অনলাইন ডেস্ক : কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া ভেনেজুয়েলার বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন যেকোনও ধরনের সামরিক পদক্ষেপ ঠেকাতে সিনেটে প্রস্তাব উঠছে।বৃহস্পতিবার এই সংক্রান্ত একটি প্রস্তাব যুক্তরাষ্ট্রের সিনেট বিবেচনায় নিতে যাচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। প্রস্তাবটির সমর্থকরা বলেছেন, সিনেটে হাড্ডাহাড্ডি ভোটে এই প্রস্তাব পাস হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

কারাকাসে নাটকীয় এক সামরিক অভিযানে মার্কিন বাহিনী ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করার কয়েক দিনের মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটে এই ভোট অনুষ্ঠিত হচ্ছে। গত সেপ্টেম্বর থেকে ভেনেজুয়েলার উপকূলের কাছে নৌযানে হামলাসহ দেশটির ওপর ব্যাপক সামরিক চাপ বৃদ্ধি করেছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির সিনেটে মার্কিন প্রশাসনের বিরুদ্ধে একের পর এক যুদ্ধকালীন ক্ষমতায় লাগাম টানার প্রস্তাব তুলছেন কয়েকজন সিনেটর।

যদিও এর আগে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের রাজনৈতিক দল রিপাবলিকানের সিনেটররা ভেনেজুয়েলা ইস্যুতে তোলা একাধিক প্রস্তাব আটকে দিয়েছেন। তবে সর্বশেষ ভোটে ব্যবধান ছিল ৪৯-৫১; যেখানে ট্রাম্পের দলের দুই সিনেটর ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে নভেম্বরের একটি প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দেন। ওই সময় প্রশাসনের কর্মকর্তারা আইনপ্রণেতাদের বলেছিলেন, তারা ভেনেজুয়েলায় সরকার পরিবর্তন কিংবা দেশটির ভূখণ্ডে হামলার পরিকল্পনা করছেন না।

মাদুরো আটক হওয়ার পর কিছু আইনপ্রণেতা প্রশাসনের বিরুদ্ধে কংগ্রেসকে বিভ্রান্ত করার অভিযোগ তুলেছেন। ডেমোক্র্যাটরা প্রকাশ্যে এবং কিছু রিপাবলিকান আড়ালে থেকে এই অভিযোগ করেছেন।

ভোটের আগে এক সংবাদ সম্মেলনে প্রস্তাবটির সহ-উপস্থাপক কেন্টাকির রিপাবলিকান দলীয় সিনেটর র‌্যান্ড পল বলেন, ‘‘আজ আমি অন্তত দু’জন রিপাবলিকানের সঙ্গে কথা বলেছি, যারা আগে এই প্রস্তাবে ভোট দেননি; কিন্তু এবার বিষয়টি বিবেচনা করছেন।’’

তিনি বলেন, ‘‘আমি নিশ্চিত করে বলতে পারছি না, তারা কীভাবে ভোট দেবেন। তবে অন্তত দুজন ভাবছেন। আর তাদের কেউ কেউ প্রকাশ্যেই এ নিয়ে নিজেদের দ্বিধার কথা জানিয়েছেন।’’ পল এ সময় ভার্জিনিয়ার ডেমোক্র্যাট দলীয় সিনেটর টিম কেইনের পাশে দাঁড়িয়ে কথা বলেন, যিনি এই প্রস্তাবের আরেক নেতা।

পল ওই রিপাবলিকানদের নাম জানাননি। সিনেটে ট্রাম্পের দলের আসনসংখ্যা ৫৩, আর ডেমোক্র্যাটদের ৪৭।সিনেটে প্রস্তাবটি পাস হলে ‘ওয়ার পাওয়ারস’ ইস্যুতে চাপ দিয়ে আসা আইনপ্রণেতাদের জন্য এটি হবে এক গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য। তবে আইনে পরিণত হওয়ার জন্য প্রস্তাবটিকে রিপাবলিকান-নিয়ন্ত্রিত প্রতিনিধি পরিষদে পাস করাতে হবে। সেক্ষেত্রে ট্রাম্পের প্রত্যাশিত ভেটোও উতড়ে যেতে হবে। প্রস্তাবটিকে আইনে পরিণত করার জন্য উভয় কক্ষে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার প্রয়োজন হবে।

আইনপ্রণেতারা এসব বাধার কথা স্বীকার করলেও বলেছেন, কিছু রিপাবলিকান ভেনেজুয়েলায় দীর্ঘ ও ব্যয়বহুল সরকার পরিবর্তন অভিযানে জড়াতে অনিচ্ছার কথা জানাতে পারেন। বুধবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেছেন, তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাজেট ১ ট্রিলিয়ন ডলার থেকে বাড়িয়ে ১.৫ ট্রিলিয়ন ডলার করতে চান।

কেইন বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী কয়েক মাস ধরে ভেনেজুয়েলার নৌযানে হামলা চালিয়ে আসছে। তিনি ট্রাম্পের অতীতের এক বক্তব্যের কথাও স্মরণ করিয়ে দেন, যেখানে বলা হয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলা চালাবে। পাশাপাশি ভেনেজুয়েলার তেল জব্দের ঘটনাও তুলে ধরেন তিনি। কেইন বলেন, এটি কোনোভাবেই একটি সীমিত গ্রেপ্তার অভিযান নয়।

যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান অনুযায়ী, দীর্ঘমেয়াদি সামরিক অভিযান শুরু করার আগে যে কোনও প্রেসিডেন্টকে কংগ্রেসের অনুমোদন নিতে হয়।

যেসব সিনেটর ‘ওয়ার পাওয়ারস’ প্রস্তাবের বিরোধিতা করছেন তারা বলেছেন, মাদুরোকে আটক করার ঘটনাটি আইন প্রয়োগকারী সংস্থার অভিযান; সামরিক পদক্ষেপ নয়। মাদুরোর বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের আদালতে মাদক ও অস্ত্রসংক্রান্ত অভিযোগে বিচার চলছে, যেগুলোতে তিনি নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছেন। তারা বলেন, সর্বাধিনায়ক হিসেবে ট্রাম্প জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে প্রয়োজন মনে করলে সীমিত সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার অধিকার রাখেন।

সূত্র: রয়টার্স।