অনলাইন ডেস্ক : বিশ্বখ্যাত টাইম ম্যাগাজিনের ২০২৬ সালের বিশ্বের ১০০ প্রভাবশালী ব্যক্তির তালিকায় স্থান পেয়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এতে ‘লিডারস’ ক্যাটাগরিতে ১৬তম অবস্থানে রয়েছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী। প্রকাশিত এই মর্যাদাপূর্ণ তালিকায় ‘লিডারস’ বা নেতা ক্যাটাগরিতে তারেক রহমানের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক এ স্বীকৃতিকে বাংলাদেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার এবং সমৃদ্ধ আগামীর পথে এক ঐতিহাসিক মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে।
টাইম ম্যাগাজিন তাদের বিশেষ প্রতিবেদনে তারেক রহমানের দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রাম এবং দীর্ঘ নির্বাসন কাটিয়ে দেশে ফিরে রাষ্ট্র সংস্কারে তার দূরদর্শী পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করেছে। বিশেষ করে, গত ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বিপুল জনসমর্থন নিয়ে সরকার গঠনের পর মাত্র দুই মাসেরও কম সময়ে প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিশ্চিতকরণ এবং ‘ফামার্স কার্ড’র মতো জনকল্যাণমূলক উদ্যোগের প্রশংসা করা হয়েছে আন্তর্জাতিক মহলে। টাইমের এ স্বীকৃতি প্রমাণ করে, বাংলাদেশে গণতন্ত্রের প্রাতিষ্ঠানিক রূপদান এবং মানবাধিকার সুরক্ষায় তার নেওয়া পদক্ষেপগুলো বিশ্ববাসীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।
১০০ প্রভাবশালী তালিকায় আরও আছেন— গুগলের সিইও সুন্দর পিচাই, পোপ লিও চতুর্দশ, ভারতের অভিনেতা রণবীর কাপুর, অভিনেত্রী ডকোটা জনসন, ইরানের চলচ্চিত্র পরিচালক জাফর পানাহি, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও, ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু, নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি, ডোনাল্ড ট্রাম্প, শি জিনপিং প্রমুখ।
ম্যাগাজিনে তারেক রহমানকে নিয়ে মুখবন্ধটি লিখেছেন টাইমের সিঙ্গাপুর ব্যুরো অফিসের সম্পাদক ও ভূ-রাজনীতি বিশেষজ্ঞ চার্লি ক্যাম্পবেল। নিবন্ধে বলা হয়, কয়েক মাস আগেও তারেক রহমান দক্ষিণ-পশ্চিম লন্ডনের সবুজ-শ্যামল পরিবেশে এক নির্বাসিত ও চিন্তামুক্ত জীবন কাটাচ্ছিলেন। কিন্তু ২০২৪ সালে বাংলাদেশের স্বৈরাচারী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ক্ষমতাচ্যুতি ৫৭ বছর বয়সী এই উত্তরাধিকারীকে বিরোধী আন্দোলনকারী থেকে জাতীয় নেতার অপেক্ষমাণ রূপে পরিণত করে। স্বদেশ থেকে ১৭ বছর বিচ্ছিন্ন থাকার পর ফেব্রুয়ারিতে বিপুল ভোটে নির্বাচনী বিজয়ের মাধ্যমে তার এই ভাগ্য নির্ধারিত হয়।
এতে বলা হয়, এই বিজয়ের মাধ্যমে তারেক রহমান তার মা খালেদা জিয়ার পদাঙ্ক অনুসরণ করেন, যিনি ছিলেন বাংলাদেশের প্রথম মহিলা প্রধানমন্ত্রী। কিন্তু তার ঢাকায় ফেরার মাত্র পাঁচ দিন পরেই প্রয়াত হন তিনি। জানুয়ারিতে যখন রহমান টাইম-এর সঙ্গে কথা বলেন, তখনও তার শোক ছিল তীব্র। তবে তিনি এই শোককে তার ১৭৫ মিলিয়ন মানুষের দেশকে ঐক্যবদ্ধ করার কাজে লাগানোর এবং দক্ষিণ এশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতিকে পুনরায় সচল করার অঙ্গীকার করেন। বাংলাদেশ উচ্চ মুদ্রাস্ফীতি ও যুব বেকারত্বে জর্জরিত এবং আঞ্চলিক পরাশক্তি ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক এক ঐতিহাসিক সর্বনিম্ন পর্যায়ে পৌঁছেছে। এই সবকিছুরই দ্রুত প্রতিকার প্রয়োজন।
নিবন্ধে চার্লি ক্যাম্পবেল উল্লেখ করেন, ২০০০-এর দশকের দুর্নীতির অভিযোগগুলোর কারণে (যদিও পরে আদালত তা খারিজ করে দিয়েছে) তাদের সুসময় হয়তো অন্য যেকোনও সময়ের চেয়ে সংক্ষিপ্ত হবে। কিন্তু এত বছর লোকচক্ষুর অন্তরালে থাকার পর, তিনি আর সময় নষ্ট না করার জন্য দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। রহমান বলেন, আমাদের একসঙ্গে কাজ করতে হবে, ঐক্যবদ্ধ হতে হবে, যাতে মানুষ তাদের রাজনৈতিক অধিকার পেতে পারে।
