Home আন্তর্জাতিক মারিওপোল এখন পৃথিবীর বুকে ‘নরক’

মারিওপোল এখন পৃথিবীর বুকে ‘নরক’

অনলাইন ডেস্ক : ইউক্রেনের মারিওপোল শহরের পরিস্থিতিকে পৃথিবীতে নরক হিসাবে বর্ণনা করা হয়েছে। দুই সপ্তাহের বেশি সময় শহরটি অবরোধ করে রেখেছে রুশ বাহিনী। সেখানে গোলাবর্ষণ অব্যাহত রয়েছে। শহরটিতে প্রচুর পরিমাণে রাশিয়ান বোমা হামলার কারণে প্রায় সব ভবনের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

মারিওপোলের ওপর আক্রমণ ক্রমাগত ছড়িয়ে পড়ে এবং এমনকি শহরের কেন্দ্রস্থলে পৌঁছেছে যেখানে প্রায় তিন লাখ বাসিন্দা খাদ্য ও বিদ্যুৎ ছাড়াই আশ্রয়কেন্দ্র এবং সেলারে আটকা পড়েছে। খবর বিবিসির।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে— ইউক্রেনের মারিওপোল শহরের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর ইউক্রেনীয় সেনাদের আত্মসমর্পণের প্রস্তাব দিয়েছে মস্কো। তা প্রত্যাখ্যান করে কিয়েভ বলেছে, শেষ সৈন্য বেঁচে থাকা পর্যন্ত লড়াই চলবে। শহরটিতে তাদের পরাজয় হলে সেটি হবে রাশিয়ার জন্য কৌশলগত বিজয়। সেখান থেকে ক্রিমিয়ায় সরাসরি যোগাযোগ করতে পারবেন রুশ সেনারা। মারিওপোলে আটকেপড়া বাসিন্দারা বলছেন, তাদের শহরটি এখন কার্যত পৃথিবীর বুকে এক নরক।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, মারিওপোল আজভ সাগরের তীরে ইউক্রেনের গুরুত্বপূর্ণ শহর। প্রথমত সেখানে পরাজয় হলে আজভ সাগরের সঙ্গে একেবারেই বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে ইউক্রেন। দ্বিতীয়ত এটি যুদ্ধে রাশিয়াকে শক্তিশালী অবস্থানে নিয়ে যাবে। ক্রিমিয়ায় পানি সরবরাহের যে খালের মুখে ইউক্রেন বাঁধ দিয়েছে, সেটি খুলে দিতে পারবে রাশিয়া। যে কারণে এই যুদ্ধে ইউক্রেনের পক্ষে থাকা দেশগুলোর নজর এখন মারিওপোলের দিকে।

ইউক্রেনের উপপ্রধানমন্ত্রীকে বরাত দিয়ে দেশটির সংবাদমাধ্যম ইউক্রোনিস্কা প্রাভদা বলেছে, আত্মসমর্পণ বা অস্ত্র সমর্পণের কোনো প্রশ্নই ওঠে না।

মারিওপোল শহরের মেয়রের এক উপদেষ্টা বিবিসিকে বলেন, নিরাপদে চলে যাওয়ার যে প্রতিশ্রুতি মস্কো দিয়েছে, তাতে বিশ্বাস করা যায় না। শেষ সৈন্য বেঁচে থাকা পর্যন্ত প্রতিরোধ চলবে।

আত্মসমর্পণের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যানের পর রাশিয়া হামলার তীব্রতা বাড়িয়েছে বলে জানিয়েছে বিবিসি। এখন মারিওপোল শহর ও সেখানে আটকেপড়া বাসিন্দাদের কপালে কী ঘটবে, তা নিয়ে গভীর আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। কারণ, শহরটিতে এখনও তিন লাখের মতো মানুষ রয়েছে।

মারিওপোলের মানবিক পরিস্থিতি বর্ণনা করতে গিয়ে সেখানকার এমপি ইয়ারোস্লাভ জেলেজনিয়াক বলেন, শহরটি এখন কার্যত পৃথিবীর বুকে এক টুকরো নরকের মতো। তিনি বলেন, পুরো শহরটি ঘিরে রয়েছে রুশ সেনারা। বিদ্যুৎ নেই, পানি সরবরাহ নেই। খাবার ও ওষুধের মজুত খুবই কম। মানুষ খাবার কষ্টে ভুগছে এবং রোগ ছড়িয়ে পড়ছে।

সূত্র: বিবিসি ও এএফপির।

Exit mobile version