অনলাইন ডেস্ক : ভেনেজুয়েলার ভূখণ্ডে ঢুকে সামরিক অভিযান চালিয়ে দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে তার স্ত্রীসহ তুলে নিয়ে গেছে মার্কিন সেনাবাহিনী। পুরো অভিযানটাই শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত লাভ দেখেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ভেনেজুয়েলায় চালনো এ সামরিক অভিযানকে ‘টেলিভিশন শো’ দেখার মতো ‘চমকপ্রদ’ বলে বর্ণনা করেছেন তিনি।
শুধু তাই নয়, এখন ভেনেজুয়েলার নিয়ন্ত্রণ যুক্তরাষ্ট্রের হাতেই থাকবে বলে জানিয়েছেন ট্রাম্প। সেইসঙ্গে ভেনেজুয়েলার বিশাল তেলের ভাণ্ডার ব্যবহার করে তা অন্যান্য দেশে বিক্রি করার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।
ভেনেজুয়েলার মতো একটা স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্রে ঢুকে সরাসরি তার ক্ষমতায় থাবা বসানোর এমন ঘটনা অবাক করেছে বিশ্বকে। সমালোচকরা বলছেন, ভেনেজুয়েলায় মার্কিন এই হামলা আন্তর্জাতিক আইনের স্পষ্ট লঙ্ঘন।
এদিকে ভেনেজুয়েলায় সামরিক অভিযান পরিচালনা ও প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করার ঘটনায় ট্রাম্পকে ফোন করেছেন নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি। ফোনে তিনি সরাসরি বিরোধিতা করেছেন এমন সামরিক অভিযানের।
জোহরান মামদানি বলেছেন, ভেনেজুয়েলার সরকার পরিবর্তনের জন্য সামরিক অভিযান পরিচালনা ও প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল আইন ও আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করেছে মার্কিন বাহিনী।
তবে, টেলিফোনে মামদানি নিজের রাজনৈতিক অবস্থান স্পষ্ট করে মতামত জানানোর পর প্রতিক্রিয়ায় ট্রাম্প কী বলেছেন— তা জানা যায়নি।
শনিবার (৪ জানুয়ারি) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে পোস্ট করা এক বার্তায় এ প্রসঙ্গে মামদানি বলেন, আমাকে আজ (শনিবার) সকালে জানানো হয়েছে যে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো এবং তার স্ত্রীকে মার্কিন সেনাবাহিনী আটক করেছে এবং তাদেরকে এখানে, এই নিউইয়র্ক সিটির ফেডারেল হেফাজতে রাখা হবে। একতরফাভাবে কোনো সার্বভৌম জাতির ওপর হামলা করা যুদ্ধের শামিল এবং যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল এবং আন্তর্জাতিক আইনের গুরুতর লঙ্ঘন।
নিউইয়র্ক সিটির মেয়র আরও বলেন, সরকার পরিবর্তনের এই নির্লজ্জ প্রচেষ্টা শুধু বিদেশিদের ওপরেই প্রভাব ফেলে না; বরং এর সরাসরি প্রভাব পড়ে নিউইয়র্কের বাসিন্দাদের ওপর। লক্ষাধিক ভেনেজুয়েলান নিউইয়র্ক সিটিতে বসবাস করেন এবং তারা এই শহরকে নিজেদের বাড়ি মনে করেন। আমার মূল লক্ষ্য হলো নিউইয়র্কের প্রত্যেক বাসিন্দার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। আমার নেতৃত্বাধীন প্রশাসন সার্বিক পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক নজরদারির মধ্যে রাখবে এবং প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করবে।
শনিবার স্থানীয় সময় শেষ রাতে ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে হামলা চালিয়ে দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো এবং তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে আটক করে মার্কিন বিমান বাহিনী। ইতোমধ্যে তাদের যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে আসা হয়েছে। ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানান, মাত্র চার দিন আগে তিনি এ অভিযানের ব্যাপারে সবুজ সংকেত দিয়েছিলেন।






