অনলাইন ডেস্ক : গত শনিবার থেকে সোমবার—এই তিন দিনে স্মরণকালের ভয়াবহ তুষারঝড়ে যুক্তরাষ্ট্রের ১২টি অঙ্গরাজ্যে অন্তত ৩৬ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। চলমান তীব্র শীতের মধ্যেই মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) দেশটির আরও ১৫টি অঙ্গরাজ্যে নতুন করে বিশেষ সতর্কতা জারি করেছে স্থানীয় প্রশাসন।

নতুন সতর্কতা অনুযায়ী জাতীয় আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, আগামী শনিবার ও রবিবার আরও একটি শক্তিশালী শৈত্যপ্রবাহ আঘাত হানতে পারে ফ্লোরিডা, জর্জিয়া, আলাবামা, টেক্সাস, ভার্জিনিয়া, নর্থ ও সাউথ ক্যারোলিনা, ইন্ডিয়ানা, কেন্টাকি, ওহাইও, পেনসিলভেনিয়া, লুইজিয়ানা, মিসিসিপি, নিউ মেক্সিকো, ম্যারিল্যান্ড ও আলাস্কা অঙ্গরাজ্যে।

আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী নিউইয়র্ক, কানেকটিকাট, ম্যাসাচুসেটস, রোড আইল্যান্ড, নিউ হ্যাম্পশায়ার, মেইন ও মিসিসিপির বিস্তীর্ণ অঞ্চলে হিমাঙ্কের অনেক নিচ দিয়ে হিমেল বাতাস প্রবাহিত হচ্ছে। ফলে গত চার দিন ধরে জনজীবন চরমভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।

সড়ক ও মহাসড়ক কিছুটা যান চলাচলের উপযোগী করা হলেও আবাসিক এলাকার অধিকাংশ রাস্তাঘাট এখনো বরফে ঢাকা। তুষারে আটকে থাকা যানবাহন উদ্ধারের সময় সোমবার অন্তত ১২ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে বিভিন্ন স্টেট প্রশাসন। নিহতদের প্রায় সবাই ৫৬ বছরের ঊর্ধ্বে। হাইপোথার্মিয়ায় আক্রান্ত হয়ে মোট মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪২ জনে।

আবহাওয়া বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, গত ৬০ বছরের মধ্যে সংশ্লিষ্ট অঞ্চলগুলোতে এমন ভয়াবহ শীতের প্রকোপ দেখা যায়নি। টেক্সাস, ফ্লোরিডা ও জর্জিয়ার মতো অঙ্গরাজ্যেও এর আগে এমন পরিস্থিতির নজির নেই।

আগামী তুষারঝড়ের প্রভাবে ২২ কোটিরও বেশি মার্কিন নাগরিক ঝুঁকিতে পড়তে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। একটি তুষারপাতের ক্ষতি সামাল দেওয়ার আগেই আরেকটি আঘাত আসায় পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন।

উল্লেখ্য, মিসিসিপিসহ বিভিন্ন অঞ্চলে এখনো ৮ লাখের বেশি মানুষ বিদ্যুৎহীন অবস্থায় রয়েছেন। অনেক এলাকায় সড়কে দেড় ইঞ্চি পর্যন্ত বরফ জমে যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। গাছের ডালে জমে থাকা বরফ ভেঙে পড়ে বিদ্যুৎ লাইনের ওপর, ফলে বিদ্যুৎ সরবরাহে বিঘ্ন ঘটছে।

স্টেট প্রশাসনের তথ্যমতে, গত তিন দিনে ম্যাসাচুসেটস, কানেকটিকাট, নিউইয়র্ক, পেনসিলভেনিয়া, ওয়েস্ট ভার্জিনিয়া, নর্থ ক্যারোলিনা, টেক্সাস, মেইন, মিসিসিপি ও লুইজিয়ানা অঙ্গরাজ্যে কোথাও কোথাও ২০ ইঞ্চি পর্যন্ত তুষারপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

পরিবেশবিদরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবেই এমন চরম ও অস্বাভাবিক আবহাওয়ার সৃষ্টি হচ্ছে, যা ভবিষ্যতে আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।