অনলাইন ডেস্ক : ভেনেজুয়েলায় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযান শেষ হয়েছে বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের রিপাবলিকান দলের সিনেটর মাইক লি। তিনি জানান, বামপন্থি নেতা ও ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করার পরই এই অভিযান সমাপ্ত করা হয়। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর সঙ্গে টেলিফোনে আলাপের পর সিনেটর লি এ তথ্য প্রকাশ করেন।
ইউটাহ অঙ্গরাজ্যের এই সিনেটর শনিবার (০৩ জানুয়ারি) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছেন, ‘পররাষ্ট্রমন্ত্রী রুবিও আশা প্রকাশ করেছেন যে, মাদুরো এখন যেহেতু যুক্তরাষ্ট্রের হেফাজতে রয়েছেন, তাই ভেনেজুয়েলায় আর কোনো সামরিক পদক্ষেপ নেয়া হবে না। যুক্তরাষ্ট্রে ফৌজদারি অপরাধের মামলায় তার বিচার করা হবে। আজ রাতে আমরা যে সামরিক অভিযান দেখেছি, তা মূলত এই গ্রেপ্তারি পরোয়ানা কার্যকর করতে চালানো হয়েছিল।
এর আগে শনিবার ভোরে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেন, ভেনেজুয়েলায় ‘বড় পরিসরের’ হামলা চালিয়ে দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রীকে আটক করে দেশ থেকে সরিয়ে নেয়া হয়েছে। তবে মাদুরোকে কীভাবে গ্রেপ্তার করা হয়েছে কিংবা তাকে কোথায় নেওয়া হয়েছে সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত কিছু জানাননি ট্রাম্প।
বিবিসির খবরে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র এর আগে মাদুরোকে গ্রেপ্তারের বিষয়ে তথ্য দেয়ার জন্য পুরস্কার ঘোষণা করেছিল। শুরুতে এ পুরস্কারের পরিমাণ ছিল দেড় কোটি ডলার, যা পরবর্তীতে বাড়িয়ে আড়াই কোটি ডলার এবং ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে এসে পাঁচ কোটি ডলারে উন্নীত করা হয়। ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, মাদুরো ‘কার্টেল দে লস সোলেস’ নামের একটি মাদক-সন্ত্রাসী সংগঠনের নেতা।
ভেনেজুয়েলা সরকার তাৎক্ষণিকভাবে মাদুরোকে যুক্তরাষ্ট্রে তুলে নেয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেনি। বরং দেশটির ভাইস প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ মাদুরোর বেঁচে থাকার প্রমাণ দাবি করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের হামলার পর রাজধানী কারাকাসে অন্তত দুটি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনায় বিকট বিস্ফোরণের খবর পাওয়া যায়। এর মধ্যে একটি হলো শহরের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত লা কারলোটা সামরিক বিমানঘাঁটি এবং অন্যটি ফুয়ের্তে তিউনা সামরিক ঘাঁটি, যেখানে মাদুরো দীর্ঘদিন ধরে অবস্থান করছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছিল।
ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন দীর্ঘদিন ধরেই মাদুরোকে একজন অপরাধী হিসেবে আখ্যা দিয়ে আসছে এবং তাকে যুক্তরাষ্ট্রের আইনে বিচারের আওতায় আনার চেষ্টা চালাচ্ছে। ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে, ২০২০ সালে নিউইয়র্কের সাউদার্ন ডিস্ট্রিক্ট আদালতে মাদুরোর বিরুদ্ধে কোকেন আমদানির ষড়যন্ত্রসহ একাধিক অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়।
পরবর্তীতে ২০২৫ সালের আগস্টে ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে ‘কার্টেল দে লস সোলেস’কে একটি বিদেশি সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে ঘোষণা করা হয়। এরপর মাদুরোকে ধরিয়ে দেওয়ার জন্য পুরস্কারের অঙ্ক আরও বাড়িয়ে পাঁচ কোটি ডলার নির্ধারণ করা হয়। ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি অনুযায়ী, মাদুরো ওই সংগঠনের শীর্ষ নেতা এবং যুক্তরাষ্ট্রে তাঁর বিরুদ্ধে মাদক-সন্ত্রাস, ষড়যন্ত্র ও সংশ্লিষ্ট ফৌজদারি অপরাধে বিচার চলবে।
যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাটর্নি জেনারেল পাম বন্ডি বলেছেন, ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো খুব শিগগিরই যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে, যুক্তরাষ্ট্রের আদালতেই ‘আমেরিকান বিচারব্যবস্থার পূর্ণ কঠোরতার’ মুখোমুখি হবেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেয়া এক বার্তায় বন্ডি জানান, মাদুরোর বিরুদ্ধে মাদক-সন্ত্রাসী ষড়যন্ত্র, কোকেন আমদানির ষড়যন্ত্র, মেশিনগান ও ধ্বংসাত্মক অস্ত্রের অবৈধ দখল এবং যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে এসব অস্ত্র দখলের ষড়যন্ত্রের অভিযোগে মামলা রয়েছে।
পাম বন্ডি এ অভিযানের জন্য প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, তারা মাদুরো ও তাঁর স্ত্রীকে গ্রেপ্তারের জন্য একটি ‘অবিশ্বাস্য ও অত্যন্ত সফল’ অভিযান পরিচালনা করেছে। তবে মাদুরো ও তার স্ত্রীর সুনির্দিষ্ট অবস্থান কোথায়, সে বিষয়ে স্পষ্ট তথ্য জানা যায়নি।
এক সংবাদ সম্মেলনে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেন, মাদুরোর সরকারকে ‘মাদক-সন্ত্রাসী গোষ্ঠী’ বলার পেছনে রাজনৈতিক বক্তব্য নয়, বরং নিউইয়র্কের সাউদার্ন ডিস্ট্রিক্টে গ্র্যান্ড জুরির সামনে উপস্থাপিত প্রমাণ রয়েছে। গ্র্যান্ড জুরি নথিপত্র পর্যালোচনা করে তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযুক্ত করেছে বলে জানান তিনি। সবশেষে, ট্রাম্প নিজ মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে লিখেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সহযোগিতায় মাদুরোকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং এ বিষয়ে শিগগিরই আরও বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হবে।
সূত্র: সিএনএন






