Home আন্তর্জাতিক লিবিয়া উপকূলে অভিবাসীবাহী নৌকা ডুবে নিহত অন্তত ৫৩

লিবিয়া উপকূলে অভিবাসীবাহী নৌকা ডুবে নিহত অন্তত ৫৩

অনলাইন ডেস্ক : উত্তর আফ্রিকার দেশ লিবিয়ার উপকূলে অভিবাসীদের বহনকারী রাবারের একটি নৌকা উল্টে অন্তত ৫৫ জন নিহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে দুই শিশুও রয়েছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘের অভিবাসনবিষয়ক সংস্থা আইওএম। সোমবার ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

এতে বলা হয়েছে, নৌকার মাত্র দু’জন নারী যাত্রী বেঁচে গেছেন বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম)। তারা দু’জনই নাইজেরিয়ার নাগরিক। শুক্রবার লিবিয়ার কর্তৃপক্ষ তাদের উদ্ধার করেছে। আইওএম বলেছে, নৌকাটিতে আফ্রিকার বিভিন্ন দেশের অভিবাসী ও শরণার্থীরাও ছিলেন।

উত্তর-পশ্চিম লিবিয়ার উপকূলীয় শহর আল-জাওইয়া থেকে যাত্রা শুরুর প্রায় ছয় ঘণ্টা পর নৌকাটিতে পানি ঢুকে সেটি ডুবে যায়। আইওএম বলেছে, চলতি বছরের এখন পর্যন্ত লিবিয়া থেকে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিতে গিয়ে প্রায় ৫০০ অভিবাসী নিহত কিংবা নিখোঁজ হয়েছেন।

লিবিয়ার দীর্ঘদিনের শাসক মুয়াম্মার গাদ্দাফি ২০১১ সালে নিহত হওয়ার পর থেকে ইউরোপে পৌঁছানোর আশায় সাব-সাহারান আফ্রিকা থেকে আসা অভিবাসীদের জন্য লিবিয়া প্রধান প্রস্থান কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।

বেঁচে যাওয়া অভিবাসীরা আইওএমকে বলেছেন, স্থানীয় সময় রাত প্রায় ১১টার দিকে ত্রিপোলির পশ্চিমের আল-জাওইয়া থেকে রাবারের নৌকাটি ছেড়ে যায়। কয়েক ঘণ্টা পর শুক্রবার ভোরে জুওয়ারার উত্তরে নৌকাটি উল্টে যায়।

তবে এই দুর্ঘটনার তথ্য পেতে এত দেরি কেন হলো, তাৎক্ষণিকভাবে তা স্পষ্ট হওয়া যায়নি।

আইওএম বলেছে, দুই জীবিত নারীর একজন জানিয়েছেন, তিনি স্বামীকে হারিয়েছেন। অন্যজন বলেছেন, তার দুই শিশুই মারা গেছে। আইওএমের উদ্ধারকারী দলের সদস্যরা দু’জনকেই জরুরি চিকিৎসা সহায়তা দিয়েছে।

আন্তর্জাতিক এই অভিবাসন সংস্থা বলেছে, কেবল গত জানুয়ারিতেই মধ্য-ভূমধ্যসাগরে ভয়াবহ শীতকালীন আবহাওয়ার মাঝে একের পর এক নৌকাডুবির ঘটনায় অন্তত ৩৭৫ অভিবাসী নিহত কিংবা নিখোঁজ হয়েছেন। প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

বারবার এমন মর্মান্তিক ঘটনার পরও অভিবাসীরা এই বিপজ্জনক যাত্রার চেষ্টা করে যাচ্ছেন। লিবিয়ায় অভিবাসীদের অবস্থা যে অত্যন্ত ভয়াবহ, তা ব্যাপকভাবে নথিভুক্ত হয়েছে। জাতিসংঘের মানবাধিকার কর্মীরা রাষ্ট্রীয় ও অরাষ্ট্রীয় বিভিন্ন পক্ষ—বিশেষ করে মিলিশিয়া গোষ্ঠীগুলোর হাতে নির্যাতন, মানবপাচার, জোরপূর্বক শ্রম, চাঁদাবাজি ও অন্যান্য নির্যাতনের বিষয়ে সতর্ক করে আসছেন।

আইওএম বলেছে, পাচারকারী ও চোরাকারবারি বিভিন্ন চক্র অতিরিক্ত যাত্রী বোঝাই ও সমুদ্রপথে যাত্রার অনুপযোগী নৌকায় মানুষ তুলে দিয়ে মুনাফা লুটছে। এর ফলে মৃত্যুর সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে।

সংস্থাটি সমুদ্রপথে মৃত্যুর সংখ্যা কমাতে পাচার ও চোরাচালান চক্র ভেঙে দেওয়ার জন্য আরও শক্তিশালী আন্তর্জাতিক সহযোগিতার আহ্বান জানিয়েছে। পাশাপাশি নিরাপদ ও বৈধ অভিবাসনের পথ তৈরির ওপরও জোর দিয়েছে।

সূত্র: বিবিসি।

Exit mobile version