অনলাইন ডেস্ক : বিশ্বের অন্যতম প্রধান সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাহরাইনের আনা একটি খসড়া প্রস্তাবের ওপর ভোটাভুটি করতে যাচ্ছে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ। তবে এই প্রস্তাবে সামরিক শক্তি ব্যবহারের বৈধতা দেওয়ার বিষয়ে কড়া আপত্তি জানিয়েছে ভেটো প্রদানের ক্ষমতা সম্পন্ন দেশ চীন। শুক্রবার (৩ এপ্রিল) কূটনৈতিক সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
কূটনীতিকরা জানিয়েছেন, ১৫ সদস্যের নিরাপত্তা পরিষদের এই বৈঠক ও ভোটাভুটি শুক্রবার হওয়ার কথা থাকলেও জাতিসংঘের ছুটির কারণে তা পিছিয়ে শনিবার সকালে নির্ধারণ করা হয়েছে। রয়টার্সের দেখা খসড়া প্রস্তাব অনুযায়ী, বর্তমানে নিরাপত্তা পরিষদের সভাপতিত্ব করা বাহরাইন বাণিজ্যিক জাহাজ রক্ষায় প্রয়োজনীয় সকল প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা গ্রহণের অনুমোদনের দাবি জানিয়েছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে সংঘাত শুরুর পর থেকে বিশ্ববাজারে তেলের দাম আকাশচুম্বী হয়েছে। এক মাসেরও বেশি সময় ধরে চলা এই যুদ্ধের কারণে গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথটি কার্যত বন্ধ রয়েছে। বাহরাইন ও যুক্তরাষ্ট্র এই প্রস্তাবের পক্ষে থাকলেও রাশিয়া ও চীনের আপত্তি কাটাতে প্রস্তাবে সরাসরি ‘বাধ্যতামূলক প্রয়োগ’ শব্দটি বাদ দেওয়া হয়েছে। তা সত্ত্বেও বৃহস্পতিবার চীনের দূত ফু কং স্পষ্টভাবে সামরিক শক্তি ব্যবহারের বিরোধিতা করেন। তিনি বলেন, এ ধরনের পদক্ষেপ পরিস্থিতিকে আরও অবনতির দিকে ঠেলে দেবে।
এর আগে বাহরাইনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্দুল লতিফ বিন রশিদ আল জায়ানি পরিষদকে জানান, হরমুজ প্রণালীতে ইরানের ‘অবৈধ ও অযৌক্তিক’ নিয়ন্ত্রণ বৈশ্বিক স্বার্থকে হুমকির মুখে ফেলেছে এবং এর জন্য একটি ‘চূড়ান্ত জবাব’ প্রয়োজন। আরব লীগ এবং ব্রিটেনও বাহরাইনের এই উদ্যোগকে সমর্থন জানিয়েছে।
এদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত বুধবার হামলা অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিলেও প্রণালীটি পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা দেননি। এর ফলে তেলের বাজারে অস্থিরতা আরও বেড়েছে, কারণ ব্যবসায়ীদের মধ্যে শঙ্কা তৈরি হয়েছে যে যুক্তরাষ্ট্র হয়তো এই নৌপথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বড় কোনো ভূমিকা পালন করবে না।






