অনলাইন ডেস্ক : যু্ক্তরাজ্যের দৈনিক দ্য গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সোমবার জুনিয়র ডাক্তাররা কর্মবিরতিতে যাওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত ব্রিটেনের বিভিন্ন হাসপাতালে কয়েক হাজার সার্জারির অপারেশন বাতিল করা হয়েছে। যে রোগীদের অপারেশন বাতিল হয়েছে, তারা এখনও জানেন না, কবে নাগাদ ফের মিলবে অপারেশনের শিডিউল।
সার্জারি বিভাগ ছাড়াও প্রায় অচলাবস্থা শুরু হয়েছে বিভিন্ন হাসপাতালের ইমার্জেন্সি, নিবিড় পরিচর্যা ও প্রসূতি বিভাগে। কারণ ডাক্তাররা জানিয়েছেন, ধর্মঘট চলাকালে হাসপাতালের কোনো বিভাগে কোনো প্রকার কাজ করবেন না তারা।
গত বছর শুরু হওয়া রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের জেরে রাশিয়ার জ্বালানি, বিশেষ করে গ্যাসের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে যুক্তরাজ্য। তারপর থেকেই দেশটিতে বাড়তে শুরু করেছে জ্বালানি ও বিদ্যুতের দাম। এসবের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে দেশটিতে ব্যাপক হারে বেড়েছে খাদ্যপণ্য ও আবাসনব্যয়ও।
অর্থনৈতিক এই সংকটের সবচেয়ে বড় ভুক্তভোগী সাধারণ চাকরিজীবী ও শ্রমজীবী জনগণ। ব্রিটেনের ট্রেড ইউনিয়ন নেতারা জানিয়েছেন, দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতির কারণে দেশটির অনেক মানুষ বর্তমানে তিন বেলা খাদ্যের সংস্থান করতে গিয়েও হিমশিম খাচ্ছেন।
এর আগে বেতন-ভাতা বৃদ্ধির দাবিতে ধর্মঘট করেছিলেন ব্রিটেনের রেলকর্মী ও হাসপাতালের নার্সরা। তাদের পথ অনুসরণ করেই শনিবার ধর্মঘটের ঘোষণা দেন ব্রিটেনের ডাক্তারদের দুই প্রভাবশালী সংগঠন ব্রিটিশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন (বিএমএ) এবং হসপিটাল কনসালটেন্টস অ্যান্ড স্পেশালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন (এইচসিএসএ)।
দুই সংগঠনের ঘোষণা অনুযায়ী, সোমবার সকাল ৭টা থেকে আগামী ৭২ ঘণ্টা ধর্মঘট পালন করবেন যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন হাসপাতালে কর্মরত সব জুনিয়র ডাক্তার।
ব্রিটিনের হাসপাতালগুলোতে আওতায় জুনিয়র ডাক্তররা নিয়োগ পান দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন ন্যাশনাল হেলথ স্কিম (এনএইচএস) প্রকল্পের আওতায় এবং সরকারি তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশটিতে কর্মরত জুনিয়র ডাক্তারদের সংখ্যা ৬১ হাজারেরও বেশি।
ব্রিটেনের স্বাস্থ্যমন্ত্রী স্টিভ বার্কলে ইতোমধ্যে ডাক্তারদের ধর্মঘট প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়েছেন, কিন্তু বিএমএ এবং এইচসিএসএ’র নেতারা তাদের কর্মসূচিতে অনড় আছেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ধর্মঘটে যাওয়ার আগে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক হয়েছিল বিএমএ এবং এইচসিএসএ নেতাদের। বৈঠকে সরকার জুনিয়র ডাক্তারদের বেতন বাড়ানোর পক্ষে অবস্থান নিলেও ডাক্তার নেতাদের দাবি অনুযায়ী বেতন বৃদ্ধিতে অপরাগতা জানিয়েছিলেন। নেতারা জুনিয়র ডাক্তারদের বেতন ২৬ শতাংশ বাড়ানোর দাবি জানিয়েছিলেন।
তবে ডাক্তারদের এই ধর্মঘটের কারণে রোগীদের চিকিৎসাসেবায় ব্যাঘাত সৃষ্টি হওয়ায় উদ্বেগে পড়েছে বিভিন্ন হাসপাতালের কর্তৃপক্ষ। লন্ডনের এক হাসপাতালের শীর্ষ নির্বাহী কর্মকর্তা দ্য গার্ডিয়ানকে এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘যে ব্যাপারটি নিয়ে আমরা সবচেয়ে বেশি উদ্বিগ্ন, (ধর্মঘটের কারণে) হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ডে ডাক্তারদের রাউন্ড কমে গেছে। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের পক্ষে ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে ঘুরে রাউন্ড দেওয়া সম্ভব নয়; আর যে কোনো হাসপাতালে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক থাকেন অল্প কয়েক জন। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা যদি মেডিকেল রাউন্ডে ব্যস্ত থাকেন, তাহলে তাদের কাজগুলো কে করবে?’
