অনলাইন ডেস্ক : বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শেষ হয়েছে বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) বিকেল ৪টা ৩০ মিনিটে। পরদিন শুক্রবার ৩০০ আসনের মধ্যে ২৯৭টির আনুষ্ঠানিক ফলাফল ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। চট্টগ্রাম-২ ও চট্টগ্রাম-৪ (সীতাকুণ্ড) আসনের ফলাফল ঘোষণা স্থগিত রাখা হয়েছে। নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, এই দুটি আসনের ফলাফল পরে ঘোষণা করা হবে। অন্য আরেকটি আসনের ফলাফল আগেই স্থগিত করা হয়।

ঘোষিত ২৯৭ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী পার্টি (বিএনপি) ও তার মিত্ররা পেয়েছে ২১২ আসন। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় নির্বাচনি ঐক্য পেয়েছে ৭৭ আসন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ একটি, স্বতন্ত্ররা পেয়েছে ৭টি আসনে জয়।

বিএনপি একক দল হিসেবে পেয়েছে ২০৯টি আসন, জামায়াতে ইসলামী ৬৮টি আসন, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ৬টি ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ২টি আসন। এছাড়া খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি–বিজেপি, গণসংহতি আন্দোলন ও গণঅধিকার পরিষদ প্রত্যেকে একটি করে আসন পেয়েছে। এ ফলাফলে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠন করতে যাচ্ছে বিএনপি।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারের পতনের পর এটিই দেশের প্রথম জাতীয় পর্যায়ের নির্বাচন। নিষেধাজ্ঞার কারণে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এ নির্বাচনে অংশ নেয়নি।

ফলাফলের এই চিত্র আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে ব্যাপকভাবে প্রচারিত হয়েছে। ভারতের গণমাধ্যম এনডিটিভির শিরোনামে বলেছে, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি বড় জয়ের পথে। একইভাবে এএনআই জানিয়েছে, ভোট গণনায় তারেক রহমানের নেতৃত্বের পক্ষেই জনমত স্পষ্ট। ভারতের দৈনিক দ্য হিন্দু লিখেছে, দুই দশক পর দলকে জয়ের পথে নেতৃত্ব দিয়েছেন তারেক রহমান। ডনের প্রতিবেদনে বলা হয়ছে, বড় জয়ের মাধ্যমে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার বার্তা দিয়েছে দলটি।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি ও রয়টার্স মূল সংবাদে বিএনপির জয়ের বিষয়টি তুলে ধরেছে। দ্য গার্ডিয়ান করেছে, হাসিনার পতনের পর প্রথম নির্বাচনে ঐতিহাসিক জয় পেয়েছে বিএনপি। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন এবং কাতারভিত্তিক আল জাজিরাও ফলাফলকে গুরুত্ব দিয়ে প্রকাশ করেছে। এভাবে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের নির্বাচন ঘিরে আগ্রহ স্পষ্টভাবে দেখা যায়।