অনলাইন ডেস্ক : দক্ষিণ আমেরিকার দেশ পেরু আবারও রাজনৈতিক ভূমিকম্পের মুখে। ক্ষমতা গ্রহণের মাত্র চার মাসের মাথায় অভিশংসনের মাধ্যমে অপসারিত হয়েছেন অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট হোসে জেরি।

চীনা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে সরকারি সূচির বাইরে গোপন বৈঠকের তথ্য ফাঁস হওয়ার পর মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) কংগ্রেসে ৭৫–২৪ ভোটে তাকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। গত বছরের অক্টোবরে সাবেক প্রেসিডেন্ট দিনা বোলুয়ার্তে অপসারিত হওয়ার পর দায়িত্ব নিয়েছিলেন জেরি—কিন্তু দুর্নীতির ছায়া এড়াতে পারলেন না তিনিও।

স্থানীয়ভাবে ‘চিফা-গেট’ নামে পরিচিত এই কেলেঙ্কারির সূত্রপাত একটি চীনা-পেরুভিয়ান ফিউশন রেস্টুরেন্টকে ঘিরে। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, গভীর রাতে হুডি পরে প্রেসিডেন্ট জেরি গোপনে বৈঠক করছেন চীনা ব্যবসায়ী ঝিহুয়া ইয়াং-এর সঙ্গে—যিনি তখন সরকারি নজরদারিতে ছিলেন এবং একটি বড় জ্বালানি প্রকল্পে রাষ্ট্রীয় সুবিধা পাচ্ছিলেন।

আরও বিস্ফোরক তথ্য হলো—ওই বৈঠকে এমন এক চীনা নাগরিকও উপস্থিত ছিলেন, যিনি অবৈধ কাঠ পাচারের অভিযোগে গৃহবন্দী ছিলেন। অথচ পেরুর আইন অনুযায়ী প্রেসিডেন্টের সব অফিসিয়াল কার্যক্রম নথিভুক্ত করার বাধ্যবাধকতা থাকলেও এসব বৈঠকের কোনো রেকর্ডই প্রকাশ করেননি জেরি।

এতেই শেষ নয়—অভিযোগ উঠেছে, গভীর রাতে সরকারি প্রাসাদে কয়েকজন নারীর সঙ্গে সাক্ষাতের পর তাদের নামে সরকারি চুক্তি বরাদ্দ দেওয়া হয়। এসব ঘটনায় অ্যাটর্নি জেনারেল দুর্নীতির তদন্ত শুরু করলে চারদিক থেকে চাপে পড়েন প্রেসিডেন্ট।

যদিও জেরি সব অভিযোগকে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র বলে দাবি করে ক্ষমা চান, কিন্তু কংগ্রেস সদস্য রুথ লুক স্পষ্ট ভাষায় বলেন—নাগরিকরা আর হুডি-পরা নেতা ও গোপন স্বার্থের রাজনীতি দেখতে চায় না।

আগামী এপ্রিলে সাধারণ নির্বাচন হওয়ার কথা রয়েছে। এরই মধ্যে নতুন অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট বাছাইয়ের প্রস্তুতি শুরু করেছে কংগ্রেস। তবে বারবার নেতৃত্ব পরিবর্তন আর দুর্নীতির পুনরাবৃত্তি পেরুর গণতান্ত্রিক স্থিতিশীলতাকে ভয়াবহ ঝুঁকির দিকে ঠেলে দিচ্ছে।