অনলাইন ডেস্ক : রান সম্প্রতি ভারত মহাসাগরের দিয়েগো গার্সিয়ায় অবস্থিত মার্কিন-ব্রিটিশ যৌথ সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। মার্কিন কর্মকর্তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে গতকাল শুক্রবার এ তথ্য জানিয়েছে দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল।
প্রতিবেদনে বলা হয়, তেহরান এই হামলার মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যের বাইরেও মার্কিন স্বার্থে আঘাত হানার সক্ষমতা প্রদর্শন করল। তবে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার আগেই ক্ষেপণাস্ত্রগুলো ব্যর্থ হয়েছে বলে ওয়াশিংটন দাবি করেছে।
প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ইরান ডিয়েগো গার্সিয়া ঘাঁটি লক্ষ্য করে দুটি মাঝারি পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছিল। এর মধ্যে একটি ক্ষেপণাস্ত্র মাঝআকাশে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে বিধ্বস্ত হয়। অন্য ক্ষেপণাস্ত্রটিকে মার্কিন নৌবাহিনীর একটি যুদ্ধজাহাজ থেকে ছোড়া ‘এসএম-৩’ ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছিল।
তবে মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগ এখন পর্যন্ত নিশ্চিত করতে পারেনি যে ক্ষেপণাস্ত্রটি সফলভাবে ধ্বংস করা সম্ভব হয়েছে কি না। এই হামলার সঠিক সময় সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানানো না হলেও এটি যে ইরান থেকে প্রায় ৪ হাজার কিলোমিটার দূরের কোনো লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার প্রথম প্রচেষ্টা, তা স্পষ্ট হয়েছে।
ভারত মহাসাগরের ব্রিটিশশাসিত চাগোস দ্বীপপুঞ্জের অংশ এই ডিয়েগো গার্সিয়া দ্বীপটি তেহরান থেকে প্রায় ৫ হাজার ২৫০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। এই কৌশলগত দ্বীপটি মার্কিন সামরিক বাহিনীর একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র, যেখান থেকে তারা বি-২, বি-১ এবং বি-৫২ এর মতো দূরপাল্লার বোমারু বিমান, পারমাণবিক সাবমেরিন এবং গাইডেড মিসাইল ডেস্ট্রয়ার পরিচালনা করে।
মার্কিন বাহিনী এই ঘাঁটিতে বোমারু বিমানসহ অন্যান্য সামরিক সরঞ্জাম মোতায়েন করে রেখেছে। এটি এশীয় অঞ্চলের কার্যক্রমের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র, যা আফগানিস্তান ও ইরাকে মার্কিন বিমান হামলার সময় ব্যবহৃত হয়েছিল।
১৯৬০-এর দশক থেকে চাগোস দ্বীপপুঞ্জ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখার পর সম্প্রতি ব্রিটেন তা মরিশাসের কাছে ফেরত দিয়েছে। তবে তারা এই দ্বীপপুঞ্জের বৃহত্তম দ্বীপ দিয়েগো গার্সিয়াতে সামরিক ঘাঁটির ইজারা বহাল রেখেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এ সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেছেন।






