অনলাইন ডেস্ক : সুইজারল্যান্ডের ড্যাভোসে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামে দেওয়া নিজের সাহসী ভাষণের পর বিশ্ব রাজনীতিতে এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের সাথে তার সাম্প্রতিক বাদানুবাদ দুই দেশের কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্কে এক নতুন টানাপোড়েন তৈরি করেছে।

গত সপ্তাহে ড্যাভোসে এক ভাষণে মার্ক কার্নি বর্তমান বিশ্ব ব্যবস্থায় এক বিশাল ‘ফাটল’-এর কথা উল্লেখ করেন। তিনি কোনো দেশের নাম সরাসরি না নিলেও স্পষ্টভাবে যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান বৈদেশিক ও অর্থনৈতিক নীতির সমালোচনা করেন। তিনি সতর্ক করে বলেন যে, বিশ্বের মধ্যম শক্তির দেশগুলোকে (যেমন কানাডা) ঐক্যবদ্ধ হতে হবে, যাতে তারা কোনো বৃহৎ শক্তির অর্থনৈতিক জবরদস্তির শিকার না হয়।

তার এই ভাষণ বিশ্ব নেতাদের কাছ থেকে অভাবনীয় প্রশংসা পেলেও হোয়াইট হাউস একে ভালোভাবে নেয়নি। কার্নির এই ভাষণের প্রতিক্রিয়ায় ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের কারণেই কানাডা টিকে আছে।’ তিনি কানাডাকে দেওয়া প্রতিরক্ষা সুবিধা এবং বাণিজ্যের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে কার্নিকে কথা বলার সময় সতর্ক হওয়ার পরামর্শ দেন। এছাড়া, কানাডা যদি চীনের সাথে প্রস্তাবিত নতুন বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত করে, তবে কানাডীয় পণ্যের ওপর ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের হুমকিও দিয়েছেন ট্রাম্প।

নিউ ইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদন অনুসারে, সোমবার দুই নেতার মধ্যে একটি টেলিফোন আলাপ হয়। এরপর যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট দাবি করেন যে, কার্নি ফোনালাপে তার ড্যাভোস ভাষণের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছেন এবং অবস্থান পরিবর্তন করেছেন। তবে মঙ্গলবার অটোয়ায় সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মার্ক কার্নি এই দাবি সরাসরি নাকচ করে দেন। তিনি অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে বলেন, ‘আমি পরিষ্কার করে বলতে চাইÑআমি ড্যাভোসে যা বলেছি, আমি তা-ই বিশ্বাস করি এবং প্রেসিডেন্টকেও আমি সেটাই বলেছি। আমি আমার অবস্থান থেকে এক চুলও সরিনি।’

বিশ্লেষকরা বলছেন, কার্নির এই অনমনীয় অবস্থান কানাডার অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে তার জনপ্রিয়তা বাড়ালেও যুক্তরাষ্ট্রের সাথে আসন্ন বাণিজ্য চুক্তি নবায়নের ক্ষেত্রে বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে। অন্যদিকে, ট্রাম্পের ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতির বিপরীতে কার্নি নিজেকে বিশ্বমঞ্চে মধ্যম শক্তিগুলোর এক বলিষ্ঠ কণ্ঠস্বর হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। মার্কিন প্রশাসনের এই দাবিকে কার্নি সরাসরি ‘মিথ্যা’ বলে অভিহিত করায় ওয়াশিংটন ও অটোয়ার মধ্যে সম্পর্কের ফাটল আরও গভীর হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

সূত্র : নিউইয়র্ক টাইমস।