অনলাইন ডেস্ক : ইরান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের আকাশচুম্বী দাম নিয়ন্ত্রণে আনতে রাশিয়ার ওপর আরোপিত তেল নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে হোয়াইট হাউস। তবে মার্কিন সরকারের এই পদক্ষেপকে ভ্লাদিমির পুতিন ও রাশিয়ার জন্য এক প্রকার ‘পুরস্কার’ হিসেবে অভিহিত করে এর কঠোর সমালোচনা করেছেন টেক্সাসের প্রভাবশালী রিপাবলিকান আইনপ্রণেতা মাইকেল ম্যাককল।
মার্কিন পররাষ্ট্রনীতির অন্যতম অভিজ্ঞ এই কণ্ঠস্বর রোববার ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, “রাশিয়া ইরানের মাধ্যমে আমাদের সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালাতে এবং আমেরিকানদের হত্যা করতে সামরিক গোয়েন্দা তথ্য সরবরাহ করেছে। যারা আমাদের সেনাদের প্রাণের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে, তাদের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়ে পুরস্কৃত করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।”
সম্প্রতি সিএনএন-এর এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। মার্কিন গোয়েন্দা সূত্রের বরাতে জানা গেছে, মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন করা মার্কিন সৈন্য, জাহাজ এবং যুদ্ধবিমানের অবস্থান ও গতিবিধি সংক্রান্ত গোপন তথ্য ইরানকে সরবরাহ করছে ক্রেমলিন।
মূলত ইরান যুদ্ধের কারণে লোহিত সাগরের কৌশলগত হরমুজ প্রণালী অবরুদ্ধ হয়ে পড়ায় বিশ্বজুড়ে তেলের বাজারে চরম অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। বিশ্বের মোট অপরিশোধিত তেলের প্রায় ২০ শতাংশ এই পথ দিয়েই পরিবাহিত হয়। এই সংকটের সুযোগে তেলের দামের লাগাম টেনে ধরতেই ওয়াশিংটন রাশিয়ার ওপর থেকে সাময়িকভাবে নিষেধাজ্ঞা সরিয়ে নেওয়ার কৌশল নিয়েছে।
তবে ম্যাককলের মতে, এই শিথিলতা এখনো বাজারে কোনো ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারেনি। তেলের দাম কমার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। তিনি আরও যোগ করেন, “প্রেসিডেন্ট হয়তো গ্যাসের দাম কমানোর জন্য কিছু করার চেষ্টা করছেন, কিন্তু পুতিনের মতো একজন একনায়ককে এমন সুবিধা দেওয়াটা অত্যন্ত উদ্বেগের। যদিও এটি একটি স্বল্পমেয়াদী ব্যবস্থা, তবুও এর দীর্ঘমেয়াদী রাজনৈতিক প্রভাব ভয়াবহ হতে পারে।






