বা কূটনৈতিক কার্যালয় চালু করেছে দেশ দুটি। আধা স্বায়ত্তশাসিত এই ডেনিশ ভূখণ্ডে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব বিস্তারের বিপরীতে কানাডা ও ফ্রান্সের এই পদক্ষেপকে ডেনমার্কের প্রতি স্পষ্ট সমর্থন হিসেবেই দেখা হচ্ছে। খবর দ্য গার্ডিয়ানের।

শুক্রবার কনস্যুলেট উদ্বোধনের জন্য নুকে পৌঁছান কানাডার পররাষ্ট্রমন্ত্রী অনিতা আনন্দ। তার সঙ্গে ছিলেন কানাডার আদিবাসী গভর্নর জেনারেল মেরি সাইমন। অন্যদিকে ফ্রান্সের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, জঁ-নোয়েল পোরিয়র সেখানে কনসাল জেনারেল হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। এর মাধ্যমে ফ্রান্স ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) প্রথম দেশ হিসেবে গ্রিনল্যান্ডে স্থায়ী কূটনৈতিক মিশন স্থাপন করল।

কানাডার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই কনস্যুলেট কেবল রাজনৈতিক উপস্থিতি নয়, বরং জলবায়ু সংকট মোকাবিলা এবং ইনুইট জনগোষ্ঠীর অধিকার রক্ষায় পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়াতে ভূমিকা রাখবে। ডেনমার্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী লার্স লোকে রাসমুসেনের সঙ্গে বৈঠকের পর অনিতা আনন্দ বলেন, ‘আর্কটিক অঞ্চলের দেশ হিসেবে কানাডা ও ডেনমার্ক ওই অঞ্চলের স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিতে একসঙ্গে কাজ করছে।’

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত জানুয়ারিতে গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে ডেনমার্কসহ ইউরোপের আটটি দেশের ওপর নতুন শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছিলেন। খনিজ সম্পদে সমৃদ্ধ এই দ্বীপটির নিয়ন্ত্রণ নিতে চায় যুক্তরাষ্ট্র। তবে ন্যাটোর সেক্রেটারি জেনারেল মার্ক রুটের মধ্যস্থতায় একটি ‘কাঠামো’ বা সমঝোতায় পৌঁছানোর পর ট্রাম্প আপাতত সেই হুমকি থেকে সরে এসেছেন। যদিও সেই চুক্তির বিস্তারিত এখনও প্রকাশ করা হয়নি।

গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র, ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের মধ্যে আর্কটিক নিরাপত্তা চুক্তি নিয়ে কারিগরি আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে ট্রাম্পের শুল্ক হুমকির আগেই যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর সঙ্গে বৈঠকে ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ড একটি ওয়ার্কিং গ্রুপ বা কর্মদল গঠনে সম্মত হয়েছিল।

ফ্রান্স জানিয়েছে, গত জুনে প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রনের সফরের সময়েই গ্রিনল্যান্ডে কূটনৈতিক অফিস খোলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। আর কানাডা ২০২৪ সালেই এই প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, যা আবহাওয়াজনিত কারণে পিছিয়ে শুক্রবার বাস্তবায়িত হলো।