অনলাইন ডেস্ক : কানাডার ত্রিশতম গভর্ণর জেনারেল হতে যাচ্ছেন আদিবাসী নেতা এবং সাবেক রাষ্ট্রদূত মেরী সিমন। গত ৬ই জুলাই, মঙ্গলবার অটোয়ার পার্লামেন্ট হিল এ এক সংবাদ সম্মেলনে কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো এ তথ্য দেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, মেরী সিমনের পরবর্তী গভর্ণর জেনারেল এর বিষয়ে কানাডার রাষ্ট্রপ্রধান রানী দ্বিতীয় এলিজাবেথ সম্মতি জ্ঞাপন করেছেন।
মেরী সিমন ইতোমধ্যে আর্টিক এবং আদিবাসী ইস্যুতে জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক মহলে সুনাম কুড়িয়েছেন। ইন্যুইটদের অধিকার ও সংস্কৃতি রক্ষায় তিনি একজন বলিষ্ঠ কন্ঠস্বর হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে যাচ্ছে। কুইবেকের নুনাভিকের কানিজিক্সুয়ালুজুয়াকে ১৯৪৭ সালের ২১ আগস্টে জন্ম নেয়া মেরী জেনী মে সিমন সত্তরের দশকে সিবিসি’র একজন রেডিও ব্রোডকাস্টার হিসেবে তাঁর চাকুরী জীবন শুরু করেন। পরবর্তীতে তিনি উত্তর কুইবেকের ইন্যুইট এসোসিয়েশন এবং ইন্যুইট তাপিরিট কানাটামি’র এর বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেন। এই সংগঠনের পক্ষ থেকে কানাডা সরকারের সাথে সর্ব প্রথম আদিবাসীদের ভূমির মালিকানা নিয়ে চুক্তির ব্যাপারে বোঝাপড়া চলছে। মাকিভিক কর্পোরেশন এর প্রেসিডেন্ট থাকা অবস্থায়, তিনি সরাসরি জেমস বে এবং নর্থদার্ণ কুইবেক এগ্রিমেন্ট এর সাথে জড়িত ছিলেন, যাতে ইন্যুইটদের অধিকারের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে।
আদিবাসীদের অধিকার নিয়ে কাজ করতে গিয়ে সিমন ইন্যুইট সারকোম্পোলার কাউন্সিলের নির্বাহী পরিষদে যোগ দেন এবং দু’বার এর প্রেসিডেন্ট হিসেবে কাজ করেন। এছাড়া তিনি নুনাভূত ইম্পেমেন্টেশন কমিশন এর কমিশনার এবং রয়্যাল কমিশন অন এবরোজিন্যাল পিপলস এর পলিসি কো-ডিরেক্টর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
১৯৯৪ থেকে ২০০৩ সাল পর্যন্ত মেরী সিমন সারকোম্পোলার বিষয়ের এম্বেসেডর হিসেবে কাজ করেন। ইনুক আদিবাসীদের মধ্যে তিনি হচ্ছেন প্রথম যিনি যে কোন এম্বেসেডরের দায়িত্ব পালন করেন। ঐ সময়ে তিনি আর্টিক কাউন্সিল গঠনের ব্যাপারে মূখ্য ভূমিকা পালন করেন। তিনি ১৯৯৯ সাল থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত তিনি ডেনমার্কে কানাডার রাষ্ট্রদূত হিসেবে কাজ করেন।
২০০৮ সালে তিনি হাউস অব কমন্স এ ইন্যুইট জাতির পক্ষ থেকে তিনি বক্তৃতা দেন এবং ইন্ডিয়ান আবাসিক স্কুলে আধিবাসী শিক্ষার্থীদের উপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের জন্য কানাডার সরকারকে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানান। তিনি আর্টিক চিলড্রেন এবং ইয়ুথ ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা এবং ২০১৪ সাল পর্যন্ত তিনি ন্যাশনাল কমিটি অন ইন্যুইট এডুকেশন এর চেয়ারপারসন ছিলেন।
২০১৭ সালে মন্ত্রীর বিশেষ প্রতিনিধি হিসেবে ম্যারী সিমন ইন্ডিজিনিয়াস এন্ড নর্থদার্ণ মন্ত্রীর কাছে আর্টিক নেতৃত্বের ধরণ বিষয়ে একটি প্রতিবেদন পেশ করেন যাতে আর্টিক এবং এর জনগণের সার্বিক মঙ্গলের একটি রূপরেখা দেওয়া হয়।
মেরী সিমন তাঁর কর্মের জন্য নানা ধরনের সম্মানে ভূষিত হয়েছে। তিনি অর্ডার অব কানাডা এবং অর্ডার অব কুইবেক এর একজন অফিসার। তিনি গভর্ণর জেনারেল এর নর্থদার্ণ মেডেল এ ভূষিত হয়েছেন। এছাড়াও তিনি গোল্ড অর্ডার অব গ্রীণল্যান্ড, দ্য ন্যাশনাল এবরোজিনাল এচিভমেন্ট, দ্য গোল্ড মেডেল অব দ্য কানাডিয়ান জিওগ্রাফিক্যাল সোসাইটি এবং সাইমন্স মেডেল এ সম্মানিত হয়েছেন।






