অনলাইন ডেস্ক : মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উপস্থিতি জোরদার করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মাত্র একদিনের ব্যবধানে অঞ্চলটিতে ৫০টিরও বেশি যুদ্ধবিমান মোতায়েন করা হয়েছে বলে জানিয়েছে বিভিন্ন ফ্লাইট ট্র্যাকিং সংস্থা। গতকাল বুধবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) প্রকাশিত এসব তথ্য আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা সৃষ্টি করেছে।
এই সামরিক পদক্ষেপের সময়টি বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে আবারও বৈঠকে বসতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। কূটনৈতিক আলোচনার প্রাক্কালে এমন বড় আকারের সামরিক মোতায়েনকে অনেকেই কৌশলগত বার্তা হিসেবে দেখছেন।
মধ্যপ্রাচ্যে পাঠানো যুদ্ধবিমানগুলোর মধ্যে রয়েছে অত্যাধুনিক এফ-টোয়েন্টি টু র্যাপটর, এফ-থার্টি ফাইভ লাইটনিং টু এবং এফ-সিক্সটিন ফাইটিং ফ্যালকন। এসব যুদ্ধবিমানের সঙ্গে একাধিক রিফুয়েলার বিমানও নেওয়া হয়েছে, যেগুলো মাঝআকাশে সাধারণ ও সামরিক উড়োজাহাজে জ্বালানি সরবরাহ করতে সক্ষম। ফলে দীর্ঘ সময় আকাশে টহল ও অভিযান পরিচালনা করা সম্ভব হয়।
সংবাদমাধ্যম এক্সিওস–কে এক মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, গত ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই ৫০টির বেশি যুদ্ধবিমান ওই অঞ্চলে আনা হয়েছে। যদিও এ মোতায়েনের সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য বা সময়সীমা সম্পর্কে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।
এর আগে মধ্যপ্রাচ্যে বিমানবাহী রণতরীসহ বিভিন্ন যুদ্ধজাহাজের বড় বহর জড়ো করেছিল মার্কিন সামরিক বাহিনী। সেই নৌ-সামরিক উপস্থিতির সঙ্গে এবার যুক্ত হলো বিপুল সংখ্যক যুদ্ধবিমান। ফলে অঞ্চলটিতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সক্ষমতা আরও দৃশ্যমানভাবে বৃদ্ধি পেল।
প্রসঙ্গত, গত জানুয়ারিতে ইরানে ব্যাপক সরকারবিরোধী বিক্ষোভ শুরু হয়, যা পরে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী কঠোরভাবে দমন করে। বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে মারণাস্ত্র ব্যবহারের অভিযোগকে সামনে রেখে ইরানের চারপাশে সামরিক প্রস্তুতি জোরদার করছে যুক্তরাষ্ট্র। সাম্প্রতিক যুদ্ধবিমান মোতায়েন সেই বৃহত্তর সামরিক কৌশলের অংশ বলেই মনে করা হচ্ছে।
তথ্যসূত্র : এক্সিওস, টাইমস অব ইসরায়েল
