অনলাইন ডেস্ক : যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শাসনামলে দেশটির পররাষ্ট্রনীতির তীব্র সমালোচনা করেছেন জার্মান প্রেসিডেন্ট ফ্রাংক-ওয়াল্টার স্টেইনমায়ার। একই সঙ্গে বিশ্বের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেছেন, বিশ্বব্যবস্থা ভেঙে তা যেন ‘‘ডাকাতদের আস্তানায়’’ পরিণত না হয়; সেই বিষয়ে সতর্ক থাকবেন। যাতে নৈতিকতা-বিবর্জিতরা যা খুশি দখল করে নিতে না পারে।
গত সপ্তাহে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে অপসারণের ঘটনার প্রতি ইঙ্গিত করে জামার্নির প্রেসিডেন্ট অস্বাভাবিক কঠোর ভাষায় এই মন্তব্য করেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। দেশটির সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও বর্তমান প্রেসিডেন্ট স্টেইনমায়ার বলেন, বিশ্বজুড়ে গণতন্ত্রের ওপর আগের যেকোনও সময়ের চেয়ে বড় আক্রমণ চলছে। এই ধরনের আক্রমণ আগে কখনও দেখা যায়নি।
জার্মানির প্রেসিডেন্টের পদটি অলঙ্কারিক হলেও স্টেইনমায়ারের বক্তব্যের ওজন রয়েছে এবং রাজনীতিবিদদের তুলনায় দেশটিতে মতপ্রকাশের ক্ষেত্রে অধিক স্বাধীনতা ভোগ করেন তিনি।
রাশিয়ার ক্রিমিয়া দখল এবং ইউক্রেনে পূর্ণমাত্রার আগ্রাসনকে একটি নজিরবিহীন ঘটনা হিসেবে বর্ণনা করে জার্মানির এই প্রেসিডেন্ট বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের আচরণ আরেকটি ঐতিহাসিক বিচ্ছেদের প্রতিনিধিত্ব করছে।
বুধবার গভীর রাতে এক সিম্পোজিয়ামে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, এরপর আসে আমাদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার যুক্তরাষ্ট্রের মূল্যবোধের ভাঙন; যে দেশটি এই বিশ্বব্যবস্থা গড়ে তুলতে সহায়তা করেছিল।
তিনি বলেন, ‘‘এটি বিশ্বকে ডাকাতদের আখড়ায় পরিণত না হতে দেওয়ার বিষয়—যেখানে সবচেয়ে নৈতিকতাহীনরা যা খুশি দখল করে নেয়; যেখানে অঞ্চল বা পুরো দেশকে কয়েকটি বৃহৎ শক্তির সম্পত্তির হিসেবে মনে করা হয়।’’
ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতিতে সক্রিয় হস্তক্ষেপ প্রয়োজন জানিয়ে ফ্রাংক-ওয়াল্টার স্টেইনমায়ার বলেন, ব্রাজিল ও ভারতের মতো দেশগুলোকে বিশ্বব্যবস্থা রক্ষায় রাজি করাতে হবে।
সূত্র: রয়টার্স, এএফপি।






