অনলাইন ডেস্ক : ভারী তুষারপাত ও বরফাচ্ছন্ন আবহাওয়ার কারণে ইউরোপজুড়ে ব্যাপক ভ্রমণ বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। এমন আবহাওয়ার কারণে অন্তত ছয়জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ফ্রান্সের দুটি পৃথক অঞ্চলে পাঁচজন নিহত হয়েছেন। আর বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার রাজধানী সারায়েভোতে তুষারের ভারে গাছ ভেঙে পড়ে এক নারী নিহত হয়েছেন।

ইউরোপজুড়ে শত শত ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। এর ফলে প্যারিস ও আমস্টারডামের বিমানবন্দরগুলোতে হাজারো যাত্রী আটকা পড়েছেন। এই ভোগান্তি বুধবার পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

ফ্রান্সে কর্তৃপক্ষ জানায়, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় লঁদ এলাকায় বরফের কারণে দুটি পৃথক দুর্ঘটনায় তিনজন নিহত হন। এছাড়া প্যারিস অঞ্চলে আলাদা দুটি সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান আরো দুইজন। এর মধ্যে পূর্ব প্যারিসে একটি ভারী পণ্যবাহী যানবাহনের সঙ্গে সংঘর্ষে একজন নিহত হয়েছেন বলে পুলিশ জানিয়েছে।

অন্য ঘটনায়, এক ট্যাক্সিচালক তুষারপাতের কারণে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফুটপাতে ধাক্কা দেন এবং গাড়িটি মার্ন নদীতে পড়ে গেলে একজন নিহত হন।

বলকান অঞ্চলজুড়েও তুষারপাত ও ভারী বৃষ্টিপাত হয়েছে। বসনিয়ার রাজধানী সারায়েভোতে সোমবার ভেজা তুষারের ভারে গাছ ভেঙে পড়ে এক নারীর মৃত্যু হয় বলে পুলিশ জানিয়েছে।

ফ্রান্সের পরিবহনমন্ত্রী ফিলিপ তাবারো জানান, মঙ্গলবার রাত ও বুধবার দেশটিতে আরো তুষারপাতের আশঙ্কা রয়েছে। জনগণকে সড়কে যাতায়াত সীমিত রাখতে এবং সম্ভব হলে বাসা থেকে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

ফ্রান্সের জাতীয় আবহাওয়া সংস্থা জানিয়েছে, বুধবার তুষারপাত ও কালো বরফের আশঙ্কায় দেশটির ৩৮টি জেলা সতর্কতা জারির আওতায় আনা হবে। এরই মধ্যে দেশের বিভিন্ন এলাকায় বহু ট্রেন চলাচল বাতিল করা হয়েছে।

ফ্রান্সের কর্তৃপক্ষ জানায়, রানওয়ে থেকে তুষার পরিষ্কার করতে বুধবার সকাল কয়েক ঘণ্টার জন্য রুয়াসি-শার্ল দ্য গল বিমানবন্দরের ৪০ শতাংশ ফ্লাইট বাতিল করা হবে। একই সময়ে অরলি বিমানবন্দর তাদের প্রায় এক-চতুর্থাংশ ফ্লাইট বাতিলের পরিকল্পনা করেছে।

নেদারল্যান্ডসের আমস্টারডামের স্কিপহোল বিমানবন্দরে বুধবার ৪০০টির বেশি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে, ফলে ভ্রমণ পরিকল্পনায় ব্যাপক বিঘ্ন ঘটে। শত শত যাত্রী আটকা পড়েন, যাদের অনেকেই সংযোগ ফ্লাইটে উঠতে পারেননি। ফ্লাইট পুনরায় কবে চালু হবে-সে তথ্য জানতে এয়ারলাইনের কাউন্টারগুলোতে দীর্ঘ সারি দেখা যায়।

বাতিল হওয়া ফ্লাইটগুলোর বড় একটি অংশ পরিচালনা করছিল ডাচ এয়ারলাইন কেএলএম। সংস্থাটি জানায়, তাদের বিমানের বরফ গলানোর তরল প্রায় শেষ হয়ে গেছে। ‘চরম’ আবহাওয়া ও সরবরাহ জটিলতাকে এর জন্য দায়ী করা হয়। স্কিপহোল বিমানবন্দরে বহু যাত্রী দীর্ঘ অপেক্ষা ও তথ্য না পাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

আমস্টারডাম থেকে নরওয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা স্পেনের যাত্রী হাভিয়ের সেপুলভেদা রয়টার্সকে বলেন, বিমানবন্দরের পরিস্থিতি ছিল ‘অরাজক, অগ্রহণযোগ্য, হতাশাজনক, বিরক্তিকর এবং সম্পূর্ণভাবে অগ্রহণযোগ্য।’

তিনি জানান, মঙ্গলবার স্থানীয় সময় সকাল ৬টা ৩০ মিনিটে কেএলএম-এর সহায়তা ডেস্কে লাইনে দাঁড়ান। ছয় ঘণ্টা পরও তিনি লাইনের সামনের দিকে পৌঁছাতে পারেননি।

স্কিপহোল বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানায়, তাদের তুষার পরিষ্কারকারী দল সার্বক্ষণিক কাজ করছে এবং যাত্রীদের নিরাপদ যাত্রা নিশ্চিত করতে বিমানগুলো সতর্কতার সঙ্গে বরফমুক্ত করা হচ্ছে।

ডাচ সম্প্রচারমাধ্যম এনওএস জানায়, বুধবার স্কিপহোল বিমানবন্দর থেকে উড্ডয়নের জন্য নির্ধারিত আরও ৬০০টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে।

তীব্র তুষারপাতের কারণে রেল যোগাযোগেও বিঘ্ন ঘটে। মঙ্গলবার সকালে আইটি বিভ্রাটের কারণে নেদারল্যান্ডসে সব ট্রেন চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়। সকাল ৯টার পর কিছু ট্রেন চলাচল শুরু হলেও দিনভর সমস্যা অব্যাহত থাকে। আমস্টারডাম থেকে প্যারিসগামী ইউরোস্টার ট্রেনগুলো হয় বাতিল করা হয়, নয়তো বিলম্বে চলাচল করে।