অনলাইন ডেস্ক : যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সুইজারল্যান্ডের দাভোসে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের (ডব্লিউইএফ) বার্ষিক সম্মেলনে কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নিকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের বদান্যতা ও সহযোগিতার কারণেই কানাডা একটি দেশ হিসেবে টিকে আছে।
বুধবার (২১ জানুয়ারি) সম্মেলনে দেওয়া এক ভাষণে ট্রাম্প কানাডাকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘কানাডা যুক্তরাষ্ট্রের কারণেই বেঁচে আছে। মার্ক, পরের বার কোনো বিবৃতি দেওয়ার সময় বিষয়টি মনে রেখো’।
ট্রাম্পের এই আক্রমণাত্মক মন্তব্য মূলত এর আগের দিন কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির দেওয়া এক বক্তব্যের প্রতিক্রিয়া হিসেবে এসেছে, যেখানে কার্নি মার্কিন ‘আধিপত্যবাদের’ তীব্র সমালোচনা করেছিলেন। এনডিটিভি ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে এই দুই প্রতিবেশী দেশের শীর্ষ নেতার মধ্যকার নজিরবিহীন বাকযুদ্ধের তথ্য উঠে এসেছে।
ট্রাম্প তার বক্তব্যে দাবি করেন, কানাডা নিয়মিতভাবে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে অনেক কিছু ‘বিনা মূল্যে’ বা সুযোগ-সুবিধা হিসেবে পায় এবং এর জন্য তাদের কৃতজ্ঞ থাকা উচিত। তিনি বিরক্তি প্রকাশ করে বলেন, ‘কানাডা আমাদের কাছ থেকে অনেক সুবিধা পায়, কিন্তু তারা কৃতজ্ঞ নয়। গতকাল আমি আপনাদের প্রধানমন্ত্রীকে দেখেছি; তিনি খুব একটা কৃতজ্ঞ ছিলেন না। তাদের উচিত আমাদের প্রতি কৃতজ্ঞ থাকা’।
ট্রাম্প আরও উল্লেখ করেন, তার পরিকল্পিত ‘গোল্ডেন ডোম’ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কানাডাকেও সুরক্ষা প্রদান করবে। উল্লেখ্য, ট্রাম্প এর আগে বিভিন্ন সময়ে কানাডাকে যুক্তরাষ্ট্রের ৫১তম অঙ্গরাজ্য বানানোর ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন এবং কানাডার সাবেক প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডোকে উপহাস করে ‘কানাডার গভর্নর’ হিসেবে অভিহিত করেছিলেন।
এর আগে মঙ্গলবার দাভোসে দেওয়া ভাষণে কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছিলেন, বিশ্ব বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র-নেতৃত্বাধীন বৈশ্বিক ব্যবস্থার এক বিশাল ‘ফাটল’ বা ভাঙন প্রত্যক্ষ করছে। তিনি সরাসরি বলেন, ‘আমরা কেবল একটি পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছি না, বরং আমরা একটি ভাঙনের মাঝখানে আছি’।
কার্নি সতর্ক করে দেন যে কানাডার মতো মধ্যম শক্তির দেশগুলোর এখন নিজেদের মধ্যে সহযোগিতা বাড়ানো প্রয়োজন, কারণ ‘আপনি যদি আলোচনার টেবিলে না থাকেন, তবে আপনি খাবারের তালিকায় (মেনু) চলে যাবেন’। কার্নি আরও স্পষ্টভাবে গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে ট্রাম্পের আরোপিত শুল্কের বিরোধিতা করেন এবং গ্রিনল্যান্ডের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের সার্বভৌম অধিকারের প্রতি পূর্ণ সমর্থন ব্যক্ত করেন।
কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে এই উত্তেজনা এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, কানাডার প্রভাবশালী সংবাদপত্র ‘গ্লোব অ্যান্ড মেইল’ এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, মার্কিন আগ্রাসন বা আক্রমণ মোকাবিলায় কানাডার সামরিক বাহিনী ইতিমধ্যে একটি সম্ভাব্য পাল্টা ব্যবস্থার মডেল তৈরি করেছে।
যদিও সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ট্রাম্পের কানাডা দখলের আলোচনা কিছুটা স্তিমিত হয়েছিল, তবে সম্প্রতি তিনি তার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কানাডা ও ভেনেজুয়েলাকে মার্কিন পতাকায় ঢাকা একটি মানচিত্র পোস্ট করে পুনরায় উত্তেজনা উসকে দিয়েছেন। দাভোসের এই ৫৬তম বার্ষিক সম্মেলনে দুই নেতার এই পাল্টাপাল্টি অবস্থান উত্তর আমেরিকার ভূ-রাজনীতিতে এক অস্থির পরিস্থিতির ইঙ্গিত দিচ্ছে।
সূত্র: এনডিটিভি






