অনলাইন ডেস্ক : ইউক্রেন যুদ্ধে রাসায়নিক অস্ত্রের হামলা চালালে রাশিয়ার পরিণতি হবে ভয়াবহ। আর বেইজিং তাদের অস্ত্র দিয়ে কোনো সহায়তা করলে একই পরিণতি ভোগ করতে হবে চীনেরও। শুধু তাই নয়, মস্কোকে কোণঠাসা করতে আরও কঠোর নিষেধাজ্ঞা দিতেও প্রস্তুত পশ্চিমা বিশ্ব।
রাশিয়াকে ঠেকাতে বৃহস্পতিবার (২৪ মার্চ) বেলজিয়ামের রাজধানী ব্রাসেলসে ন্যাটোর জরুরি সম্মেলনে যোগ দিয়ে এমন হুঁশিয়ারি দিয়েছেন পশ্চিমা নেতারা। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ইউরোপের পূর্বাঞ্চলে ৪০ হাজার সেনা মোতায়েনের পাশাপাশি ইউক্রেনের সামরিক সক্ষমতা জোরদারেও সম্মত হয়েছেন বিশ্বনেতারা।
ন্যাটোর সম্মেলনে যোগ দিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন বলেছেন, ইউক্রেন যুদ্ধে রাসায়নিক অস্ত্রের ব্যবহার করলে যুক্তরাষ্ট্র এর কড়া জবাব দেবে। শুধু তাই নয়, মস্কোকে এ বিষয়ে বেইজিং অস্ত্রশস্ত্র দিয়ে কোনো সহায়তা করলে চীনের পরিণতিও ভয়াবহ হবে বলে ফের কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
এ সম্মেলনে জার্মান চ্যান্সেলর ওলাফ শলজ, ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ, ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন, কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডোসহ ন্যাটোর শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন। যুদ্ধের মধ্যেই প্রতিরক্ষাব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করতে ইউরোপের পূর্বাঞ্চলে ৪০ হাজার সেনা মোতায়েনের ঘোষণা দেয় ন্যাটো। স্লোভাকিয়া, হাঙ্গেরি, বুলগেরিয়া ও রোমানিয়ায় চারটি যুদ্ধদল পাঠানোর কথা জানিয়েছেন ন্যাটো মহাসচিব জেনস স্টোলটেনবার্গ।
তিনি বলেন, জৈব ও রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহারের দোহাই দিয়ে ইউক্রেন ও যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করার চেষ্টা করছে রাশিয়া। এর আগেও তাদের আমরা এ ধরনের দোষারোপ করতে দেখেছি। ন্যাটো মিত্রদের বিরুদ্ধে তারা (মস্কো) যে অভিযোগ আনছে তা পুরোপুরি মিথ্যা।
এদিকে ইউক্রেনকে যুক্তরাজ্যের ছয় হাজার ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে সহায়তার ঘোষণায় আরও উত্তপ্ত বিশ্ব রাজনৈতিক অঙ্গন। এমন পরিস্থিতিতে ব্রিটিশ প্রেসিডেন্ট বরিস জনসনকে ‘সবচেয়ে সক্রিয় রুশবিরোধী বিশ্বনেতা’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে ক্রেমলিন। এরপর সুর পাল্টে কিছুটা নমনীয় গলায় বরিস বললেন, ঠিক রাশিয়া বা রুশ জনগণের বিপক্ষে নয়, শুধু ইউক্রেন-ইস্যুতে পুতিনের কর্মকাণ্ডের বিরোধিতা করছে ব্রিটেন।
এমন পরিস্থিতে রাশিয়ার গতি ঠিক কোনদিকে এগোবে তা হয়তো বলে দিতে পারেন শুধু রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনই। যুদ্ধ বন্ধে জাতিসংঘ ও বিশ্ব সম্প্রদায়ের আহ্বান তোয়াক্কা না করে গত এক মাস ধরে কিয়েভসহ ইউক্রেনের বিভিন্ন শহরে অব্যাহত রয়েছে রুশ বিমান হামলা ও গোলাবর্ষণ।






