অনলাইন ডেস্ক : রেটহাব ডট সিএ-এর (Ratehub.ca) নতুন তথ্য অনুসারে, ২০% ডাউন পেমেন্টসহ টরন্টো বা ভ্যাঙ্কুভারে একটি বাড়ি কিনতে সক্ষম হওয়ার জন্য একজন কানাডিয়ানের ২ লাখ ২০ হাজার ডলারের বেশি বার্ষিক আয় থাকতে হবে। যদিও টরন্টো এবং ভ্যাঙ্কুভারের মতো শহরগুলোতে বাড়ির দাম কমেছে, তবে ক্রেতাদের উপর চাপানো স্ট্রেস টেস্টে ব্যবহৃত সুদের হারের কারণে বর্তমান বাজারে একটি বাড়ি কেনার জন্য প্রয়োজনীয় আয় বেশি থাকতে হচ্ছে; যা ক্রমবর্ধমান বন্ধকী হারের কারণে বেড়েছে।
রেটহাব ডট সিএ বলছে, তারা হিসাব নিরূপণে মার্চ ২০২২ থেকে জুন ২০২২ এর মধ্যকার রিয়েল এস্টেট তথ্যগুলো তুলনা করে দেখেছে। টরন্টোতে বাড়ির ক্রেতারা মার্চের তুলনায় ১৫ হাজার ৭৫০ ডলার বেশি আয় করবে বলে আশা করা হচ্ছে, যা ৭% বেশি। এর বিপরীতে ভ্যাঙ্কুভারে ক্রেতারা ৩১ হাজার ৭৩০ ডলার উপার্জন করবে বলে আশা করা হচ্ছে, যা ১৬% বেশি।
দেশজুড়েই উল্লম্ফন :
কানাডার শহরগুলোতে একটি বাড়ি কেনার জন্য প্রয়োজনীয় বার্ষিক আয় শুধুমাত্র গত চার মাসে গড়ে ১৮ হাজার ডালার বেড়েছে। ভ্যাঙ্কুভার দ্বীপে ভিক্টোরিয়ায় একটি বাড়ির জন্য বার্ষিক আয়ের প্রয়োজনীয়তা মার্চের তুলনায় জুন মাসে সবচেয়ে বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে, যার পরিমান ৩৫ হাজার ৭৬০ ডলার। অর্থাৎ, চার মাসে ২৩% বৃদ্ধি পেয়েছে।
রেটহাব ডট সিএ-এর প্রধান নির্বাহী জেমস লেয়ার্ড এক বিবৃতিতে বলেছেন, স্ট্রেস টেস্টে ক্রমবর্ধমান বন্ধকী হারের প্রভাবকে প্রশমিত করার জন্য বাড়ির দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমাতে হবে। এটি না ঘটলে বর্তমান ক্রমবর্ধমান হারের যে ধারা চলছে তার দ্বারা বাড়ির ক্রয়ক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে প্রভাবিত হতে থাকবে।
কানাডিয়ান হাউজিং অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুসারে, সা¤প্রতিক মাসগুলোতে দ্রæত ক্রমবর্ধমান সুদের হার কানাডায় বাড়ির দাম কমিয়ে দিয়েছে। মে থেকে জুন মাসে বাড়ির গড় দাম ১ দশমিক ৯ ভাগ কমেছে। জুন মাসে বাড়ির দামে টানা তৃতীয় মাসিক পতন রেকর্ড করা হয়েছে, যা ২০০৫ সালের পর থেকে সর্বোচ্চ।
মূল দরে বৃদ্ধির প্রভাব:
বিএমও ক্যাপিটাল মার্কেটস-এর অর্থনীতিবিদ রবার্ট কাভসিক ১৫ জুলাই একটি চিঠিতে উল্লেখ করেছেন যে, ব্যাংক অফ কানাডা তার মূল সুদের হার ১ শতাংশ পয়েন্ট বৃদ্ধি করার সা¤প্রতিক সিদ্ধান্ত আরও সংশোধনের পথ প্রশস্ত করেছে। রবার্ট কাভসিক বিশ্বাস করেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সুদের হার বৃদ্ধি কানাডার স্ট্রেস টেস্ট নিয়মের অধীনে বন্ধকের জন্য যোগ্যতা অর্জন করা কঠিন করে তুলেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ওই সিদ্ধান্ত বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে প্রাইম রেট বাড়াতে প্ররোচিত করেছিল।
স্ট্রেস টেস্ট হল সর্বোচ্চ সুদের হারের উপর ভিত্তি করে একটি স্ট্রেস টেস্ট, যা বন্ধকী চুক্তির সাথে ২ শতাংশ পয়েন্ট বা ৫ দশমিক ২৫ পার্সেন্ট।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সুদের হার বৃদ্ধির প্রতিক্রিয়ায় ব্যাংক অফ মন্ট্রিল, সিআইবিসি, রয়্যাল ব্যাংক, স্কোটিয়া ব্যাঙ্ক, টিডি ব্যাংক এবং ন্যাশনাল ব্যাংক তাদের প্রাইম রেট ১ শতাংশ পয়েন্ট বাড়িয়ে ৪ দশমিক ৭০ ভাগ করেছে, যা গত সপ্তাহে ছিল ৩ দশমিক ৭০ ভাগ। পাঁচ বছরের স্থির হারগুলো প্রায় ৫% বা সামান্য বেশি হয়ে থাকে।
বেশ কিছু সম্ভাব্য ক্রেতা বর্তমানে সাইডলাইনে রয়েছেন এবং বাড়ির দরের বর্তমান পরিস্থিতি কোন দিকে যায় তা দেখার জন্য অপেক্ষা করছেন। রেটহাব ডট সিএ-এর জেমস লেয়ার্ড বলেছেন, এ কারণেই আমরা প্রধান বাজারগুলোতে লেনদেনের মাত্রায় এত উল্লেখযোগ্য হ্রাস দেখেছি, তবে চাহিদা এখনও রয়েছে।
‘ভাড়ার হার বাড়ছে, ফলে বিনিয়োগকারীর দৃষ্টিকোণ থেকে বাজারকে সমর্থন করা উচিত। জেমস লেয়ার্ড ব্যাখ্যা করেছেন যে, প্রথমবারের ক্রেতারা সর্বদা বাজারে আসতে চায় এবং অনেক নতুন কানাডিয়ান দেশটিতে আসার সময় একটি বাড়ির মালিকানার বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দেয়।
যদি সুদের হার মাঝারি বা এই স্তরে থাকে তাহলে এই বর্ষায় হয়তো বাড়ি ক্রয়ে মাঝারি মানের অনেক ক্রেতা দেখা যাবে। যদি সুদের হার বাড়তে থাকে, আমি মনে করি লোকেরা সাইডলাইনে অপেক্ষা করতে থাকবে, বলেন লেয়ার্ড। সূত্র : রেডিও কানাডা
