Home আন্তর্জাতিক ভেনেজুয়েলায় মার্কিন হামলা, বিশ্বজুড়ে প্রতিক্রিয়া

ভেনেজুয়েলায় মার্কিন হামলা, বিশ্বজুড়ে প্রতিক্রিয়া

অনলাইন ডেস্ক : ইয়েমেন ও মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনার মধ্যেই ল্যাটিন আমেরিকায় এক অভাবনীয় সামরিক অভিযান চালিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র।  শনিবার (৩ জানুয়ারি) প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, মার্কিন বাহিনী ভেনেজুয়েলায় একটি ‘বড় ধরনের হামলা’ চালিয়েছে। ট্রাম্পের দাবি অনুযায়ী, এই বিশেষ অভিযানে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রীকে আটক করে দেশের বাইরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এই নাটকীয় ঘটনার পর ল্যাটিন আমেরিকার বিভিন্ন দেশ ও আন্তর্জাতিক মহল তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে।

মার্কিন ডেপুটি সেক্রেটারি অফ স্টেট ক্রিস্টোফার ল্যান্ডউ এক্সে এক পোস্টে এই ঘটনাকে ভেনেজুয়েলার জন্য এক ‘নতুন সূর্যোদয়’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি দাবি করেন, স্বৈরশাসক মাদুরোকে অবশেষে তার অপরাধের জন্য বিচারের মুখোমুখি হতে হবে। মার্কিন সিনেটর মাইক লি জানিয়েছেন, মাদুরো এখন যুক্তরাষ্ট্রের হেফাজতে আছেন এবং তার বিরুদ্ধে ফৌজদারি অপরাধে মামলা করা হবে। অন্যদিকে, মাদুরো সরকার এই ঘটনাকে স্বাধীন রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্বের ওপর ‘চরম সামরিক আগ্রাসন’ বলে নিন্দা জানিয়েছে।

এই অভিযানের পর পার্শ্ববর্তী দেশ কলম্বিয়া তাদের সীমান্তে সেনাবাহিনী মোতায়েন করেছে। দেশটির প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রো এই ঘটনাকে ল্যাটিন আমেরিকার ওপর হামলা হিসেবে উল্লেখ করেছেন। কিউবার প্রেসিডেন্ট মিগুয়েল দিয়াজ-কানেল একে ‘রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসবাদ’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। ইরান ও রাশিয়াও এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেছে, বাইরের হস্তক্ষেপ ছাড়াই ভেনেজুয়েলার জনগণের নিজেদের ভাগ্য নির্ধারণের অধিকার নিশ্চিত করতে হবে।

এদিকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্র নীতি বিষয়ক প্রধান কাজা ক্যালাস জানিয়েছেন, তারা পরিস্থিতির ওপর গভীর নজর রাখছেন। আন্তর্জাতিক আইন ও জাতিসংঘ সনদ মেনে চলার আহ্বান জানিয়ে তিনি সংযম প্রদর্শনের কথা বলেছেন। ইতালি ও স্পেনও এই ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি জানিয়েছেন, ভেনেজুয়েলায় বসবাসকারী প্রায় ১ লাখ ৬০ হাজার ইতালীয় নাগরিকের নিরাপত্তা নিয়ে তারা চিন্তিত।

ভেনেজুয়েলার বর্তমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতির মধ্যে মার্কিন এই হস্তক্ষেপ ল্যাটিন আমেরিকার দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সমীকরণকে ওলটপালট করে দিয়েছে। মাদুরোর অনুপস্থিতিতে দেশটি এখন এক বিশাল অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। ওয়াশিংটনের এই পদক্ষেপের ফলে অঞ্চলটিতে নতুন করে সশস্ত্র সংঘাত শুরু হবে কি না, তা নিয়ে বিশেষজ্ঞ মহলে নানা জল্পনা চলছে।

Exit mobile version