অনলাইন ডেস্ক : ভারতের লোকসভায় বাজেট পেশ করেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমন।
ভারত ২০২৬-২৭ অর্থবছরে দেশটির কেন্দ্রীয় বাজেটে বাংলাদেশের জন্য ঋণ ও অনুদান খাতে বরাদ্দ উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস করেছে। এ বছর ভারত সরকার বাজেটে বাংলাদেশের জন্য বরাদ্দ দিয়েছে ৬০ কোটি রুপি, যা গত অর্থবছরের ১২০ কোটি রুপির তুলনায় ৫০ শতাংশ কম।
ভারতের ঋণ ও অনুদান বাবদ বিদেশি সহায়তা কর্মসূচিতে কৌশলগত আর্থিক খাত থেকে বাংলাদেশ ছাড়াও বরাবরের মতো অর্থ বরাদ্দ করা হয়েছে আফগানিস্তান, নেপাল, ভুটান মালদ্বীপ, শ্রীলঙ্কা, মরিশাসসহ লাতিন আমেরিকা ও আফ্রিকার একাধিক দেশের জন্য। তবে অর্থ বরাদ্দ রাখা হয়নি ইরান বা ওই দেশটিতে ভারতের নিয়ন্ত্রণাধীন চাবাহার বন্দরের জন্য।
এ বছর ভারতের সহায়তা পাওয়া দেশগুলোর তালিকায় ভুটান শীর্ষস্থানে রয়েছে। এরপর রয়েছে নেপাল, মালদ্বীপ ও শ্রীলঙ্কা। দেশগুলোকে সহায়তা খাতে ভারত এবার বরাদ্দ বাড়িয়ে ৫ হাজার ৬৮৬ কোটি টাকা করেছে, যা গত বছরের বাজেট অনুমানের ৫ হাজার ৪৮৩ কোটি টাকার চেয়ে প্রায় ৪ শতাংশ বেশি।
এনডিটিভির খবরে বলা হয়, ২০২৪ সালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর সংখ্যালঘুদের (বিশেষ করে হিন্দু সম্প্রদায়) ওপর সহিংসতা নিয়ে ক্রমবর্ধমান কূটনৈতিক টানাপোড়েন এবং পাকিস্তানের প্রতি ঢাকার পররাষ্ট্রনীতির উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে ভারত এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
জানা গেছে, নতুন অর্থবছরে বিদেশি সরকারগুলোকে অনুদান ও ঋণ হিসেবে ভারতের বাজেটে মোট ৮ হাজার ৭৯২ কোটি রুপি দেওয়ার প্রস্তাব রাখা হয়েছে। এটি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে প্রস্তাবিত ১২ হাজার ১০৭ কোটি রুপির তুলনায় ২৭ শতাংশ কম। নতুন অর্থবছরের এই মোট সহায়তার মধ্যে ৬ হাজার ৯৯৭ কোটি রুপি আসবে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে এবং অতিরিক্ত ১ হাজার ৭৯৪ কোটি রুপি দেবে অর্থ মন্ত্রণালয়।
বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাজেট প্রস্তাবে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বাংলাদেশের জন্য ১২০ কোটি রুপি অনুদানের প্রস্তাব দিয়েছিল। যদিও সম্পর্কে শীতলতার কারণে পরে সংশোধিত হিসাবের সময় বরাদ্দ কমিয়ে আনা হয়। সংশোধিত হিসাব অনুযায়ী, এই অঙ্ক ছিল ৩৪ কোটি ৪৮ লাখ রুপি। তবে একদিক থেকে ধরলে নির্বাচনমুখী বাংলাদেশের জন্য আবার এই অর্থ বাড়ানো হয়েছে। সে হিসেবে ভারতের নতুন অর্থবছরে বাংলাদেশকে দেওয়া অনুদান সহায়তা ৭৪ শতাংশ বেড়েছে।
বাংলাদেশ ছাড়াও অনুদান বৃদ্ধি পেয়েছে তালেবানশাসিত আফগানিস্তানের ক্ষেত্রেও। দেশটির ক্ষেত্রে ৫০ শতাংশ অনুদান বৃদ্ধি পাচ্ছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সংশোধিত হিসাব অনুযায়ী যেখানে আফগানিস্তান ১০০ কোটি রুপি পাচ্ছিল, সেখানে নতুন অর্থবছরে তারা পাবে ১৫০ কোটি রুপি। এ ছাড়া শ্রীলঙ্কার জন্য জন্য অনুদান ৩৩ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪০০ কোটি রুপি। সেশেলসের জন্য বরাদ্দ বেড়েছে ২৭ শতাংশ, মোট ১৯ কোটি রুপি।
একই সঙ্গে আফ্রিকার দেশগুলোর জন্য ভারত ২২৫ কোটি রুপি, ইউরেশীয় দেশগুলোর জন্য ৩৮ কোটি রুপি এবং লাতিন আমেরিকার দেশগুলোর জন্য ১২০ কোটি রুপি অনুদান বাড়িয়েছে।
যদিও বরাদ্দ কমানো হয়েছে নেপাল, মালদ্বীপ ও মরিশাসের ক্ষেত্রে। এর মধ্যে মরিশাসের বরাদ্দ সবচেয়ে বেশি কমেছে, প্রায় ৩৩ শতাংশ। নতুন অর্থবছরে দেশটি পাবে ৫৫০ কোটি রুপি। মালদ্বীপও পাবে প্রায় একই পরিমাণ, তবে তাদের বরাদ্দ কমেছে ১২ শতাংশ। নেপালের জন্য বরাদ্দ ৪ শতাংশ কমিয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে ৮০০ কোটি রুপি। এ ছাড়া মিয়ানমার ৩০০ কোটি, সেশেলস ১৯ কোটি, মঙ্গোলিয়া অনুদান বাবদ পাবে ২৫ কোটি রুপি।






