অনলাইন ডেস্ক : সেনাবাহিনীতে ক্লান্তি ও অবসাদের খবরের মধ্যেই নতুন করে তৃতীয় রণাঙ্গনের (থার্ড ফ্রন্ট) ঝুঁকিতে পড়েছে ইসরায়েল। দেশটির সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, সম্প্রতি ইয়েমেন থেকে ছোড়া একটি ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত করা হয়েছে। তবে সেটিকে ইসরায়েলি সীমান্তের বাইরেই ভূপাতিত করা সম্ভব হয়েছে বলে দাবি করেছে তেল আবিব।
শনিবার (২৮ মার্চ) এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানিয়েছে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা।
ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমগুলোর তথ্যমতে, বর্তমান যুদ্ধে এই প্রথম ইয়েমেন সরাসরি যুক্ত হলো। এর আগে গাজা যুদ্ধ চলাকালে ফিলিস্তিনিদের সমর্থনে এবং ইসরায়েলের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে ইয়েমেন থেকে নিয়মিত ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হতো। তবে ২০২৫ সালের অক্টোবর মাসে একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তির পর সেই হামলাগুলো বন্ধ হয়ে গিয়েছিল।
বিশ্লেষকরা বলছেন, বর্তমান এই উত্তেজনা ইসরায়েলের জন্য কার্যত তৃতীয় একটি যুদ্ধক্ষেত্র খুলে দিচ্ছে। একদিকে ইরানের সঙ্গে সরাসরি সংঘাত এবং অন্যদিকে দক্ষিণ লেবাননে হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে অভিযান চলার মধ্যেই ইয়েমেনের এই সক্রিয়তা নতুন সমীকরণ তৈরি করছে।
সাবেক ইসরায়েলি সামরিক কর্মকর্তাদের মতে, এটি মূলত হুতি গোষ্ঠীর একটি কৌশল। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান পর্দার আড়ালের আলোচনায় ইরানের অবস্থানকে শক্তিশালী করতেই তারা ইসরায়েলের ওপর এই নতুন চাপ সৃষ্টি করছে।
এদিকে এমন এক সময়ে এই উত্তেজনা ছড়াচ্ছে, যখন ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ জনমত দক্ষিণ লেবানন নিয়ে সরকারের সমরকৌশলের কঠোর সমালোচনা করছে। খোদ ইসরায়েলি সেনাপ্রধানও সেনাবাহিনীর মধ্যে তৈরি হওয়া ‘ক্লান্তি’ বা অবসাদ নিয়ে ‘রেড ফ্ল্যাগ’ বা চরম উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, এমনিতেই চাপে থাকা ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর জন্য দক্ষিণ লেবাননের বড় অংশে স্থল অভিযান চালানো কিংবা এলাকাটি দখলে রাখা অত্যন্ত ব্যয়বহুল ও ঝুঁকিপূর্ণ প্রমাণিত হতে পারে। শেষ পর্যন্ত এই বহুমুখী সংঘাত ইসরায়েলকে কতটা বিপর্যয়ের মুখে ফেলে, এখন সেটাই দেখার বিষয়।






