অনলাইন ডেস্ক : ইসরায়েল ডিফেন্স ফোর্সেস (আইডিএফ) বর্তমানে বহুমুখী যুদ্ধের চাপে ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে বলে সতর্ক করেছেন দেশটির সামরিক নেতৃত্ব ও বিরোধী দলীয় নেতারা। সৈন্য সংকট এবং সুনির্দিষ্ট রণকৌশলের অভাবকে এই পরিস্থিতির প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে।
সম্প্রতি ইসরায়েলি গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, সেনাপ্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল এয়াল জামির নিরাপত্তা মন্ত্রিসভাকে জানিয়েছেন যে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে রয়েছে। সংরক্ষিত সেনারা ইতোমধ্যে পঞ্চম ও ষষ্ঠ দফা রোটেশনে কাজ করায় তারা চরম ক্লান্ত ও বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছেন। ফলে ক্রমবর্ধমান নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় সংখ্যক সেনা সদস্যের অভাব প্রকট হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বৃহস্পতিবার এক টেলিভিশন বিবৃতিতে সামরিক মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এফি দেফ্রিন জানিয়েছেন, বিভিন্ন সীমান্তে বিশেষ করে লেবানন, গাজা, পশ্চিম তীর ও সিরিয়ায় বাড়তি সেনার চাহিদা বেড়েছে। লেবানন সীমান্তে সামনের প্রতিরক্ষা বলয় শক্তিশালী করতে অতিরিক্ত আইডিএফ বাহিনীর প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করেন তিনি।
এদিকে সরকারের তীব্র সমালোচনা করে বিরোধী নেতা ইয়ার লাপিদ বলেছেন, আইডিএফকে সামর্থ্যের বাইরে ব্যবহার করা হচ্ছে। তিনি অভিযোগ করেন, সরকার কোনো স্পষ্ট কৌশল বা প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ছাড়াই সেনাবাহিনীকে বহুমুখী যুদ্ধে পাঠিয়েছে এবং আহত সেনাদের যুদ্ধক্ষেত্রে ফেলে রাখা হচ্ছে। পর্যাপ্ত সৈন্য না থাকায় সেনাবাহিনী তাদের লক্ষ্যপূরণে হিমশিম খাচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এই সংকট উত্তরণে লাপিদ আল্ট্রা-অর্থোডক্স হারেদি সম্প্রদায়কে বাধ্যতামূলকভাবে সেনাবাহিনীতে নিয়োগের দাবি তুলেছেন। ১৯৪৮ সালে ইসরায়েল প্রতিষ্ঠার পর থেকে তারা সামরিক সেবা থেকে অব্যাহতি পেয়ে আসলেও, বর্তমান পরিস্থিতিতে তাদের ড্রাফট বা নিয়োগ নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়েছেন তিনি। লাপিদ স্পষ্টভাবে বলেন, যারা এই নিয়োগ প্রক্রিয়া এড়াতে চাইবে তাদের সব ধরনের সরকারি অর্থায়ন বন্ধ করতে হবে এবং পলাতকদের খুঁজে বের করে সেনাবাহিনীতে যুক্ত করতে হবে।
উল্লেখ্য, ইসরায়েলে সামরিক সেবা বাধ্যতামূলক হলেও হারেদি সম্প্রদায়ের পূর্ণকালীন ধর্মীয় শিক্ষার্থীদের কার্যত এই নিয়ম থেকে ছাড় দেওয়া হয়। তবে বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে সেনাবাহিনীর সদস্য সংকট তীব্র হওয়ায় দেশটিতে এই নিয়ম পরিবর্তনের দাবি জোরালো হচ্ছে।






